BJP National Working President | বিজেপিতে নতুন সমীকরণ: সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতির দায়িত্বে নিতিন নবীন, জল্পনা তুঙ্গে সভাপতি পদ ঘিরে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: ভারতীয় জনতা পার্টির (Bharatiya Janata Party) শীর্ষ নেতৃত্বে বড়সড় সাংগঠনিক ঘোষণা। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি (BJP National President) কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে জল্পনা চলছিল, তার মধ্যেই রবিবার দলের সংসদীয় বোর্ড গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল। বিজেপির সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি (BJP National Working President) হিসেবে দায়িত্ব পেলেন বিহারের প্রভাবশালী নেতা ও বর্তমান ক্যাবিনেট মন্ত্রী নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। এই ঘোষণার পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের অন্দরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi and PM Benjamin Netanyahu discuss strategic partnership | ভারত-ইসরায়েল কূটনীতিতে নতুন গতি: নরেন্দ্র মোদী–নেতানিয়াহুর আলোচনায় জোর সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা ও শান্তিপ্রক্রিয়ায় সমর্থন

রবিবার বিজেপির তরফে প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দলের সংসদীয় বোর্ড সর্বসম্মতভাবে নিতিন নবীনকে সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি হিসেবে বেছে নিয়েছে। দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় এই পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। কারণ, কার্যনির্বাহী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া মানেই ভবিষ্যতে সর্বভারতীয় সভাপতি পদে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়, এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। নিতিন নবীন বর্তমানে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের (Nitish Kumar) মন্ত্রিসভায় একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী। সদ্য সমাপ্ত বিহার বিধানসভা নির্বাচনে (Bihar Assembly Election) তিনি পটনার বাঁকিপুর (Bankipur) কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই নির্বাচনে আরজেডি প্রার্থী রেখা কুমারী (Rekha Kumari)-কে ৫১ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে বড়সড় জয় পান নিতিন নবীন। এই বিপুল জয় তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক শক্তিকেই আরও স্পষ্ট করে দেয়।

নিতিন নবীন। ছবি : সংগৃহীত

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদটি বর্তমানে জেপি নাড্ডার (JP Nadda) হাতে। ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে তিনি এই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্বেও রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই জেপি নাড্ডার উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছিল। একাধিক নাম সামনে এলেও এখনও পর্যন্ত সভাপতি পদে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে নিতিন নবীনকে কার্যনির্বাহী সভাপতি হিসেবে সামনে আনা যে নিছক কাকতালীয় নয়, তা বলাই বাহুল্য।বিজেপির সাংগঠনিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, কার্যনির্বাহী সভাপতি পদটি ভবিষ্যৎ সভাপতির জন্য এক ধরনের প্রস্তুতি ক্ষেত্র। উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে জেপি নাড্ডার নামই। ২০১৯ সালের ১৭ জুন থেকে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি বিজেপির কার্যনির্বাহী সভাপতি ছিলেন। সেই সময় দলের সর্বভারতীয় সভাপতি ছিলেন অমিত শাহ (Amit Shah)। পরবর্তীতে অমিত শাহ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর নাড্ডাই দলের সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব নেন। এই নজিরের পর নিতিন নবীনকে ঘিরে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে, তাঁকেই কি বিজেপির ভবিষ্যৎ সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে?

বয়সেও নিতিন নবীন তুলনামূলকভাবে তরুণ। ১৯৮০ সালের ২৩ মে জন্মগ্রহণ করা এই নেতার বয়স এখন মাত্র ৪৫ বছর। বিজেপির ‘যুব নেতৃত্বকে সামনে আনা’ নীতির সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট সঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সংগঠনের একাংশের মতে, উত্তর ভারতের পাশাপাশি পূর্ব ভারতে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত আরও মজবুত করতে নিতিন নবীনের মতো নেতার জাতীয় স্তরে উত্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।নিতিন নবীনের রাজনৈতিক পথচলাও বেশ উল্লেখযোগ্য। তিনি প্রয়াত বিজেপি নেতা নবীন কিশোর সিনহার (Naveen Kishore Sinha) পুত্র। ছাত্র রাজনীতির হাত ধরেই তাঁর রাজনীতিতে প্রবেশ। এবিভিপি-এর (ABVP – Akhil Bharatiya Vidyarthi Parishad) মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবনের শুরু। ধীরে ধীরে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করে তিনি নিজের জায়গা তৈরি করেন। ২০১০ সালে প্রথমবার বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং বাঁকিপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। তারপর থেকে একের পর এক নির্বাচনে ওই কেন্দ্র থেকেই তিনি জয়ী হয়ে আসছেন।

দলের অন্দরে নিতিন নবীনকে একজন সংগঠক নেতা হিসেবেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। নির্বাচনী কৌশল, কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং বুথ স্তরের সংগঠন, এই সব ক্ষেত্রেই তাঁর দক্ষতা রয়েছে বলে বিজেপির একাধিক নেতা প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। সেই কারণেই তাঁকে জাতীয় স্তরে আরও বড় দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে নিতিন নবীনই কি পরবর্তী নাম? যদিও বিজেপির তরফে এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি, তবে কার্যনির্বাহী সভাপতি পদে তাঁর নিয়োগ নিঃসন্দেহে সেই সম্ভাবনাকেই উসকে দিল। আগামী মাসগুলিতে বিজেপির সাংগঠনিক রদবদলে আরও বড় ঘোষণা আসতে পারে বলেও জল্পনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, নিতিন নবীনকে সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি হিসেবে বেছে নেওয়া বিজেপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। এখন দেখার, এই দায়িত্ব সামলে তিনি কীভাবে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের ছাপ ফেলতে পারেন এবং আদৌ তিনি দলের সর্বোচ্চ পদে পৌঁছন কি না।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Amit Shah Bengal 2026 | ২০২৬-এ বাংলার মুখ কে? স্পষ্ট বার্তা দিলেন অমিত শাহ, আত্মবিশ্বাসী বিজেপি

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন