সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ইংরেজবাজার : রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র পাঁচ-ছ’মাস বাকি। ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ না হলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এর মধ্যেই মালদহের ইংরেজবাজারে বিজেপির সভা থেকে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ভাষা ও জাতের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতি থেকে মানুষকে সরে আসার আবেদন জানিয়ে তিনি হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান করেন। একইসঙ্গে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে (Trinamool Congress)।মঙ্গলবার ইংরেজবাজারের মঞ্চে দাঁড়িয়েই মোথাবাড়ির সাম্প্রতিক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে আনেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কেউ বলে, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। কিন্তু আমি বলি, ধর্ম যার তার, আর রক্ষা করার দায়িত্বও তার। আমরা নিজেরাই ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র জাতপাতের নামে ভাগ হয়ে যাই। এর সুযোগ অন্যরা নেয়। ভাষার নামে, জাতের নামে আমাদের বিভক্ত হওয়া চলবে না।”
তাঁর বক্তব্য, পরিকল্পিতভাবে রাজ্যে হিন্দু সমাজকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। বিরোধী দলনেতার কথায়, “আমাদের শেষ করা হচ্ছে। ধর্ম পালন করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। যেখানে আমরা সংখ্যায় কম, সেখানে সংগঠিত আক্রমণ চলছে। আর যাঁদের রাজধর্ম পালন করার কথা, তাঁরা ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য কিছুই করছেন না। সহাবস্থানেই আমাদের বিশ্বাস। কাউকে আঘাত দিতে চাই না। কিন্তু আমরা কেন বারবার আক্রান্ত হব?” শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “আমরা অনেক সময় বুঝতেই পারছি না কী আমাদের জন্য ভাল। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আমরা নিজেদের দুর্বল করছি। অন্যদের খুশি রাখতে গিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব বিপন্ন হচ্ছে।” তাঁর অভিযোগ, তোষণের রাজনীতি রুখতে না পারলে রাজ্যের সামাজিক কাঠামো আরও বিপজ্জনক মোড় নিতে পারে।
এই সভা থেকেই তিনি আগামী ৭ ডিসেম্বর কলকাতার ব্রিগেডে আয়োজিত ৫ লক্ষ মানুষের গীতা পাঠ-এ যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। শুভেন্দুর মতে, এই অনুষ্ঠান শুধু ধর্মীয় নয়, বরং সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক।ইংরেজবাজারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও এদিন আলোচনায় উঠে আসে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মালদহ দক্ষিণ লোকসভার অধীনস্থ ইংরেজবাজার (Englishbazar) বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি পেয়েছিল ৫৮.৮৬% ভোট, যা বিরোধী শিবিরের কাছে উৎসাহব্যঞ্জক। কংগ্রেস পেয়েছিল ২২.৫২%, আর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পেয়েছিলেন ১৫.৫৩% ভোট। এর আগের নির্বাচন অর্থাৎ ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে এই আসনে জিতেছিলেন বিজেপির প্রার্থী শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী (Sreerupa Mitra Chowdhury)। তিনি পেয়েছিলেন ৪৯.৯৭% ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী (Krishnendu Narayan Choudhury) পেয়েছিলেন ৪০.৬৫%। বিজেপি ২০ হাজারের বেশি ভোটে জয়লাভ করেছিল।
ভোটের আগে মালদহের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় বিজেপির এই বড় সভা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শুভেন্দুর বার্তায় স্পষ্ট আগামী নির্বাচনে হিন্দু ভোট ব্যাঙ্ককে একত্রিত রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে বিজেপি। তাঁর ভাষণ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী মাসগুলোতে বাংলায় ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি আরও তীব্র হতে পারে। শুভেন্দুর এই বক্তব্য রাজ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করল। আর তৃণমূলকে সরাসরি আক্রমণ করে দেওয়া বার্তায় বিজেপির লড়াইয়ের কৌশলও স্পষ্ট হয়ে গেল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Dead voter list West Bengal, Suvendu Adhikari allegations | SIR নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ, মৃত ভোটার তালিকা নিয়েই সরাসরি আক্রমণে শুভেন্দু অধিকারী



