Chanakya Niti in Bengali, relationship advice | সতর্ক করেছিলেন চাণক্য, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে স্ত্রীর এই পাঁচটি কথা স্বামীকে বলা একেবারেই বলবেন না

SHARE:

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক তুলনা মানেই দ্বন্দ্বের সূচনা।' বিয়ের পর স্ত্রীর উচিত নয় নিজের পরিবারের সঙ্গে স্বামীর পরিবারের তুলনা করা। যেমন, 'আমার বাড়িতে এমন হয় না' বা 'আমার বাবা-মা অনেক বেশি সহনশীল' এই ধরনের কথা পুরুষকে মানসিকভাবে আঘাত করে। এতে স্বামী হীনমন্যতায় ভোগেন এবং দুই পরিবারের সম্পর্কের ভারসাম্যও নষ্ট হয়। তাই তুলনা নয়, বোঝাপড়াই হোক সম্পর্কের ভিত্তি।

মধুজা সান্যাল ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক পৃথিবীর সবচেয়ে সূক্ষ্ম, কোমল ও জটিল সম্পর্কগুলির মধ্যে অন্যতম। এই সম্পর্কে যেমন বন্ধুত্ব থাকে, তেমনি থাকে ভালবাসা, শ্রদ্ধা, সহানুভূতি এবং একে অপরকে বোঝার ক্ষমতা। কিন্তু প্রাচীন ভারতের জ্ঞানী, দার্শনিক ও রাষ্ট্রনীতিবিদ আচার্য চাণক্য (Chanakya) বলেছেন “অতি ঘনিষ্ঠতাও সর্বদা শুভ ফল দেয় না।” তাঁর মতে, স্বামী যতই ঘনিষ্ঠ বা বন্ধুত্বপূর্ণ হোক না কেন, কিছু বিষয় স্ত্রীকে কখনও বলা উচিত নয়। কারণ, এক মুহূর্তের ভুলে উচ্চারিত কথা আজীবন সম্পর্কের ভিত কাঁপিয়ে দিতে পারে।চাণক্যের এই শিক্ষাগুলি আজকের যুগেও আশ্চর্যরকমভাবে প্রাসঙ্গিক। আধুনিক সম্পর্কেও অনেক সময় অল্প কিছু কথাই হয়ে ওঠে দূরত্বের কারণ। চলুন জেনে নেওয়া যাক, আচার্য চাণক্যের মতে স্ত্রী’র কোন পাঁচটি কথা স্বামীকে বলা একেবারেই উচিত নয়-

পরিবারের সদস্যদের তুলনা কখনও নয়

চাণক্য বলেছেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক তুলনা মানেই দ্বন্দ্বের সূচনা।’ বিয়ের পর স্ত্রীর উচিত নয় নিজের পরিবারের সঙ্গে স্বামীর পরিবারের তুলনা করা। যেমন, ‘আমার বাড়িতে এমন হয় না’ বা ‘আমার বাবা-মা অনেক বেশি সহনশীল’ এই ধরনের কথা পুরুষকে মানসিকভাবে আঘাত করে। এতে স্বামী হীনমন্যতায় ভোগেন এবং দুই পরিবারের সম্পর্কের ভারসাম্যও নষ্ট হয়। তাই তুলনা নয়, বোঝাপড়াই হোক সম্পর্কের ভিত্তি।

সত্য কথা লুকিয়ে রাখবেন না 

চাণক্য বলেছেন, ‘যে সম্পর্কে মিথ্যা আছে, সেখানে স্থায়ী শান্তি থাকতে পারে না।’ অর্থাৎ স্ত্রী’র নিজের স্বামীর কাছে সব সময় সত্য বলা উচিত। ছোটখাটো বিষয়ে মিথ্যে বললেও তা ধীরে ধীরে বিশ্বাস ভাঙার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একবার আস্থা ভাঙলে তা আর ফিরে আসে না। তাই চাণক্যের মতে, সত্য বলার অভ্যাস দাম্পত্যকে আরও দৃঢ় করে তোলে।

অন্য পুরুষের সঙ্গে স্বামীর তুলনা এড়িয়ে চলুন 

চাণক্যের মতে, ‘তুলনা মানুষের আত্মসম্মান ভেঙে দেয়।’ স্ত্রীর কখনও নিজের স্বামীর তুলনা অন্য কোনও পুরুষের সঙ্গে করা ঠিক নয়। যেমন ‘অমুক কত রোমান্টিক’ বা ‘ওর স্বামী কত দায়িত্বশীল’ এসব মন্তব্য পুরুষের মনে হীনমন্যতা ও বিরক্তি তৈরি করে। চাণক্য বলেছেন, স্বামীর পাশে থেকে তাঁকে উৎসাহ দিন, তবেই সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় হবে।

অর্থনৈতিক বিষয়েও সচেতন থাকুন 

চাণক্যের মতে, অর্থনৈতিক বিষয়ে স্বচ্ছতা যেমন দরকার, তেমনি বুদ্ধিও প্রয়োজন। তিনি বলেছেন, ‘সব কথা প্রকাশ করা সব সময় বুদ্ধিমানের কাজ নয়।’
স্ত্রী’র পক্ষে নিজের সঞ্চয় বা আর্থিক পরিকল্পনার কিছু অংশ গোপন রাখা খারাপ নয়, তা বিচক্ষণতার পরিচয়। কারণ সংসারের আর্থিক ভারসাম্য অনেক সময় নির্ভর করে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপর। তবে সতর্কতা থাকা চাই যেন গোপনীয়তা প্রতারণায় না পরিণত হয়।

রাগের মাথায় কিছু বলা থেকে বিরত থাকুন

চাণক্য সতর্ক করে বলেছেন, ‘রাগে বলা কথা আগুনের মতো, যা সম্পর্কের সব সেতু ভস্ম করে দিতে পারে।’ এক মুহূর্তের রাগে বলা অপমানজনক কথা বছরের পর বছর মনে থেকে যায়। অনেক দাম্পত্য ভাঙনের নেপথ্যে এই তুচ্ছ রাগই প্রধান কারণ। তাই যতই রাগ হোক, নীরব থাকা শ্রেয়। পরে শান্ত হয়ে আলোচনা করলে ভুল বোঝাবুঝি মিটে যায়, সম্পর্কও থাকে সুন্দর।

দাম্পত্যে ভারসাম্যই চাবিকাঠি 

চাণক্য বলেছেন, ‘দাম্পত্য সম্পর্কের সৌন্দর্য তখনই স্থায়ী হয়, যখন দু’জনেই একে অপরের সীমা বোঝে।’
অর্থাৎ সম্পর্কের সাফল্য নির্ভর করে ভারসাম্যের উপর। স্ত্রী যেমন কিছু কথা না বললে ভালো, তেমনি স্বামীরও উচিত স্ত্রী’র প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। সম্পর্কের মূলে থাকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নীরব বোঝাপড়া, দাবিদাওয়া নয়।

আজকের যুগে চাণক্যের দর্শন কতটা প্রাসঙ্গিক 

আধুনিক যুগে সম্পর্কের ভাঙন বেড়েই চলেছে। কর্মব্যস্ততা, মানসিক চাপ, আর্থিক দুঃশ্চিতা, সব মিলিয়ে দাম্পত্যে তৈরি হচ্ছে ফাটল। ঠিক এই জায়গায় চাণক্যের বাণী এখনও পথ দেখায়। তাঁর মতে, সম্পর্ক টিকে থাকে যখন দু’জন মানুষ একে অপরের ভাবনা ও সীমা বুঝতে শেখে। চাণক্যের দৃষ্টিতে, স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের পরিপূরক, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। তাই প্রতিদিনের ছোট্ট কিছু আচরণ যেমন মিষ্টি কথা, শ্রদ্ধা, ধৈর্য এগুলিই সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করে।
চাণক্যের (Chanakya) শিক্ষা বহু বছর পুরনো হলেও তার প্রাসঙ্গিকতা আজও অটুট। তিনি বলেছিলেন, ‘বাক্য নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই সম্পর্ক টিকে থাকে।’ একটি ভুল কথা যেমন ক্ষতি করে, তেমনি একটি নরম আচরণ গড়ে তোলে অটুট বন্ধন। তাই স্বামী যতই বন্ধুর মতো হোন না কেন, কিছু কথা না বলাই শ্রেয়, কারণ কিছু নীরবতা হাজার শব্দের চেয়ে বেশি অর্থবহ।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক তুলনা মানেই দ্বন্দ্বের সূচনা।' বিয়ের পর স্ত্রীর উচিত নয় নিজের পরিবারের সঙ্গে স্বামীর পরিবারের তুলনা করা। যেমন, 'আমার বাড়িতে এমন হয় না' বা 'আমার বাবা-মা অনেক বেশি সহনশীল' এই ধরনের কথা পুরুষকে মানসিকভাবে আঘাত করে। এতে স্বামী হীনমন্যতায় ভোগেন এবং দুই পরিবারের সম্পর্কের ভারসাম্যও নষ্ট হয়। তাই তুলনা নয়, বোঝাপড়াই হোক সম্পর্কের ভিত্তি।
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Chanakya : চার্ণক্য দর্শনে আধুনিক বার্তা  জীবনসঙ্গিনী শুধু সহচরী নয়, ব্যবসার সঙ্গীও হোন

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন