সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড়সড় নাড়া দিতে চলেছে বিজেপি (BJP)। ভোট ঘোষণা এখনও দূরে, কিন্তু তাতেই অপেক্ষা নয়, ডিসেম্বর থেকেই রাজ্যে ফের নির্বাচনী মঞ্চে হাজির হতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছে, ভোটের অন্তত কয়েক মাস আগে থেকেই সংগঠনকে মাঠে নামিয়ে দিতে, কর্মী-সমর্থকদের মনোবল বাড়াতে এবং সম্ভাব্য আসনগুলোতে ভোটজোয়ার তৈরি করতে। বিজেপি সূত্রের দাবি, ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই জনসভা-পর্ব চলতে পারে ভোট পর্যন্ত, আর সেই সময়েই প্রধানমন্ত্রী মোদীর অন্তত ১৪ থেকে ১৫টি সভা হওয়ার পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে।
সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হচ্ছে ১ ডিসেম্বর, চলবে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যেই শনিবার বা রবিবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক রাজ্য-নেতা জানিয়েছেন, “এই সফরকে ঘিরেই সংগঠনের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। সম্ভাবনাময় এবং অল্প ভোটে পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলিকে টার্গেট করাই মূল উদ্দেশ্য।” তাঁর কথায়, “আমরা যেসব জায়গায় কেবল কয়েক হাজার ভোটে হেরে গিয়েছিলাম বা যেখানে বুথ স্তরের কর্মীদের মনোবল বাড়ালে ফল ঘুরে যেতে পারে, সেই সব অঞ্চলেই সভার আয়োজন হবে।”
গত ২৯ মে থেকে ২২ আগস্টের মধ্যে মোদীর তিনটি সভা ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে, আলিপুরদুয়ার, দুর্গাপুর ও দমদমে। তখনই সিদ্ধান্ত হয়েছিল চতুর্থ সভাটি নদিয়ার রানাঘাট বা সংলগ্ন অঞ্চলে হবে। তবে শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত হয়। ফলে বিজেপির ধারণা, নতুন পর্বের প্রথম জনসভা সম্ভবত রানাঘাট থেকেই শুরু হতে পারে। তবে সভার নির্দিষ্ট তারিখ বা চূড়ান্ত স্থান এখনও স্থির হয়নি। অন্যদিকে, ফিরছে রথযাত্রা, থাকছে পাঁচ অঞ্চল থেকে পাঁচ ‘রথ’।
শুধু মোদী বা অমিত শাহ (Amit Shah) -এর ওজনদার জনসভাতেই নয়, জনসংযোগ বৃদ্ধিতে ফের পুরনো এবং পরীক্ষিত হাতিয়ার ‘রথযাত্রা’ নিয়ে মাঠে নামতে চলেছে বিজেপি। রাজ্যের পাঁচ সাংগঠনিক জোন উত্তরবঙ্গ, রাঢ়বঙ্গ, নবদ্বীপ, কলকাতা এবং হাওড়া-হুগলি-মেদিনীপুর প্রত্যেকটির জন্য থাকছে আলাদা রথ। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) আগামী দু’এক দিনের মধ্যেই দিল্লিতে সর্বভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সেখানেই রথযাত্রার দিনক্ষণ ও চূড়ান্ত পরিকল্পনা আলোচনা হবে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, প্রতিটি রথের সূচনায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব উপস্থিত থাকতে পারেন এবং রথগুলিকে আগের তুলনায় আরও আধুনিক, আকর্ষণীয় ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। আগের মতো বাসকে রথের আদলে সাজানো হলেও এ বার থাকবে ডিজিটাল স্ক্রিন, প্রচার ভিডিও, কর্মীদের সঙ্গে ইন্টারেকটিভ প্ল্যাটফর্ম এবং শক্তিশালী সাউন্ড সিস্টেম।
এক বিজেপি নেতার কথায়, “২০২১ সালে আমরা পাঁচ অঞ্চল থেকেই রথযাত্রা করেছিলাম। এ বারও একই অঞ্চল বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে এবার রথযাত্রা আগের তুলনায় আরও ব্যাপক, আরও স্মার্ট এবং আরও সংগঠিত হবে। আমাদের লক্ষ্য কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো।”
বিজেপির পরিকল্পনায় পরিষ্কার, যে সব এলাকায় ২০২১ সালে অল্প ব্যবধানে হেরেছিল বা যেখানে সংগঠন একটু মনোবল পেলে ফলাফলে বড় পরিবর্তন হতে পারত, সেই সব অঞ্চলেই মোদীর সভা হবে। একটি রাজ্য-স্তরের নেতার ভাষায়, “আমরা জেতা আসন ধরে রাখার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি সেইসব জায়গায় যেখানে সামান্য দূরত্বে আসন হাতছাড়া হয়েছিল। সেখানেই বড় সভা সবচেয়ে কার্যকরী।” দলের দাবি, এই কৌশলেই আগামী ভোটে শক্ত লড়াই সম্ভব। মোদীর প্রতি মানুষের আকর্ষণ এবং সংগঠনের জোর, দু’টিকে একত্র করে জোরালো ভোট-সরঞ্জাম তৈরি করতে চাইছে বিজেপি।
রানাঘাটে সম্ভাব্য সভা ঘিরে উত্তেজনা
নদীয়া জেলায় রানাঘাট (Ranaghat) বা আশপাশের অঞ্চলে মোদীর সভা হলে তা হবে এবারের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রথম বড় সভা। স্থানীয় বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দমদম, আলিপুরদুয়ার, দুর্গাপুর প্রতিটি সভাতে মানুষের ঢল প্রমাণ করেছে যে মোদীর উপস্থিতি সংগঠনকে প্রবল এনার্জি দেয় বলে দাবি বিজেপির। অন্যদিকে, যদিও তৃণমূল (Trinamool Congress) এই প্রস্তুতিকে কটাক্ষ করে বলছে, “মোদীর সভা করে বাংলায় লাভ কিছুই হয়নি, এবারও হবে না।” তবু রাজ্য রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, ডিসেম্বর থেকে মোদী-সভা এবং রথযাত্রা, দু’টির সমন্বয়ে বিজেপি যে বড়সড় প্রচারপর্ব শুরু করতে চলেছে, তা স্পষ্ট। উল্লেখ্য, আগামী ক’য়েক সপ্তাহেই পরিষ্কার হবে ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারপর্ব বাংলার ভোট রাজনীতিতে কতটা রঙ চড়াতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India South Africa relations, Modi Ramaphosa meeting | জোহানেসবার্গে মোদী-রামাফোসা বৈঠক: প্রযুক্তি, খনিজ সম্পদ ও সাংস্কৃতিক যোগসূত্রে জোর




