Samik Bhattacharya Facebook Post, Bengal Health System Crisis | স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পতনই কি এগিয়ে বাংলার পরিচয়? শমীক ভট্টাচার্য-এর তীব্র কটাক্ষ

SHARE:

সানি সরকার, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান স্বাস্থ্যব্যবস্থা, নিয়োগে স্থবিরতা, জনসংখ্যার চাপ এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ, সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও উত্তপ্ত। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) রবিবার রাতে তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক বিস্ফোরক পোস্ট করেন। সেখানে রাজ্য সরকারের ‘এগিয়ে বাংলা’ প্রচারকে তিনি সরাসরি আক্রমণ করেন এবং দাবি করেন যে বাস্তবে বাংলা এগোচ্ছে না, কিন্তু ভয়ঙ্করভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে।

শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, ‘এগিয়ে বাংলা-কিন্তু এগোচ্ছে কোথায়? চাকরি দুর্নীতি থেকে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভাঙন- সব মিলিয়ে মানুষের জীবন দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।’ তাঁর দাবি অনুযায়ী, জনসংখ্যা যেমন দ্রুত বেড়েছে, তেমনভাবে বাড়েনি স্বাস্থ্যপরিকাঠামো। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন যে গত ৭০ বছরে জনসংখ্যা ৪০০% বাড়লেও স্বাস্থ্যব্যবস্থা বেড়েছে মাত্র ৩০%।
এদিনের ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘মানুষ বেড়েছে, সমস্যাও বেড়েছে; শুধু সরকারী স্বাস্থ্যপরিকাঠামো বাড়েনি।’

অভিযোগের তীর ছুঁড়ে বিজেপি সভাপতি বলেন, একসময় যেই পশ্চিমবঙ্গ জাতীয় গড়ের তুলনায় ভাল স্বাস্থ্য সূচক বজায় রেখেছিল, আজ সেই বাংলা পিছনের সারিতে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ডাক্তার-রোগীর অনুপাত সন্তোষজনক নয়। আয়ুষসহ সামগ্রিক অনুপাত যেখানে ১ : ১৩০০-১৪০০, আধুনিক চিকিৎসায় কার্যকর অনুপাত সেখানে ১ : ২০০০। জাতীয় গড় ১ : ৮৩৬ -এই তথ্য তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, ‘বাংলা আজ দেশের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে পিছনের বেঞ্চে।’ শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন আর.জি. কর মেডিক্যাল কলেজ (R.G. Kar Medical College) -এর প্রাক্তন গৌরবের কথা। তাঁর দাবি, একদা গোটা দেশের ২% নতুন চিকিৎসকের প্রশিক্ষণ হয়েছিল এই প্রতিষ্ঠান থেকে। অথচ আজ তা NIRF র‍্যাঙ্কিং -এর প্রথম ৫০-এর মধ্যেও নেই। তাঁর ভাষায়, ‘এটা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের পতন নয়- এটা বাংলার স্বাস্থ্যশিক্ষার পতাকাকেই অর্ধনমিত করে দিয়েছে।’

আরও পড়ুন : West Bengal economy decline, Bengal industrial crisis | বাংলা এগোচ্ছে নাকি পিছোচ্ছে? ফেসবুকে বিস্ফোরক প্রশ্ন তুললেন শমীক ভট্টাচার্য

রাজ্যের প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর অবস্থার কথাও তিনি তীব্র ভাষায় তুলে ধরেন। আগে যেখানে PHC-তে ডাক্তার শূন্যপদ ছিল ৫-১০%, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৪৪%। তাঁর বক্তব্য, ‘আজ প্রায় অর্ধেক কেন্দ্রেই ডাক্তার নেই! ফলে ব্লকের মানুষকে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য শহরে ছুটতে হয়।’ শমীক ভট্টাচার্য আরও লেখেন, যে সমস্যাগুলোর পিছনে রয়েছে তিনটি বড় অভিশাপ, ‘নিয়োগে স্থবিরতা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।’ তাঁর ভাষায় এখনকার স্বাস্থ্যব্যবস্থার আসল পরিচয়, ‘শূন্যপদ- শূন্যসেবা- শূন্যদায়িত্ব।’
ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের বহু হাসপাতালে ICU নেই, সুপার স্পেশালিটির অভাব, পুরনো যন্ত্রপাতি অকেজো, অপারেশন থিয়েটার অপ্রস্তুত। OPD -তে ৩০০ রোগীর ভিড়ে একজন চিকিৎসক হাঁপিয়ে উঠছেন, এমন চিত্র তিনি তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ‘ব্লক-মহকুমার রোগীরা রেফার হয়ে ঢুকে পড়ছেন কলকাতার বড় হাসপাতালে। ফলে ডাক্তার ক্লান্ত, স্বাস্থ্যকর্মীরা অসহায়, রোগীরা বিপন্ন-আর গোটা ব্যবস্থা দিশেহারা।’ রাজ্য সরকারের ‘উন্নয়ন প্রচার’ নিয়ে কটাক্ষ করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, ‘সরকারের ঢাক-ঢোল যতই বাজুক, বাস্তব বলছে অন্য কথা। বাড়ছে শুধু একটাই জিনিস- জনগণের দুর্ভোগ আর সরকারের অজুহাত।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘এর নাম যদি হয় ‘এগিয়ে বাংলা’, তবে স্বাস্থ্য খাতে বাংলার পতনের গতি কি এ রাজ্যের অগ্রগতি?’

রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এই পোস্ট নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও প্রতিউত্তর আসার সম্ভাবনা প্রবল। তবে শমীক ভট্টাচার্য যেভাবে পরিসংখ্যান ও তুলনা টেনে স্বাস্থ্যব্যবস্থার বর্তমান অবস্থার সমালোচনা করেছেন, তা নিঃসন্দেহে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।বর্তমানে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য- এই তিন ইস্যুতে বাংলার রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। এমন পরিস্থিতিতে বিজেপি রাজ্য সভাপতির এই পোস্ট রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও অস্থিরতা বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kolkata Metro Delay, Samik Bhattacharya Statement | চিঙড়িঘাটায় ৩৬৬ মিটারের জট, রাজ্যের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন শমীক ভট্টাচার্য

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন