তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : টলিপাড়ার (Tollywood) তারকা দম্পতি সৌরভ দাস (Sourav Das) ও দর্শনা বণিক (Darshana Banik) -এর দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী। তারকাদের ঝলমলে জীবনের আড়ালে সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভুল বোঝাবুঝি আর সামাজিক চাপ যে কতটা গভীর, সে কথা এ দিন অকপটে স্বীকার করলেন দু’জনেই। বিশেষ করে সমাজমাধ্যমের (Social Media) প্রভাব নিয়ে দর্শনার এক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিনেত্রীর সাফ কথা, ‘সমাজমাধ্যমে যদি মন্তব্যবাক্স না থাকত, তা হলে অনেকের সংসার বেঁচে যেত।’ বিয়ের দ্বিতীয় জন্মদিনটাকে অত্যন্ত সাধারণ ভাবেই কাটিয়েছেন সৌরভ ও দর্শনা। সকাল থেকে দু’জনে একসঙ্গে সময় কাটানো, দুপুরে চিনে খাবার আর রাতে ক্রিকেট ম্যাচ, এই ছিল তাঁদের উদ্যাপনের পরিকল্পনা।
কোনও জমকালো পার্টি নয়, কোনও সোশ্যাল মিডিয়া শো-অফ নয়। নিজেদের মতো করে সময় কাটানোর মধ্যেই তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন সম্পর্কের আসল মানে। একটি বিশেষ সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারকা দম্পতি জানান, ব্যস্ত শুটিংয়ের মাঝেও একে অপরের জন্য সময় বের করাটাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় সেলিব্রেশন।

এই প্রজন্মের অনেক দম্পতি যেখানে বিয়ের এক বছর কাটলেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন, সেখানে সৌরভ-দর্শনা যেন একটু আলাদা। দু’জনেই একই পেশার মানুষ, অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত। ফলে কাজের চাপ, অনিশ্চয়তা, সমালোচনা সব কিছুই তাঁদের নিত্যসঙ্গী। তবু এই পথচলায় তাঁরা একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছেন বন্ধু হয়ে। যাঁরা নতুন করে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন, তাঁদের জন্য কী পরামর্শ দেবেন- এই প্রশ্নে সৌরভ ও দর্শনার উত্তর একেবারেই এক সুরে। দু’জনেই বললেন, ‘সম্পর্কে সবচেয়ে জরুরি হল স্বাধীনতা।’ দর্শনার কথায়, তিনি কী পোশাক পরবেন, কোন চরিত্রে অভিনয় করবেন বা কোন কাজ নেবেন, এই সব সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নেন। সৌরভ কখনও তাতে হস্তক্ষেপ করেন না। অভিনেত্রীর মতে, ‘এই স্বাধীনতাটাই আমাদের সম্পর্কের শক্তি।’ অন্যদিকে, সৌরভও স্পষ্ট করে জানান, দর্শনা তাঁকে সমান স্বাধীনতা দেন। ‘ও জানে, আমি অনেক কষ্ট করে আজকের জায়গায় পৌঁছেছি। তাই আমার কাজের সিদ্ধান্তে কখনও বাধা দেয় না,’ বলেন অভিনেতা। এই পারস্পরিক বিশ্বাস আর সম্মানই তাঁদের দাম্পত্যের ভিত বলে মনে করেন দু’জনেই।
একই পেশায় থাকার সুফল নিয়েও হাসিমুখে কথা বলেন দর্শনা বণিক (Darshana Banik)। অভিনেত্রীর মতে, দু’জনের কাজের ধরন এক হওয়ায় অনেক সমস্যাই সহজে বোঝা যায়। ‘আমাদের অনেক ইচ্ছে থাকে। কিন্তু কাজের জন্য সব ইচ্ছে পূরণ করা যায় না। একই পেশার হওয়ার কারণে আমরা এটা বুঝতে পারি,’ বলেন তিনি। তাই কোনও পারিবারিক অনুষ্ঠান বা ব্যক্তিগত মুহূর্তে কেউ একজন উপস্থিত থাকতে না পারলে অন্যজন মনখারাপ করেন না। পরিস্থিতি বুঝে পাশে দাঁড়ান। তবে এই সব ইতিবাচক দিকের মাঝেও দাম্পত্যে ফাটল ধরার অন্যতম কারণ হিসেবে সৌরভ-দর্শনা দায়ী করেছেন সমাজমাধ্যমকে। সৌরভ দাস (Sourav Das) -এর মতে, এখন সবার হাতে স্মার্টফোন। যে কেউ যে কোনও বিষয়ে মন্তব্য করে ফেলছেন। সেই মন্তব্য সব সময় ভালো হয় না, অনেক সময় তা কটূক্তি বা ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত হয়। ‘সব মন্তব্য সবার সহ্য হয় না,’ বলেন সৌরভ। তাই তিনি স্ত্রী দর্শনাকে প্রায়ই সমাজমাধ্যমের মন্তব্য না পড়ার পরামর্শ দেন। এই প্রসঙ্গেই দর্শনার মন্তব্য সবচেয়ে বেশি আলোড়ন ফেলেছে। অভিনেত্রীর সোজাসাপ্টা বক্তব্য, ‘সমাজমাধ্যমে যদি মন্তব্যবাক্স না থাকত, তা হলে অনেক সংসার বেঁচে যেত।’ তাঁর মতে, অযথা মন্তব্য, ট্রোলিং আর তুলনা অনেক সম্পর্কের মধ্যে সন্দেহ আর দূরত্ব তৈরি করে। বিশেষ করে তারকাদের ক্ষেত্রে এই চাপ আরও বেশি। দর্শনার কথায়, সম্পর্কের ভিত মজবুত না হলে সমাজমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব দাম্পত্যকে ভেঙে দিতে পারে।সৌরভ-দর্শনার এই মন্তব্য শুধু তারকাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ দম্পতিরাও আজ সমাজমাধ্যমের তুলনা, কটূক্তি আর ‘পারফেক্ট কাপল’ ইমেজের চাপে ভুগছেন। সেই জায়গা থেকেই এই তারকা দম্পতির বক্তব্য অনেকের কাছেই বাস্তবের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকীর দিনে তাঁদের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি যেন সম্পর্কের এক নতুন সংজ্ঞা তুলে ধরল, যেখানে ভালবাসার পাশাপাশি স্বাধীনতা, বোঝাপড়া আর সমাজমাধ্যম থেকে সচেতন দূরত্বই দাম্পত্যের আসল চাবিকাঠি।
ছবি : সংগৃহীত




