তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ভারতীয় ক্রিকেটে পেস আক্রমণের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মুখ মহম্মদ সামি (Mohammed Shami)। কিন্তু জাতীয় দলে তাঁর প্রত্যাবর্তন কবে ঘটবে, তা এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রিকেট মহলে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় দলে নেই তিনি। অথচ রঞ্জি ট্রফিতে (Ranji Trophy) সাম্প্রতিক চার ম্যাচ মিলিয়ে ২০টি উইকেট তুলে নিয়ে নিজের ফর্ম ও ক্ষিপ্রতা দু’টোই প্রমাণ করেছেন বাংলার তারকা পেসার। তাঁকে ঘিরে আশা তৈরি হলেও নির্বাচকেরা এখনো নড়েচড়ে বসেননি। রঞ্জিতে এই বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের পর ক্রিকেট মহলে জোরালোভাবে উঠেছিল প্রশ্ন, টিম ইন্ডিয়ার নির্বাচকেরা কি এবার সামির দিকে নজর দেবেন? কিন্ত পরিস্থিতি এত সহজ নয়। বাস্তবে সামিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ধরণের ঠান্ডা বিতর্ক। আর সেই বিতর্কের অন্যতম কারণ নির্বাচকমণ্ডলীর প্রধান অজিত আগরকর (Ajit Agarkar)-এর মন্তব্য।
সামি কিছুদিন আগেই কলকাতায় এসে রঞ্জি ম্যাচ খেলার সময় নির্বাচন কমিটির প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন- নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গে সুবিচার হচ্ছে না। অন্যদিকে নির্বাচন কমিটির প্রধান অজিত আগরকর প্রকাশ্যে সামির ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্যেই যেন আভাস পাওয়া গিয়েছিল যে সামির শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে নির্বাচকদের কিছু উদ্বেগ রয়েছে। এখান থেকেই শুরু হয় “সামি বনাম অজিত” ঠাণ্ডা সংঘাতের গল্প।
খবর ছড়িয়েছিল, কল্যাণীতে বাংলা-অসম ম্যাচে সামির পারফরম্যান্স দেখতে নাকি যাবেন অজিত আগরকর নিজে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। সামির ধারাবাহিক দারুণ পারফরম্যান্স মাঠে উপস্থিত থেকে দেখেননি নির্বাচকরা। এতে শুধু সামি নয়, ক্রিকেটপ্রেমীরাও হতাশ হন। তার উপর বর্তমানে চলছে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট সিরিজ। গুয়াহাটিতে দ্বিতীয় টেস্টের মাঝে দক্ষিণ আফ্রিকা ইতিমধ্যে ওডিআই দলের নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এখনও ওডিআই দল ঘোষণা করেনি। ফলে সামি সেই দলে থাকতে পারেন কি না, তা নিয়েও দানা বাঁধছে জোর আলোচনা।
এই পরিস্থিতির মধ্যে রঞ্জির বাংলা-অসম ম্যাচের পর Revsportz-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামি হতাশ গলায় বলেন, “যা কপালে আছে, সেটাই হবে। হয়ত আমার কপালে এখানেই (কল্যাণী) বাংলার হয়ে খেলা লেখা আছে। আমি সেটাই করব।” তাঁর কণ্ঠে যেন চাপা আক্ষেপ, জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন বারবার ঝুলে যাচ্ছে অনিশ্চয়তার দড়িতে।তিনি আরও বলেন, “আমি শুধু ক্রিকেট খেলতে পারি। নির্বাচিত হব কি না, সেটা আমার হাতে নেই। আর আমি কেন ভারতীয় টিমে নির্বাচিত হচ্ছি না, সেটাও ভাবতে পারছি না।”
অবশ্য সামির এই কথাতেই স্পষ্ট,তাঁর সমালোচকেরা যাই বলুন, তিনি নিজের কাজ চালিয়ে যাবেন। পারফরম্যান্সই তাঁর আসল জবাব। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, সামির অভিজ্ঞতা, উঁচু মানের সুইং, এবং বড় ম্যাচে আত্মবিশ্বাস, সবই এখনও ভারতীয় দলের জন্য সম্পদ। ২০২৩ বিশ্বকাপে তাঁর দাপুটে পারফরম্যান্স এখনও সমানভাবে স্মরণীয়। তবে সবকিছুর পরেও প্রশ্ন থেকে যায়, কোন কারণটা নির্বাচনকারীদের ভাবাচ্ছে?
ফিটনেস? বয়স?
দলের রোটেশন পলিসি?
নাকি সত্যিই সামি-অজিতের মাঝের সেই অদৃশ্য ঠাণ্ডা যুদ্ধ? ক্রিকেট মহলের একাংশ মনে করেন, ফিটনেস নিয়ে সামিকে সামনে আনতে নির্বাচকেরা দ্বিধায় আছেন। আবার আরেক অংশের ধারণা, সিলেকশন কমিটির ভেতরেই সামিকে দলে ফেরানো নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে।
এদিকে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড যদি ওডিআই দলে সামিকে জায়গা দেয়, তবে তাঁর আন্তর্জাতিক কামব্যাক হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেই। আর যদি আবার দেরি হয়, তবে সামির অপেক্ষা চলবে আরও দীর্ঘ। তবে যাই হোক, তাঁর পারফরম্যান্স এখনই জানিয়ে দিল- উপেক্ষা করার মতো অবস্থায় নেই তিনি। যতদিন না নির্বাচকেরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, সামির একটাই মনোভাব, নিজের কাজ, নিজের পারফরম্যান্স ধরে রাখা। তাঁর কথায়, “আমি শুধু মাঠে নিজের সেরাটা দিতে পারি।” এই বাস্তববাদী মনোভাবই আবার ভক্তদের মনে আশার সঞ্চার করে।কিন্তু ভারতীয় দলের দরজা সত্যিই কী খুলবে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সামির জন্য? এখন নজর সবার একটাই, ওডিআই দলের নাম ঘোষণার দিকে। সেই তালিকায় কি দেখা যাবে মহম্মদ সামির নাম? উত্তর সময়ই দেবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mohammed Shami IPL 2025 Transfer | ১০ কোটি টাকার চুক্তিতে লখনউয়ে মহম্মদ শামি আইপিএল নিলামের আগেই বড়সড় রদবদল




