সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গান্ধীনগর : গুজরাতে সরকারি তহবিল তছরুপের এক বহুচর্চিত মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেন রাজ্যের প্রাক্তন আমলা প্রদীপ নিরঙ্করনাথ শর্মা (Pradeep Nirankarnath Sharma)। ভূজের প্রাক্তন জেলাশাসক এই অফিসারের বিরুদ্ধে ওঠা কোটি কোটি টাকার নয়ছয়ের অভিযোগ শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হয়েছে আদালতে। শনিবার আহমেদাবাদের একটি বিশেষ পিএমএলএ আদালত প্রদীপ শর্মাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে। শুধু তাই নয়, আদালত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন মাসের অতিরিক্ত কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত চলাকালীন ইডি (ED) -এর হাতে থাকা তাঁর ১.৩২ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশও জারি করা হয়েছে। ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে গুজরাতে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট আবারও তদন্ত খতিয়ে দেখতে শুরু করলে ফের উঠে আসে প্রদীপ শর্মার নাম। তখনই প্রকাশ্যে আসে নানা দুর্নীতির তথ্য- যার মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অবৈধ আর্থিক লেনদেন, বেআইনি জমি বরাদ্দ এবং সরকারি পদের অপব্যবহার। অভিযোগ, কচ্ছ জেলার জেলাশাসক থাকাকালীন প্রদীপ শর্মা ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি জমি বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে বরাদ্দ করেছিলেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে। এর মাধ্যমে তিনি নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হন, আর তার ফলে গুজরাত সরকারের ক্ষতি হয় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকারও বেশি।
ইডি’র তদন্তের নথিতে বলা হয়েছে, জমি বরাদ্দের সময় নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছিল সুস্পষ্ট ভাবে। একই সঙ্গে বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তদন্তে উঠে আসে, কয়েকটি জমি বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নথি, অনুমোদন এবং প্রশাসনিক যাচাই পর্যন্ত করা হয়নি। প্রশাসনিক ক্ষমতাকে ব্যবহার করে সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল কচ্ছের কিছু প্রভাবশালী মহলের জন্য।অভিযোগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ আবেদন করেছিলেন প্রদীপ শর্মা। তিনি দাবি করেছিলেন যে, তদন্তে পক্ষপাত রয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এর ফলে পিএমএলএ আদালতে তাঁর বিচারের পথ প্রশস্ত হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, একজন সিনিয়র আইএএস অফিসার হিসেবে প্রদীপ শর্মার দায়িত্ব ছিল সরকারি পদের সততা ও স্বচ্ছতা রক্ষা করা। কিন্তু তাঁর আচরণ প্রশাসনিক বিশ্বাসের গুরুতর অবমাননা। বিচারকের ভাষায়, “একজন উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকের কাছ থেকে এমন ক্ষমতার অপব্যবহার শুধু লজ্জাজনক নয়, বরং তা জনস্বার্থের পরিপন্থী।” উল্লেখ্য যে, মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার পরই আদালতের নির্দেশে শর্মার বিরুদ্ধে পিএমএলএ ধারা অনুযায়ী সশ্রম কারাদণ্ড কার্যকর করা হয়। পাশাপাশি তাঁর ১.৩২ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইডি জানিয়েছে, “এই মামলার মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হল, সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত লাভবান হওয়ার চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গুজরাতে সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়, তবে প্রদীপ শর্মার মতো বর্ষীয়ান আইএএস আধিকারিকের বিরুদ্ধে এই মাত্রার সাজা বিরল। প্রশাসনিক মহলে অনেকে মনে করছেন, এই রায় ভবিষ্যতে সরকারি স্তরে সততা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরাও বলছেন, ইডি’র দীর্ঘ তদন্তের পর এমন রায় ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কেন্দ্রীয় সংস্থা এখন সরকারি দুর্নীতির মামলায় আরও কড়া অবস্থান নেবে। উল্লেখ্য যে, প্রদীপ শর্মা এর আগে আরও বেশ কয়েকটি দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। যদিও বহু ক্ষেত্রে তিনি জামিনে মুক্ত থেকেছেন। কিন্তু পিএমএলএ মামলায় এই সাজা তাঁর ক্যারিয়ার ও জনমতের উপর বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এই রায় শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সরকারি ব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস পুনরুদ্ধারেও ভূমিকা রাখবে।গুজরাতে জমি বরাদ্দ নিয়ে বহু দিন ধরেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বারবার বলেছেন, সরকারি জমি বরাদ্দে স্বচ্ছতা না থাকায় দুর্নীতির আশঙ্কা বেড়ে যায়। প্রদীপ শর্মার মামলাকে অনেকেই সেই সমস্যার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়া তাই সাধারণ মানুষের কাছে এক বড় বার্তা যে, আইন সবার জন্যই সমান।
গোটা ঘটনা এখনও রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে বহু মানুষ বলছেন, “সরকারি তহবিলের প্রতিটি টাকা জনগণের। তাই এমন অপব্যবহার কোনোভাবেই বরদাস্ত করা উচিত নয়।” অন্যদিকে কেউ কেউ আদালতের রায়কে “ঐতিহাসিক” বলে উল্লেখ করেছেন। অনেকে দাবি করেছেন, এখন সময় এসেছে গুজরাতে জমি বরাদ্দ সংক্রান্ত সব পুরোনো মামলারও পুনরায় তদন্ত করার। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর অবশেষে চূড়ান্ত রায় এসেছে। এখন দেখা যাক, গুজরাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই কতটা আরও তীব্র হয়। প্রদীপ শর্মা মামলার রায় সেই পথেই এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে রইল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Smriti Mandhana Palash Muchhal Wedding | বিয়ে বাতিলের পর আরও কঠোর সিদ্ধান্ত! স্মৃতি মন্ধানা ও পলাশ মুচ্ছল নতুন পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিলেন




