Sholay original climax, 50 years of Sholay | শোলে : ৫০ বছর পর ফের সিনেমা হলে ফিরছে বলিউডের কালজয়ী ছবি, কী থাকছে অনকাট সংস্করণে?

SHARE:

ছবিটি প্রথম মুক্তির দিনে যে বক্স অফিসে ঝড় তুলেছিল, তা নয়। জানেন কী, প্রথম সপ্তাহে মুম্বইয়ের প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ছিল হাতে গোনা! তখনকার বিতর্ক, সমালোচনা, সেন্সর বোর্ডের কাটছাঁট সবকিছুকে পেরিয়ে ধীরে ধীরে মানুষের মুখে মুখে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে জয়-ভীরুর দস্যু-রোম্যান্সে ভরা সেই মহাকাব্যিক অ্যাডভেঞ্চার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এমন পর্যায়ে পৌঁছয় ‘শোলে’, যে ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে যায় প্রতিটি চরিত্র জয় (অমিতাভ বচ্চন/Amitabh Bachchan), ভীরু (ধর্মেন্দ্র/Dharmendra), গব্বর সিং (আমজাদ খান/Amjad Khan), ঠাকুর বলদেব সিং (সঞ্জীব কুমার/Sanjeev Kumar) কিংবা বসন্তী (হেমা মালিনী/Hema Malini)।

স্নিগ্ধা বসু ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে যে কয়েকটি ছবি চিরকাল আলাদাভাবে উচ্চারিত হয়, ‘শোলে’ (Sholay) তাঁদের মধ্যে অন্যতম। “কিতনে আদমি থে”… “ইয়ে হাত মুঝে দে দে ঠাকুর”… “অংরেজ কি জামানেকে জেলর হ্যায়”… “চল ধরমো”… “বসন্তী, ইস কুত্তে কে সামনে মত নাচনা!” এই প্রতিটি সংলাপই এখনও ভক্তি, উন্মাদনা আর স্মৃতির সমান বাহক। ১৯৭৫ সালের সেই রমেশ সিপ্পি (Ramesh Sippy) পরিচালিত ছবিটি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় চলচ্চিত্রের মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। হলিউড ঘরানার নির্মাণ, দুর্দান্ত ক্যামেরা ও অ্যাকশন, তীব্র ড্রামা আর স্মরণীয় চরিত্র, সব মিলিয়ে ‘শোলে’ হয়ে ওঠে ইতিহাস।

ছবিটি প্রথম মুক্তির দিনে যে বক্স অফিসে ঝড় তুলেছিল, তা নয়। জানেন কী, প্রথম সপ্তাহে মুম্বইয়ের প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ছিল হাতে গোনা! তখনকার বিতর্ক, সমালোচনা, সেন্সর বোর্ডের কাটছাঁট সবকিছুকে পেরিয়ে ধীরে ধীরে মানুষের মুখে মুখে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে জয়-ভীরুর দস্যু-রোম্যান্সে ভরা সেই মহাকাব্যিক অ্যাডভেঞ্চার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এমন পর্যায়ে পৌঁছয় ‘শোলে’, যে ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে যায় প্রতিটি চরিত্র জয় (অমিতাভ বচ্চন/Amitabh Bachchan), ভীরু (ধর্মেন্দ্র/Dharmendra), গব্বর সিং (আমজাদ খান/Amjad Khan), ঠাকুর বলদেব সিং (সঞ্জীব কুমার/Sanjeev Kumar) কিংবা বসন্তী (হেমা মালিনী/Hema Malini)। সেই ছবিটিউ এবার তার ৫০তম বর্ষে পা দিচ্ছে, আর সেই উপলক্ষ্যেই নতুন চমক নিয়ে ফের বড় পর্দায় ফিরে আসছে ‘শোলে’। তবে এটি সে ‘শোলে’ নয়, যা এতদিন মানুষ দেখে এসেছে। এবার মুক্তি পাচ্ছে ‘দ্য শোলে আনকাট’ (The Sholay Uncut)। এমন একটি সংস্করণ, যেখানে দেখা যাবে সেইসব দৃশ্য, যেগুলো ১৯৭৫ সালে সেন্সরের কাঁচিতে বাদ পড়েছিল। আর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, সম্পূর্ণ নতুন ক্লাইম্যাক্স।

আরও পড়ুন : Ranbir Kapoor Deepika relationship | রণবীরের এক বাক্যে ফাঁস দীপিকার ‘রাগী’ সত্তা, রাগে ফোন ভেঙে ফেলেন দীপিকা পাড়ুকোন

সেন্সর বোর্ডে কেন থেমে গিয়েছিল আসল ক্লাইম্যাক্স?

নতুন এই মুক্তির সূত্র অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালে ছবিটি যখন সিবিএফসি-র (CBFC) হাতে সেন্সর সার্টিফিকেটের জন্য জমা দেওয়া হয়, তখনই আপত্তির সূত্রপাত। শোনা যায়, ছবির আসল ক্লাইম্যাক্স নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলে সেন্সর বোর্ডের একাধিক সদস্য। তাদের মতে, নির্মাতারা যে শেষ দৃশ্য সাজিয়েছিলেন, তা সেই সময়ের ভারতীয় দর্শকের জন্য অত্যন্ত সহিংস, এমনকী অস্বস্তিকর। সেন্সর বোর্ডের পক্ষ থেকে সরাসরি জানানো হয়েছিল, ক্লাইম্যাক্স না বদলালে ছবির মুক্তি সম্ভব নয়। রমেশ সিপ্পি এবং তাঁর টিম তখন বাধ্য হয়েই গল্পের শেষাংশ নতুন করে চিত্রায়ণ করেন। ফলে দর্শক যে ‘শোলে’ দেখে এসেছে এতদিন, তা আসলে পরিবর্তিত সংস্করণ। তাহলে বাদ পড়া আসল ক্লাইম্যাক্সে ছিল কী? বিশেষ সূত্রের দাবি, ঠাকুর বলদেব সিং চরিত্রে সঞ্জীব কুমারকে দেখানো হয়েছিল গব্বর সিংয়ের ওপর নির্মম প্রতিশোধ নিতে। দৃশ্যে গব্বরকে মারতে গিয়ে ঠাকুর তাঁর জুতোর মধ্যে লুকোনো ধারালো পেরেক দিয়ে বুকের ওপর সজোরে আঘাত করে চলেছেন। রক্ত ঝরছে, গব্বরের চিৎকার, আর প্রতিহিংসার উন্মাদনায় অন্ধ ঠাকুর, এই ক্লাইম্যাক্সকে সেন্সর বোর্ড “অত্যাধিক হিংসাত্মক” মন্তব্য করে বাদ দেয়। একজন সেন্সর সদস্য সে সময়ে নাকি বলেছিলেন, “দর্শকদের মানসিকতা তখনও এমন রক্তাক্ত প্রতিশোধের দৃশ্য গ্রহণ করার মতো প্রস্তুত নয়।” এমন মন্তব্যের পরেই দৃশ্যটি সরিয়ে দেওয়া হয়।

হিংসাত্মক দৃশ্য ছাড়াও আরও বেশ কিছু সিকোয়েন্স বাতিল হয়েছিল, কিছু সংলাপ, গব্বরের পুরোনো অত্যাচারের বিবরণ, বসন্তীকে নিয়ে আরও দীর্ঘ অংশ, এমনকী ডকুর (Dhanoo) ঘিরে একটি শোকাত্মক দৃশ্যও বাদ পড়ে শেষ পর্যন্ত।

অবশেষে ফিরছে আনকাট সংস্করণ

চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বছর পর দর্শকরা এবার সত্যিকারের ‘শোলে’ দেখতে পাবেন, যা রমেশ সিপ্পির মূল ভাবনার কাছাকাছি। এই সংস্করণে থাকবে প্রায় ২০ মিনিট নতুন ফুটেজ। বিশেষ করে গব্বর সিংয়ের মৃত্যু নিয়ে থাকা নিষিদ্ধ দৃশ্যটি যে প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে, তা ইতিমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বহু বছর পর এই পুনর্নির্মিত সংস্করণ বড় পর্দায় মুক্তি পাওয়ায় সিনেপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। ডিসেম্বরের ১২ তারিখ গোটা দেশে মুক্ত হতে চলেছে ‘দ্য শোলে আনকাট’। প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের মতে, পুরনো দর্শক যেমন স্মৃতি রোমন্থনের সুযোগ পাবেন, তেমনই নতুন প্রজন্মও দেখবে এক নতুন ধরনের ‘শোলে’, যা শুধুই ইতিহাস নয়, এক অনুভূতি। একজন ট্রেড বিশ্লেষক জানিয়েছেন, “এই রিলিজ শুধু নস্ট্যালজিয়া নয়, ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসে একটি বড় ঘটনা। ‘শোলে’র আসল ক্লাইম্যাক্স জনসমক্ষে আসা মানেই এক প্রজন্ম-ব্যাপী অপেক্ষার অবসান।” বলিউডের ইতিহাসে বহু ছবি এসেছে ও গেছে। কিন্তু ৫০ বছর পরও ‘শোলে’ এখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Priyanka Chopra reaction on Parineeti baby | দীপাবলির আনন্দে নতুন আলো, পরিণীতি-রাঘবের ঘরে পুত্রসন্তান, ‘মাসি’ হয়ে উচ্ছ্বসিত প্রিয়াঙ্কা চোপড়া!

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন