Louvre Museum robbery, Paris Louvre heist 2025 | ল্যুভর ডাকাতি রহস্যে নতুন মোড়: দুই সন্দেহভাজন গ্রেফতার, চুরি হওয়া গয়নার হদিস করতে ছক কষছে পুলিশ

SHARE:

ফরাসি প্রসিকিউটর অফিসের মুখপাত্র (Spokesperson) লর বেকু (Laure Beccuau) জানিয়েছেন, “শনিবার রাতে ধারাবাহিক অভিযানের পর দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের একজনকে প্যারিসের শার্ল দ্য গোল বিমানবন্দরে (Charles de Gaulle Airport) দেশ ছাড়ার আগেই আটক করা হয়।” পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে, এবং দুজনই পূর্বে চুরির মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ প্যারিস (Paris), ২৬ অক্টোবর: বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক প্রতীক হিসেবে পরিচিত ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের (Paris) ল্যুভর জাদুঘর (Louvre Museum) সম্প্রতি পরিণত হয়েছিল এক দুঃসাহসিক ডাকাতির মঞ্চে। দিনের আলোয়, ব্যস্ত সময়ে ঘটে যাওয়া সেই ডাকাতি কাণ্ডে চমকে ওঠে গোটা ফ্রান্স। প্রায় ১০ কোটি ডলারের (USD 100 million) বেশি মূল্যের অমূল্য গয়না লোপাট হয় মাত্র চার মিনিটে। আর সেই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে অবশেষে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে ফরাসি পুলিশ। তদন্তকারীরা এখন খুঁজছেন, ওই চক্রের বাকিদের বলে সূত্রের খবর।

ফরাসি প্রসিকিউটর অফিসের মুখপাত্র (Spokesperson) লর বেকু (Laure Beccuau) জানিয়েছেন, “শনিবার রাতে ধারাবাহিক অভিযানের পর দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের একজনকে প্যারিসের শার্ল দ্য গোল বিমানবন্দরে (Charles de Gaulle Airport) দেশ ছাড়ার আগেই আটক করা হয়।” পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে, এবং দুজনই পূর্বে চুরির মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, গত রবিবার সকালে, যখন ল্যুভর মিউজিয়ামের দরজা খোলা হচ্ছিল, তখনই একটি চারজনের দল সুসংগঠিতভাবে ভিতরে প্রবেশ করে। তারা একটি মালবাহী লিফট ব্যবহার করে জানালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। তাদের টার্গেট ছিল বিশেষ দু’টি প্রদর্শনী বাক্স, যেখানে সংরক্ষিত ছিল ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট (Napoleon Bonaparte) এবং সাম্রাজ্ঞী জোসেফিন (Empress Josephine) -এর গয়না।
মিউজিয়ামের এক কর্মী জানিয়েছেন, “সবকিছু এত দ্রুত ঘটেছিল যে আমরা কল্পনাও করতে পারিনি কেউ ভিতরে ঢুকে গেছে। আমাদের নিরাপত্তা টিম পৌঁছানোর আগেই তারা গয়না নিয়ে বেরিয়ে পড়ে।”

মাত্র চার মিনিটের মধ্যে ‘অপারেশন’ শেষ করে ওই চোরেরা সিঁড়ি বেয়ে পালিয়ে যায়, এরপর অদৃশ্য হয়ে যায় শহরের ভিড়ে। পুলিশের ধারণা, ডাকাত দলটি পেশাদার অপরাধচক্রের অংশ, যারা আগেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মানচিত্র জেনে রেখেছিল। ফরাসি সংস্কৃতি মন্ত্রী রাশিদা দাতি (Rachida Dati) বলেছেন, “এটি নিছক চুরি নয়, এটি এক সাংস্কৃতিক হামলা। ফ্রান্সের ঐতিহ্যের ওপর আঘাত হেনেছে এই ঘটনা। ল্যুভরের মতো বিশেষ স্থানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা আমরা নতুন করে মূল্যায়ন করছি।” তদন্তকারীদের দাবি, ল্যুভরের বাইরের নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলির মধ্যে কিছুদিন ধরেই সমস্যা ছিল, যার সুযোগ নিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। যদিও এখন ফরেনসিক টিম উদ্ধার করেছে কয়েকটি হেলমেট, গ্লাভস, এমনকী ওই লিফটের অংশবিশেষ, যাতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ডিএনএ প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “এটি এমনভাবে পরিকল্পিত অপরাধ, যা সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে। প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল গণনা করা।” অন্যদিকে, ধৃত দুই ব্যক্তিকে আপাতত প্যারিসের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টে (CID Paris) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাদের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে, পুরো চক্রে আরও তিনজন সক্রিয় সদস্য ছিল, যারা ল্যুভর থেকে পালানোর পর আলাদা হয়ে যায়। তদন্তকারীরা বিশ্বাস করেন, চুরি হওয়া গয়নাগুলির কিছু ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক কালোবাজারে পাচার করা হয়েছে। এক অভিজ্ঞ আর্ট ক্রাইম বিশ্লেষক পল ডুরাঁ (Paul Durand) মন্তব্য করেন, “এই ধরনের মূল্যবান ঐতিহাসিক গয়না খুব সহজে বিক্রি করা যায় না। তাই সম্ভবত এগুলো অর্ডার করা অপরাধ, কোনও প্রাইভেট কালেক্টরের জন্য।”

চুরি যাওয়া গয়নাগুলির মধ্যে ছিল নেপোলিয়নের ব্যবহৃত স্বর্ণখচিত তলোয়ার, জোসেফিনের হীরের হার এবং রাজকীয় টায়ারা, যেগুলির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মূল্য অপরিমেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলোর প্রতিটি আইটেম ফরাসি ইতিহাসের একেকটি অধ্যায় বহন করে। মিউজিয়ামের আধিকারিক লরেন্স দে কার (Laurence des Cars) বলেন, “আমরা এই ঘটনার পর থেকে আমাদের প্রদর্শনী ঘরগুলির নিরাপত্তা প্রোটোকল সম্পূর্ণরূপে পুনর্বিবেচনা করছি। এই জাদুঘর কেবল ফ্রান্সের নয়, গোটা বিশ্বের সাংস্কৃতিক সম্পদ।” এদিকে, ল্যুভর চুরির খবর প্রকাশের পর থেকেই প্যারিস জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা। স্থানীয় সংবাদপত্র Le Monde -এর সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, “ল্যুভর শুধু শিল্পের গর্ব নয়, এটি ফ্রান্সের ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু। এমন একটি স্থানেও যদি অপরাধীরা এত সহজে প্রবেশ করতে পারে, তবে প্রশ্ন উঠবেই- আমাদের নিরাপত্তা কোথায় দাঁড়িয়ে?”

প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘরে ১০ কোটি ডলারের গয়না চুরির ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন গ্রেফতার। তদন্তে নতুন সূত্র মিলেছে, বাকিদের খোঁজ চলছে।
প্যারিস ল্যভর মিউজিয়াম। ছবি : সংগৃহীত

তদন্ত সংস্থার দাবি, বর্তমানে ১০০-এর বেশি অফিসার এই মামলার দায়িত্বে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ইন্টারপোল (Interpol) -এর সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে, যাতে চুরি হওয়া সামগ্রী দেশের বাইরে পাচার ঠেকানো যায়। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আটাল (Gabriel Attal) এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এটি ফ্রান্সের আত্মার ওপর আঘাত। অপরাধীদের কোনও রেহাই দেওয়া হবে না।” তবে এখন পর্যন্ত গয়না উদ্ধারের বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা মেলেনি। তদন্তকারীরা বলছেন, পরবর্তী কয়েক দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চুরি হওয়া ঐতিসিক নিদর্শনের খোঁজে ফ্রান্স এখন যেন নিজেরই ইতিহাসের পাতা ওল্টাচ্ছে। আর যেন ল্যুভরের দেওয়ালে এখনও বাজছে সেই চার মিনিটের প্রতিধ্বনি, যেখানে শিল্প, ইতিহাস, আর অপরাধ একে অপরের সঙ্গে মিশে গিয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন