Anganwadi food contamination | অঙ্গনওয়াড়ির খাবারে সাপের খোলস, চাপড়ায় আতঙ্ক, ২৫ শিশু অসুস্থ, হাসপাতালে অভিভাবকদের বিক্ষোভ

SHARE:

নদীয়ার চাপড়া ব্লকের ডোমপুকুর (Dompukur) এলাকায় একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে মধ্যাহ্নভোজে সাপের খোলস পাওয়ায় প্রায় ২০–২৫ শিশু অসুস্থ; চাপড়া গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তদন্তে খাদ্য ও নমুনা পাঠানো হয়েছে- অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কৃষ্ণনগর : চাপড়া ব্লকের  ডোমপুকুর এলাকার একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের (Anganwadi Centre) মধ্যাহ্নভোজে (mid-day meal) খিচুড়ির ভেতর থেকে সাপের খোলস বেরিয়ে আসার ঘটনা বুধবার দুপুরে পুরো গ্রামকে কেঁপে দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, খাওয়ানোর কিছুক্ষণ পরই এক শিশুর মা খাবারের মধ্যে সেই খোলস দেখে সন্তানকে ডিঙিয়ে দিলে তাতেই আতঙ্ক ছড়ায়। কিছুক্ষণে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন শিশু বমি, মাথা ঘোরা ও পেট ব্যথার অলক্ষ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ে; নিহত না হলেও ঘটনায় স্থানীয় স্তরে চরম রোষ এবং বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছে।

আরও পড়ুন : Mamata Banerjee D.Litt, Yokohama University Honorary Degree | জাপানের ইয়োকোহামা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ডিলিট মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে, জানালেন আগামী বছরই জাপান সফরে যাবেন

জরুরি ভিত্তিতে শিশুদের চাপড়া গ্রামীণ হাসপাতাল (Chhapra Rural Hospital) এবং কাছাকাছি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতালে কর্তব্যরত এক চিকিৎসক বলেন, “প্রাথমিকভাবে সব শিশুদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে; কিন্তু বমি-অসুবিধা ও পেটব্যথার লক্ষণ ছড়িয়ে পড়ায় আমরা কিছুজনের রক্ত ও পায়খানা নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি। আপাতত কেউ বিপদমুক্ত হলেও সকলেই মানসিকভাবে আতঙ্কগ্রস্থ।” স্থানীয় সূত্রের দাবি, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটির খাবারের গুণগত মান নিয়ে বহুদিন ধরে অসন্তোষ ছিল। এক অভিভাবক বলেন, “অনেকদিন ধরেই খাবারের মান নিচু, তবু কাউকে নজর ছিল না। আজকের ঘটনার পর কারও শিশুকে আর ওই কেন্দ্রে পাঠানো হবে না।” অপর একটি কোণ থেকে আরও একজন অভিভাবক বললেন, “খুবই ভয়াবহ ব্যাপার। আমাদের সন্তানদের সুরক্ষা কোথায়? দায়িত্বশীলরা যেন দ্রুত ব্যাখ্যা করে।”

ঘটনাস্থলে পৌঁছে চাপড়া থানা (Chhapra Police Station) ও ব্লক প্রশাসনের (Block Administration) কর্মকর্তারা দ্রুত তদন্ত শুরু করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রের রান্নার কক্ষ ও খাবারের বাক্স থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এলাকার ব্লক শিক্ষা অফিসার (Block Education Officer) জানান, “খাদ্যের নমুনা ল্যাবে পাঠানো হয়েছে; ফলাফল এলেই বিস্তারিত জানানো হবে। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে, জানিয়ে দিতে চাই, আমরা নীরব থাকব না।” এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে খাবারে কোনও বিদেশী বস্তু মিশে গিয়েছিল, এমনকী কেউ শখ করে বা দুর্ঘটনাবশত কিছু মিশিয়েছে কি না, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। সমস্ত ভিডিও ও সাক্ষী বিবৃতির ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।”

গ্রামবাসীদের কথায়, ঘটনার সময় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে প্রায় ৩৫-৪০ জন ছোটগল্পের শিশুকে খাওয়ানো হচ্ছিল। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “হঠাৎই এক শিশুর মা বলে ওঠে, খাবারে কিছু আছে, দেখো- সে সাপের খোলস টেনে ধরল। এরপরই রকমারি আওয়াজ। অভিভাবকরা ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। অনেকে বলল যেন এটি কোনও মশলার কিছু জিনিস নয়, স্পষ্টত তা খোলস।” স্থানীয় স্বাস্থ্য আধিকারিকদের (Health Officer) দাবি, যদি পরীক্ষায় বেরিয়ে আসে যে খাবারে বিষমিশ্রণ ছিল, তাহলে এটি গভীর অভিযোগ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে সরকারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্লক প্রসাশন সূত্রে জানানো হয়েছে, ঐ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সব ক্রয় রেকর্ড ও সরবরাহ নথি তল্লাশি করা হচ্ছে- কোনও অবৈধ বা অননুমোদিত কনট্রাক্টর খাবার সরবরাহ করেছিল কি না, তাও দেখা হচ্ছে।

ঘটনায় জনগণের ভেতর ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে, চাপড়া বাজার ও হাসপাতাল সামনের সড়কে এক সময় অভিভাবকরা বিক্ষোভও করেছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত দায়ীদের কঠোর শাস্তি হবে না এবং কেন্দ্রের খাদ্য নিরাপত্তা পুনরায় নিশ্চয়তা পাবে না, ততদিন আমাদের শিশুরা আর তাতে যাবে না।” এক অভিভাবক বলেন, “এই কেন্দ্রই তো অনেক শিশুর একমাত্র পুষ্টির উৎস, তাই আমরা আরও বেশি সচেতন।” অপরদিকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের প্রাথমিক ইনচার্জ (Anganwadi In-Charge) সংবাদমাধ্যমকে জানান, “এতটাই ভয়ঙ্কর যে আমি নিজেও হতবাক। আমরা কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুদের ক্ষতি করার চিন্তা করতে পারি না। আমরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করছি এবং তদন্তে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকবে।” তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন যে কেন্দ্র নিয়মিতভাবে সরবরাহিত রুটিন অনুযায়ী খাবার পেয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য দফতরের (District Health Department) এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “চিকিৎসা খরচ রাজ্য সরকারের (State Government) তরফ থেকে বহন করা হবে। আহত শিশুরা দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে, এটাই আমাদের অগ্রাধিকার।” একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন অবিলম্বে সকল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে খাদ্য নিরাপত্তা পরীক্ষা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। এই ঘটনা সময়োপযোগীভাবেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। বিশেষত গ্রামীণ অঞ্চলে যেসব কেন্দ্র রয়েছে, ওখানে ডিলিভারির মাধ্যমে খাওয়ানো হলে পর্যবেক্ষণ কেমন, এটি সরকারি নজরদারির বাইরে গেলে শিশুদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা জানিয়েছেন, তারা চেয়েছেন যেন তদন্ত স্বচ্ছ ও দ্রুত হয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রশাসন ইতিমধ্যে আশ্বাস দিয়েছে, ফলাফল প্রকাশিত হলে সবকিছু প্রকাশ্যে তুলে ধরা হবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের বরখাস্ত ও চিহ্নিত করা হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর চাপড়ার (Chhapra) রামেশ্বরপুর (Rameshwarpur) গ্রামবাসী এখনো শোক ও রোষের মধ্যে, শিশুদের নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীয় খাদ্য ব্যবস্থার পুনর্গঠন এখন সর্বোচ্চ অল্পায়।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : Mobile Recharge Cost in India | মোবাইল রিচার্জের বাড়তি চাপ: সংকটে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার, জরুরি পদক্ষেপের দাবি

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন