সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: ঘরোয়া ক্রিকেটের মঞ্চে ফের একবার ঝলমল করেছেন মহম্মদ শামি (Mohammed Shami)। নির্বাচকরা হয়ত জাতীয় দলে তাঁর সাম্প্রতিক ফর্মের খবর পায়নি, কিন্তু ঘরোয়া ম্যাচে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, কেন তিনি ভারতের অন্যতম ভয়ংকর পেসার। বৃহস্পতিবার সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির ম্যাচে সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে তিনি মাত্র ১৩ রানে তুলে নিলেন চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। বাংলার জন্য এই জয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক গ্রুপ থেকে দুটি দল নকআউটে যাবে। সেক্ষেত্রে শীর্ষে থাকার জন্য প্রতিটি ম্যাচে জয় অর্জন করা বাধ্যতামূলক। বৃহস্পতিবারের ম্যাচে সার্ভিসেসই ছিল প্রথম দু’য়ে জায়গা ধরে রাখার জন্য বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ। কিন্তু শামির দারুণ বোলিং বাংলার কাছে পরিস্থিতি সহজ করে দিয়েছে।
শুরুর দুই ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে দুই ওপেনারের উইকেট শামি তুলে নেন। ইনিংসের প্রথম বলেই আউট হন গৌরব কোচার। তৃতীয় ওভারে বিদায় নেন অপর ওপেনার রবি চৌহানকে, যিনি ৯ বলে ২৬ রান করে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিলেন। শামির ধারাবাহিক আক্রমণ সার্ভিসেসের ব্যাটিং লাইনআপে ত্রাস সৃষ্টি করে। ৩৫ রানে তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও সার্ভিসেসের ব্যাটসম্যানরা ধীরে ধীরে জুটি গড়েন। মোহিত ও বিনীত ৫ ওভারে ৬৭ রানের জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এরপর ধস নামতে শুরু করে তাদের ব্যাটিংয়ে। আকাশ দীপ (Akash Deep) তিনটি উইকেট তুলে নেন, ঋত্বিক চট্টোপাধ্যায় (Rittwik Chattopadhyay) দু’টি উইকেট নেন এবং প্রদীপ্ত প্রামাণিক (Pradipta Pramanik) এক উইকেট নেন। শামি দ্বিতীয় স্পেলে ফের অপ্রতিরোধ্য। মাত্র ১.২ ওভারে সাত রান দিয়ে আরও দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের কিপার হন। শেষ পর্যন্ত সার্ভিসেসের ইনিংস থেমে যায় শামির বোলিং আক্রমণে। এই পারফরম্যান্স স্পষ্ট করল, শামি এখনও সব ফরম্যাটে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেন। বাংলার কোচ অভিমন্যু ঈশ্বরন (Abhimanyu Ishwaran) বলেন, “শামির বোলিং দেখলে বোঝা যায়, জাতীয় দলে ফেরা বা না ফেরা তাঁর দক্ষতাকে কখনো সীমিত করতে পারে না। তিনি আমাদের সবসময় বিপদে সাহায্য করেছেন এবং আজকের ম্যাচেও তা প্রমাণ করেছেন।”
মহম্মদ শামির এই পারফরম্যান্স শুধু দলের জন্য নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটেও একটি বার্তা পাঠালো। রঞ্জি ট্রফি বা সৈয়দ মুস্তাক আলি, সব টুর্নামেন্টেই তিনি বাংলার ত্রাতা হয়ে ওঠেন। স্থানীয় ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শামির অভিজ্ঞতা এবং চাপ সামলানোর দক্ষতা নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণা।
শামির ব্যাটিংও এই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যদিও বোলিংতে তিনি ঝড় তুলেছেন, তার সাথে দলের মানসিক দৃঢ়তা এবং সতর্কতা দেখিয়েছেন। ভারতের জাতীয় দলের কাছেও এই ধরনের পারফরম্যান্স বার্তা দেয় যে, অভিজ্ঞ এবং ধৈর্যশীল পেসার এখনও খেলায় ত্রাণ হিসেবে কাজ করতে পারেন।
বাংলার ক্রিকেট প্রেমীরা সামাজিক মাধ্যমে শামির প্রশংসা জানাচ্ছেন। অনেকেই লিখেছেন, “জাতীয় দলে ফেরা বা না ফেরা এখন তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, শামি ঘরোয়া ক্রিকেটেও আবার ঝড় তুলেছেন।” সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির এই জয়ের ফলে বাংলা শীর্ষে উঠে আসতে পারে এবং নকআউটের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে পারে। শামি তাঁর ফর্ম এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে বাংলাকে প্রতিটি ম্যাচে নতুন শক্তি যোগ করছেন। উল্লেখ্য, শামির সাফল্য প্রমাণ করল, জাতীয় দলে থাকা না থাকাই তাঁর মান এবং দক্ষতাকে কমিয়ে দেয় না। ঘরোয়া ক্রিকেটের মঞ্চে তিনি এখনও যেকোনও দলকে ধসিয়ে দিতে সক্ষম।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mohammad Azharuddin Minister | ইডেনে সেঞ্চুরি থেকে ক্যাবিনেট পর্যন্ত: মন্ত্রী পদে শপথ নিতে চলেছেন মহম্মদ আজহারউদ্দিন



