শুভ্রাংশু রায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতা অবশেষে অনুভব করতে শুরু করেছে আসল শীতের ছোঁয়া। টানা কয়েকদিন ধরে শহরের রাতের পারদ নেমে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে আটকে থাকায় বাঙালির শীত-আনন্দ যেন আরও জমে উঠেছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এই শীতের আগমন আগেভাগে বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। উত্তর থেকে নামা ঠাণ্ডা হাওয়ার দাপটে মহানগরে সকাল-বিকেলের হালকা কুয়াশা আর ঝকঝকে রোদ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে অপূর্ব আবহ।
আবহাওয়া দফতর সূত্র জানাচ্ছে, আগামী সাত দিন অন্তত কলকাতার এই ঠাণ্ডা ভাব অটুট থাকবে। সঙ্গে বাতাসের গতি ও দিকও ইঙ্গিত দিচ্ছে আরও কয়েকদিন শীতের স্বস্তি বজায় থাকবে। তবে জাঁকিয়ে শীত এখনই নয়, এই বার্তা দিয়েছে হাওয়া অফিস। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের এক আধিকারিক (Meteorological Official) বলেন, “বর্তমান উত্তুরে হাওয়ার প্রভাবেই কলকাতায় রাতের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম। আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রায় খুব একটা ওঠানামা হবে না।” তিনি আরও জানান যে, শহরবাসী আপাতত ঠাণ্ডার ধারাবাহিকতা উপভোগ করতে পারবেন।
শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলিতেও শীতের দাপট বেশ স্পষ্ট। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানের অনেক জায়গাতেই রাতের পারদ ১০-১১ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করছে। শ্রীনিকেতন (Shantiniketan – Sriniketan) তো শীতে জলপাইগুড়িকেও টেক্কা দিচ্ছে, এমনটাই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। উত্তরবঙ্গের দিক থেকেও আসছে কনকনে বার্তা। দার্জিলিং (Darjeeling) সহ পার্বত্য অঞ্চলে তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ফলে পাহাড়ে শীতের কড়া উপস্থিতি আগেই টের পাওয়া যাচ্ছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা (Resident) জানান, “সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত কুয়াশা আর ঠান্ডা হাওয়া পুরো পরিবেশকে জমিয়ে দিচ্ছে। বছরের এই সময়টা পর্যটকদের জন্য স্বর্গ হয়ে ওঠে।” হাওয়া অফিস আরও জানাচ্ছে, দক্ষিণ বাংলাদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিম ভারতে সক্রিয় রয়েছে একটি পশ্চিমি ঝঞ্ঝা (Western Disturbance)। জম্মু-কাশ্মীর অঞ্চলেও ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব দেখা গেছে। আবহাওয়াবিদ (Weather Scientist) অমরেন্দ্র ঘোষ (Amarendra Ghosh) বলেন, “এই তিনটি সিস্টেম একসঙ্গে থাকায় পূর্ব ভারতের আকাশ পরিষ্কার থাকছে। ফলে উত্তুরে হাওয়া প্রবাহিত হতে কোনও বাধা নেই।”
কিন্তু, আগামী শনিবার থেকেই নতুন একটি পশ্চিমি ঝঞ্ঝা ভারতে ঢোকার কথা। সাধারণত এমন ঝঞ্ঝা প্রবেশ করলে উত্তুরে হাওয়ার গতি কিছুটা কমে যায়। কিন্তু আপাতত পশ্চিমবঙ্গে শীতের অনুভূতি ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে সকালের ঠাণ্ডা ও রাতের ঠাণ্ডা আরও খানিক বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। এদিকে কলকাতার বাসিন্দারাও এই শীতের হাওয়া বেশ উপভোগ করছেন। সকালে পার্ক স্ট্রিট, রবীন্দ্র সরোবর কিংবা সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, সব জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে হাঁটাচলায় ব্যস্ত মানুষদের। দমদমের বাসিন্দা সূর্যশেখর মিত্র বলেন, “কলকাতায় শীত কমই থাকে। তাই যখনই ঠাণ্ডা নামে, মনের মধ্যে অন্যরকম আনন্দ তৈরি হয়। বেরোতে ইচ্ছে করে আরও বেশি।” হাওয়া অফিস যদিও জানিয়েছে এবার জাঁকিয়ে ঠান্ডা নামতে কিছুটা সময় লাগবে, কারণ ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহেই সাধারণত ঠাণ্ডা তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। তবে স্বাভাবিকের নিচে থাকা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই মুহূর্তে শহরবাসীকে তৃপ্তিই দিচ্ছে।
একই সঙ্গে সকালের কুয়াশা নিয়ে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর। দৃশ্যমানতার হ্রাসের কারণে সকাল ৫টা থেকে ৮টার মধ্যে বিশেষভাবে সাবধান থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গাড়ি চালক ও দুইচাকা আরোহীদের জন্য নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন এই শীতের টান ধরে রাখলেও বড় কোনও তাপমাত্রার পরিবর্তন দেখা যাবে না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে হাওয়া অফিস। অর্থাৎ মহানগরবাসী এখনই প্রস্তুত হতে পারেন আরও কিছুদিনের টানটান শীতের স্বাদ নেওয়ার জন্য।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : UNESCO Intangible Cultural Heritage | লালকেল্লায় ইউনেস্কো সম্মেলন শুরু, বিশ্ব সংস্কৃতি রক্ষায় ‘অগাধ আনন্দ’ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী



