সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পূর্ব বর্ধমান: আসন্ন ভোটের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন ও প্রস্তুতির কাজ যে পর্যায়ে রয়েছে তা খতিয়ে দেখতে বুধবার পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসকের দফতরে দিনভর বৈঠক করলেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta)। বৈঠক শেষে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এসআইআর বা বিশেষ সার্ভে কাজে তিনি মোটামুটি সন্তুষ্ট হলেও এখনও কিছু ক্ষেত্রের কাজ বাকি রয়েছে, বিশেষত আনকালেক্টেড ফর্ম সংক্রান্ত সমস্যাগুলি। তাঁর দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সমস্ত ফর্ম সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করতেই হবে। সুব্রত গুপ্ত জানান, “আমাকে মূলত দেখতে বলা হয়েছে যে ভোটার রোল বা ইলেক্টোরাল রোল সঠিকভাবে তৈরি হচ্ছে কি না। এখানে খুব গুরুতর ত্রুটি নেই, তবে কিছু সফটওয়্যার-সম্পর্কিত বিষয় ERO–রা (Electoral Registration Officer) উল্লেখ করেছেন।” তিনি আরও জানান, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে ফর্ম দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মনে করেছেন পরে জমা দেবেন বা অন্যত্র চলে গিয়েছেন। যার ফলে সেই সমস্ত ফর্ম আনকালেক্টেড অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তাঁর কথায়, “কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফর্ম দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ব্যক্তি বাইরে চলে গেছেন। সেই ফর্মগুলোই আনকালেক্টেড হয়ে রয়েছে।” দিনভর বৈঠকে পূর্ব বর্ধমানের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র ধরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ERO -এর সঙ্গে বিচ্ছিন্নভাবে বৈঠক করেন সুব্রত গুপ্ত। আলোচনার মূল বিষয় ছিল দু’টি, এনুমারেশন বা গণনা কাজ কতটা এগিয়েছে এবং কতগুলি ফর্ম সংগ্রহ ও ডিজিটাইজ করা হয়েছে; এবং দ্বিতীয়ত, যে ফর্মগুলি এখনও সংগ্রহ হয়নি, কেন হয়নি, এবং দ্রুত কিভাবে তা সংগ্রহ ও সিস্টেমে আপলোড করা যায়। তিনি জানান, “যে যে ফর্ম কালেক্ট হয়নি কেন হয়নি, সেটা খতিয়ে দেখা হয়েছে। এবং রাতের মধ্যেই সেগুলি আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কালেক্টেড ফর্ম আর রেখে দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই।”
তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি যেন পদ্ধতিগতভাবে সম্পন্ন হয়, সেই দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। “আমাদের অ্যাসেসমেন্ট কাজটা সিস্টেমেটিকালি হয়েছে। আমাদের যারা ERO আছেন, তাঁরা চেষ্টা করছেন যেন সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত রোল তৈরি করা যায়। আগামী সাত-আট দিনের মধ্যেই সেই কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করাই লক্ষ্য।” তবে কাজ সন্তোষজনক হয়েছে কি না, তা জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে ড্রাফ্ট পাবলিকেশন পর্যন্ত। বিশেষ পর্যবেক্ষক বলেন, “ড্রাফ্ট পাবলিকেশনের পরে বোঝা যাবে কাজ কতটা নিখুঁত হয়েছে। ১১ ডিসেম্বর যেদিন ড্রাফ্ট লিস্ট প্রকাশিত হবে, সেদিনই আমরা সব অফিসে ভোটার তালিকা টাঙিয়ে দেব। রাজনৈতিক দলগুলোকেও কপি দেওয়া হবে। ভোটার ও রাজনৈতিক দলের ফিডব্যাক থেকেই মূলত তালিকার গুণমান বোঝা যাবে।” কমিশনের দু’টি কড়া নির্দেশও ফের স্পষ্ট করে দেন তিনি। প্রথমত, কালেক্টেড ফর্ম আর কোথাও জমা অবস্থায় রাখা যাবে না। দ্বিতীয়ত, যে সব ফর্ম আনকালেক্টেড রয়েছে, তা অবিলম্বে সিস্টেমে যুক্ত করতে হবে। তাঁর কথায়, “ফর্ম কালেক্ট করা হলে তা সঙ্গে সঙ্গে সিস্টেমে রেজিস্টার করাতে হবে। স্ক্যান করে আপলোড হোক বা অন্যভাবে মার্কিং হোক, আনকালেক্টেড অবস্থায় রাখা চলবে না।”
সীমান্তবর্তী জেলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সংবেদনশীল ইস্যু, অবৈধ বিদেশি নাগরিকের নাম ভুলবশত ভোটার তালিকায় থাকা। এই প্রসঙ্গেও স্পষ্ট বক্তব্য দেন সুব্রত গুপ্ত। তিনি বলেন, “যদি কোনও ব্যক্তি বাংলাদেশি বা অন্য কোনও দেশের নাগরিক হন, এবং তাঁর নাম ভুলবশত তালিকায় থেকে থাকে, তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে নাম বাদ দেওয়া হবে।” বৈঠকের পরে সূত্রের দাবি, এলাকায় এনুমারেশনের কাজ এগোলেও আনকালেক্টেড ফর্ম, কর্মীসংকট ও কিছু সফটওয়্যার সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত অসুবিধাই মূল চ্যালেঞ্জ। তবে বিশেষ পর্যবেক্ষকের সরাসরি তদারকি ও কঠোর নির্দেশের পর নির্বাচন প্রস্তুতি আরও দ্রুত গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভোটার তালিকা যে কোনও নির্বাচনের ভিত্তি, এই মন্তব্যই বারবার শোনা গিয়েছে প্রশাসনিক মহলে। সুব্রত গুপ্ত নিজেও বৈঠক শেষে বলেন, তাঁদের লক্ষ্য একটাই, নির্ভুল ও হালনাগাদ ভোটার তালিকা তৈরি করা। “ভোটারদের আস্থা বজায় রাখতে হলে রোল ত্রুটিমুক্ত হওয়াই প্রধান শর্ত,” মন্তব্য তাঁর।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya | মন্দারমণির অবৈধ রিসোর্ট থেকে রাজবংশী-কামতাপুরি ভাষা স্বীকৃতি : রাজ্যসভায় দ্বিমুখী ইস্যুতে সরব শমীক ভট্টাচার্য




