Partha Chatterjee release | জেল থেকে মুক্ত হয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম বিবৃতিতে আত্মবিশ্বাসের সুর

SHARE:

জেলমুক্তির পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। বললেন, “সত্যের জয় হবে।” বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে বিচার চাইবেন প্রাক্তন মন্ত্রী। জানুন মুক্তির পর তাঁর প্রথম দিন ও আবেগঘন মুহূর্তগুলোর কথা।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : তিন বছর তিন মাস ১৯ দিন পর অবশেষে নিজের বাড়িতে ফিরলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। নিয়োগ মামলায় দীর্ঘ কারাবাস শেষে মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে মুক্তি পান তিনি। মুক্তির পরই প্রথম আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি জানালেন, “আইনের প্রতি আমি সবসময় আস্থাশীল ছিলাম। প্রাথমিক পর্যায়ে সেই সত্যের জয় হয়েছে। আগামী দিনেও সত্যের জয় হবেই।” এই বক্তব্যে জেলমুক্ত পার্থের আত্মবিশ্বাসের ছাপ স্পষ্ট। দীর্ঘ নীরবতার পর নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বেহালা পশ্চিম (Behala Paschim)‌ -এর মানুষদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। যাঁরা আমাকে সৎ মানুষ মনে করে টানা পাঁচ বার ভোটে জিতিয়েছেন, তাঁদের কাছেই বিচার চাইব।”

২০০১ সাল থেকে পরপর পাঁচবার বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে জিতেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এক সময় রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী এবং শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এখন সেই রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে ফিরে এলেন নাকতলার বাড়িতে। মঙ্গলবার দুপুর ২টা ২০ মিনিট নাগাদ বাইপাসের ধারের হাসপাতালে হুইলচেয়ারে চেপে বাইরে আসেন তিনি। মুখে নীল রঙের মাস্ক, পরনে নীল-সাদা ফুলছাপ পাঞ্জাবি। বাইরে বেরিয়েই মুখোমুখি হন সমর্থকদের ভিড়ের। ‘পার্থদা জিন্দাবাদ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর। কেউ ফুল হাতে ছুটে আসেন, কেউ আবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবেগে ভেসে যান পার্থও, চোখে জল নিয়ে কিছুক্ষণ নীরব থাকেন, কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি সংবাদমাধ্যমকে। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে নাকতলার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। গাড়ির পাশে পাশাপাশি ছুটছিলেন ডজনখানেক বাইক, তাতে চেপে পার্থ অনুগামীরা। কেউ পতাকা হাতে, কেউ ব্যানার। পার্থ গাড়ির ভিতরে বসে হাতজোড় করে নমস্কার জানান। সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস এমনই ছিল যে, তাঁর গাড়ি এগোনোই কঠিন হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ একুশ-তম কিস্তি)

বাড়িতে পৌঁছেই তাঁকে বরণ করে নেন পরিবারের সদস্যরা। ভাইয়ের স্ত্রী আর কন্যার হাত ধরে পা রাখেন নিজের বাড়ির ভিতরে। উপস্থিত ছিলেন পার্থের ভাইও। দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় পর প্রিয়জনদের সামনে দাঁড়িয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। ভাইয়ের মেয়ে তাঁকে সান্ত্বনা দেন। বাড়িতে প্রবেশ করার পর কিছুক্ষণ নীরব থেকে প্রয়াত মামা, বিশিষ্ট গীতিকার শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্মরণ করেন প্রাক্তন মন্ত্রী। পরিবারের আবেগঘন পরিবেশের বাইরে তখনও চলছে স্লোগান, ‘পার্থদা জিন্দাবাদ’। স্থানীয় অনুগামীদের অনেকেই জিজ্ঞেস করেন, “কবে বেহালায় ফিরছেন দাদা?”

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৩ জুলাই কলকাতার নাকতলার বাড়ি থেকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল ইডি (ED)। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়। সেই থেকে তিনি প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দী ছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) ক’য়েক মাস আগেই নির্দেশ দিয়েছিল, সিবিআই (CBI) মামলার বিচার শুরু হলেই পার্থ, এসএসসি-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য (Subires Bhattacharya) ও উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিংহের (Shantiprasad Sinha) শর্তাধীন জামিন মঞ্জুর করা যাবে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ছিল, ১৪ নভেম্বরের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে চূড়ান্ত জামিন মঞ্জুর করতে হবে। সোমবার সেই সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। এরপর আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মুক্তির নির্দেশ দেন। আদালতের নথি জেল কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছোনোর পর মঙ্গলবার তাঁর মুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে পার্থের এই মুক্তিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে আলোচনা। তৃণমূলের (TMC) শীর্ষ নেতৃত্ব আপাতত নীরব থাকলেও, তৃণমূলের একাংশের মতে, “পার্থদা সবসময় দলেরই মানুষ ছিলেন। সময়ই সব প্রশ্নের উত্তর দেবে।” অন্যদিকে বিরোধীরা বলছেন, “মামলা এখনও চলছে, তাই আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।” রাজনৈতিক বিশ্লেষক অনিন্দ্য সেন বলেন, “পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই বিবৃতি নিঃসন্দেহে একটি বার্তা বহন করে, তিনি এখনও আত্মবিশ্বাসী যে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবেন। তবে রাজনৈতিকভাবে এই প্রত্যাবর্তন কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময় বলবে।”

এদিকে পার্থের মুক্তিকে কেন্দ্র করে বেহালা পশ্চিমে (Behala Paschim) তাঁর অনুগামীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ। কেউ পায়েস রান্না করছেন, কেউ মিষ্টি বিলি করছেন। এলাকার এক বয়স্ক মহিলা বলেন, “আমরা জানতাম, আমাদের পার্থদা (Partha Chatterjee)‌ সৎ মানুষ। ওর সৎ কাজের জন্যই বারবার জিতেছে। এখন ও বাড়ি ফিরেছে, আমরা খুশি।” তবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে তিনি নিজের বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছেই তিনি তাঁর ন্যায়ের দাবি জানাবেন। তাঁর কথায়, “যাঁরা আমাকে সৎ মনে করেন, তাঁদের সামনে দাঁড়িয়েই আমি বিচার চাইব।”
এ যেন রাজনীতির মঞ্চে এক নীরব প্রত্যাবর্তনের সূচনা, যেখানে আবারও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে তাঁর সেই একটাই বিশ্বাস, “সত্যের জয় হবেই।”

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mamata on GST blunder | জিএসটি সম্পর্কে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন