প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : বলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়ায় কিছু অলংকার যেন কেবল সাজ নয়, হয়ে ওঠে পরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। যেমন কাজল -এর হাতে ‘ওঁ’ লেখা আংটি, সলমন খানের বিখ্যাত নীল পাথরের ব্রেসলেট, কিংবা ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন (Aishwarya Rai Bachchan)-এর আঙুলে ঝলমলে ‘ভি’ চিহ্নের আংটি। বছরের পর বছর ধরে এই আংটিটি তাঁর অনামিকায় স্থায়ী আসন নিয়েছে। কোনও ইভেন্ট, রেড কার্পেট, কিংবা সিনেমার সেট- ঐশ্বর্যার হাতে এই আংটি যেন তাঁর স্বাক্ষর চিহ্ন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কেন তিনি কখনও এটি খোলেন না? নেপথ্যে কি কোনও গোপন অর্থ লুকিয়ে আছে? বলি মহলের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানাচ্ছে, ঐশ্বর্যার আঙুলে থাকা আংটির নাম ‘ভ্যাঙ্কি আংটি’ (Vanki Ring) বা ‘ভাদুঙ্গিলা’ (Vadungila)। এটি কেবল সৌন্দর্যের অলংকারই নয়, তা দক্ষিণ ভারতীয় বিবাহ ঐতিহ্যের এক গভীর চিহ্ন। এই আংটি সাধারণত বিবাহিত নারীরা পরেন, যা তাদের দাম্পত্য জীবনের চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত। দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু, কেরালা ও অন্ধ্র প্রদেশে বিয়ের দিন কনের হাতে এই বিশেষ আংটি পরিয়ে দেওয়ার রীতি রয়েছে।
সাধারণত কনের বৌদি বা কাকিমা এই আংটি উপহার দেন, যা কেবল গয়না নয়, তা আশীর্বাদের চিহ্ন হিসেবে গণ্য হয়।

বলিউড সূত্রে খবর, ঐশ্বর্যা রাইয়ের আঙুলে দেখা ‘ভ্যাঙ্কি আংটি’টি হিরের তৈরি। তবে এই আংটি সোনা, রুপো বা প্লাটিনাম দিয়েও বানানো হয়। প্রাচীনকালে দক্ষিণ ভারতের রাজপরিবারের নারীরা প্রথম এই আংটি পরা শুরু করেন। তাদের কাছে এটি ছিল সামাজিক মর্যাদা ও রাজবংশীয় ঐতিহ্যের প্রতীক। আজও সেই ঐতিহ্য বয়ে নিয়ে চলেছেন অনেক দক্ষিণ ভারতীয় নারী, এবং ঐশ্বর্যা যেন সেই ঐতিহ্যকেই আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরেছেন।ঐশ্বর্যার ঘনিষ্ঠ এক ফ্যাশন ডিজাইনার জানিয়েছেন, “তিনি (ঐশ্বর্যা রাই) খুব সেন্টিমেন্টাল মানুষ। জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কিছু জিনিস তাঁর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। আংটিটিও তেমনই একটি স্মৃতি।” অনেকে দাবি করেন, এই ‘ভি’ চিহ্নের আংটির সঙ্গে তাঁর স্বামী অভিষেক বচ্চন (Abhishek Bachchan) -এর সম্পর্কও গভীর। বিয়ের সময় অভিষেক যে মঙ্গলসূত্র পরিয়েছিলেন, সেটি ভেঙে নতুন করে এই আংটি তৈরির কথা শোনা যায় বলিউডের অন্দরমহলে। তবে এ বিষয়ে ঐশ্বর্যা নিজে কখনও মুখ খোলেননি।

দক্ষিণ ভারতের গয়না ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ‘ভ্যাঙ্কি আংটি’র নকশা সাপের প্যাঁচানো শরীরের মতো হয়। এর মানে হল ‘শুভ শক্তির সুরক্ষা’। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এই আংটি পরলে অশুভ শক্তি দূরে থাকে এবং দাম্পত্য জীবন স্থায়ী হয়। বিয়ের পর নববধূ শ্বশুরবাড়ি প্রবেশ করার সময় হাতে এই আংটি পরেন-এ যেন এক রীতিনিষ্ঠ আচার।
ঐশ্বর্যার হাতে সেটি তাই শুধু গয়না নয়, বরং এক আধ্যাত্মিক আশীর্বাদের চিহ্ন বলেই মনে করেন ভক্তরা।
তবে শুধু দক্ষিণ ভারতেই নয়, এখন এই আংটির প্রভাব পৌঁছে গিয়েছে বাংলাতেও। বহু বাঙালি নববধূ বিয়ের পরে সোনার বা রুপোর ‘ভি’ আকারের আংটি পরছেন। গয়নার দোকানগুলোতেও এখন দেখা যাচ্ছে ‘ভ্যাঙ্কি আংটি’র চাহিদা। বিশেষ করে ঐশ্বর্যার ফ্যাশন স্টেটমেন্ট অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে তরুণ প্রজন্মের কাছে। কলকাতার একজন স্বর্ণকার বললেন, “ঐশ্বর্যা রাই (Aishwarya Rai Bachchan) -এর হাতে ওই আংটি দেখার পর অনেক মেয়ে এসে বলে, ওর মতো একটা ডিজাইন চাই। আগে এই ডিজাইন শুধু দক্ষিণের কাস্টমাররাই চাইতেন, এখন বাঙালিদের মধ্যেও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।”

আশ্চর্যের বিষয়, ঐশ্বর্যা বিয়ের পর অনেক সময় বাঁ হাতে ‘নোয়া’ (iron bangle) পরে থাকতে দেখা গিয়েছে। বাঙালি নারীরা সাধারণত এই গয়না পরেন দাম্পত্য জীবনের শুভ চিহ্ন হিসেবে। অনেকের মতে, শাশুড়ি জয়া বচ্চন (Jaya Bachchan) বাঙালি হওয়ায় ঐশ্বর্যা হয়ত সেই সংস্কৃতিরও প্রতি শ্রদ্ধা রেখেছেন। দুই সংস্কৃতির ঐতিহ্য, দক্ষিণ ভারতের ‘ভ্যাঙ্কি আংটি’ এবং বাংলার ‘নোয়া’ মিলে যেন তাঁর জীবনে এক অনন্য মিলন তৈরি করেছে। এখনও যখন ঐশ্বর্যা কোনও আন্তর্জাতিক ইভেন্টে হাজির হন, ক্যামেরার ফ্ল্যাশে তাঁর পোশাকের সঙ্গে সেই আংটির ঝলক বিশেষভাবে ধরা পড়ে। গয়না বিশারদদের মতে, এই আংটি শুধু ঐশ্বর্যার ব্যক্তিত্বকেই নয়, তা ভারতীয় নারীর ঐতিহ্য, শ্রদ্ধা এবং ভালবাসার চিহ্ন হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। বলি ইন্ডাস্ট্রির একজন সিনিয়র সাংবাদিকের কথায়, “ঐশ্বর্যা রাই (Aishwarya Rai Bachchan) এমন এক তারকা, যিনি ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটান নিজের স্টাইলের মাধ্যমে। তাঁর আংটি কেবল সৌন্দর্যের নয়, এটি প্রেম, সংস্কৃতি, এবং আত্মপরিচয়েরও চিহ্ন।”
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Aishwarya Rai Abhishek Bachchan relationship, Filmfare Awards 2025 Bollywood | চোখে জল নিয়ে ঐশ্বর্যকে ধন্যবাদ অভিষেকের, বচ্চনবধূ ঐশ্বর্যর নীরবতা! নেটপাড়ায় শুরু জল্পনা




