Ghatal Master Plan, River Restoration | কালীপুজোর পর শুরু ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ, নো কস্ট মডেলে নদী ও খাল সংস্কার

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ঘাটাল : বহু প্রতিক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান (Ghatal Master Plan) -এর কাজ অবশেষে শুরু হয়ে গেল। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল। তবে পশ্চিম মেদিনীপুর (West Medinipur) জেলার দাসপুর (Daspur) ব্লক ও ঘাটালের বিভিন্ন খাল ও নদীর সংস্কারের কাজ কালীপুজোর (Kali Puja) ঠিক পরেই শুরু হয়েছে।প্রকল্পের আওতায় মূলত ‘নো কস্ট’ (No-Cost) মডেলের খাল ও নদী সংস্কার করা হবে। এর অর্থ, সরকারি কোনও সরাসরি অর্থ ব্যয় করা হবে না। সংস্কারের জন্য যে মাটি খুঁড়ে বের করা হচ্ছে, সেটি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ দিয়েই কাজ চলবে। সেচ দফতর (Irrigation Department) জানাচ্ছে, মোট ৩৬টি খাল ও নদীর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী (Deepak Adhikari) বলেন, “যাঁরা কাজ করবেন তাঁদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। অনেক মাটি পরীক্ষা হয়েছে। আমার মনে হয় কাজ চলেছে। তবে দিদি যা কথা দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী কাজ হবে।” তিনি আরও বলেন, “প্রকল্প শুরু হওয়ায় ঘাটালবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হচ্ছে।”

কালীপুজোর আগে ঘাটাল টাউন এবং সেচ দফতরের মন্ত্রী মানস ভুঁইঞা (Manas Bhuniya) একাধিক প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন। বৈঠকে নির্ধারণ করা হয়েছিল, পুজোর পরেই নদী ও খাল সংস্কারের কাজ শুরু হবে। ঠিক সেই মতো কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী স্বস্তিতে আছে। কোথায় কোথায় কাজ শুরু হয়েছে তা বিস্তারিতভাবে জানানো হচ্ছে। দাসপুর এক নম্বর ব্লকের (Daspur 1 No. Block) মুর্শিদনগর (Murshidnagar) থেকে শিলাবতী নদী (Shilabati River) -এর ২৩ কিলোমিটার খননের কাজ শুরু হয়েছে। অপরদিকে, দাসপুর দুই নম্বর ব্লকের (Daspur 2 No. Block) শোলাটপা খাল (Sholatopa Khal) -এর ১৪.৭ কিলোমিটার খনন কাজ শুরু হয়েছে। এক কথায়, দাসপুর ১ ও ২ ব্লকসহ ঘাটালের বিভিন্ন নদী ও খাল খননের কাজ একসঙ্গে শুরু হয়েছে।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের (West Medinipur Zilla Parishad) সহ-সভাপতি এবং ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল (Trinamool Congress) সভাপতি অজিত মাইতি (Ajit Maiti) বলেন, “ঘাটালবাসীর জন্য সুখবর। অবশেষে খাল খননের কাজ শুরু হয়ে গেল। অন্ধকার খুঁজে বেড়ানো রাজ্য বিজেপির নেতারা এবার কী বলবেন?” প্রকল্পটির লক্ষ্য শুধু নদী ও খাল সংস্কার নয়, স্থানীয় জলপর্যায়ের উন্নয়ন, বন্যার ঝুঁকি কমানো এবং কৃষিজমির জন্য জল সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। ‘নো কস্ট’ মডেলটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এতে সরকারি ব্যয় না হলেও দীর্ঘমেয়াদি জল সংরক্ষণ ও নদী উন্নয়ন সম্ভব হবে। সেচ দফতরের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “খাল ও নদী সংস্কারের কাজ পর্যায়ক্রমে চলবে। মাটি খোঁড়ার পর তা বিক্রি করে অর্থায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য, জলপথ ও খালগুলো স্বাভাবিক প্রবাহে ফিরিয়ে আনা।”

প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে শুধু ঘাটালেই নয়, আশেপাশের অঞ্চলেও পানি সংরক্ষণ, কৃষিজমি সেচ ও প্লাবনের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। এ কাজের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জীবনমানও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের প্রকল্পটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর সঠিক বাস্তবায়ন এলাকার মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়াবে এবং জলপর্যায়ের সমস্যা সমাধান করবে।” উল্লেখ্য যে, এভাবে কালীপুজোর পর শুরু হওয়া ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান শুধু একটি অবকাঠামোগত উদ্যোগ নয়, এটি ঘাটালবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বাস্তব রূপ। নদী ও খাল সংস্কারের মাধ্যমে এলাকার জলসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান এবং কৃষিজমির উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ কুড়ি-তম কিস্তি)

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন