Tejashwi Yadav CM Candidate, Bihar Election INDIA Bloc | তেজস্বী যাদবই ইন্ডিয়া ব্লকের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী! বিহারে শেষ হল জোটের অচলাবস্থা, সবুজ সংকেত দিল কংগ্রেস 

SHARE:

তেজস্বী যাদবই হচ্ছেন বিহারে ইন্ডিয়া ব্লকের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী। অশোক গেহলট ও লালু যাদবের বৈঠকে মিলল সমাধান। বৃহস্পতিবার হতে পারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। বিস্তারিত বিশ্লেষণ।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পাটনা: দীর্ঘদিনের জল্পনা, তর্ক ও অভ্যন্তরীণ মতানৈক্যের অবসান ঘটতে চলেছে বিহারের রাজনীতিতে। সূত্র মারফৎ জানা যায়, আরজেডি (RJD) নেতা তেজস্বী যাদব (Tejashwi Yadav)-কেই ইন্ডিয়া ব্লকের (INDIA Bloc) মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে। বুধবার রাতের পাটনায় (Patna) অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের পথ অনেকটাই মসৃণ হয় বলে সূত্রের খবর।

কংগ্রেস (Congress) নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে আসেন রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট (Ashok Gehlot) ও দলের রাজ্য ইনচার্জ কৃষ্ণ আল্লাভারু (Krishna Allavaru)। তারা তেজস্বী ও তাঁর পিতা, আরজেডি সুপ্রিমো লালু প্রসাদ যাদব (Lalu Prasad Yadav) -এর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই বৈঠকই ইন্ডিয়া ব্লকের অন্তর্দ্বন্দ্বের জট খোলার মূল মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। গেহলট বলেন, “লালুজির সঙ্গে বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল। ইন্ডিয়া জোট ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী, এবং পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সাংবাদিক সম্মেলনে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।”

আরও পড়ুন : JMM Withdraws from Bihar Election | বিহার ভোটে বিস্ফোরণ: ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াল হেমন্তের দল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা

এই বৈঠকের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে হাওয়া উঠেছে যে বৃহস্পতিবারের যৌথ সাংবাদিক বৈঠকেই তেজস্বীর মুখ্যমন্ত্রী পদে প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। সিপিআই(এমএল)-এর (CPI-ML) সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য (Dipankar Bhattacharya) বলেন, “বিহার জানে, ইন্ডিয়া ব্লক জিতলে মুখ্যমন্ত্রী হবেন তেজস্বী যাদব। এখন সময় এসেছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।” তিনি আরও যোগ করেন, “তেজস্বীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া যতটা সহজ সিদ্ধান্ত, ঠিক ততটাই সহজ নীতীশ কুমারের (Nitish Kumar) মুখ্যমন্ত্রী না হওয়া।”

গেহলট বৃহস্পতিবারের সাংবাদিক সম্মেলনে “সমস্ত বিভ্রান্তির অবসান” ঘটবে বলে জানান। তবে তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী পদের প্রার্থী হিসেবে তেজস্বীর নাম ঘোষণা করতে সম্মত হয়েছে।অন্যদিকে, এতদিন পর্যন্ত কংগ্রেস কিছুটা দ্বিধায় ছিল। দলের অনেকেই মনে করতেন, লোকসভা নির্বাচনে রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) ইন্ডিয়া জোটের প্রধানমন্ত্রী মুখ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর, রাজ্য পর্যায়ে আরজেডি-র নেতৃত্ব মেনে নেওয়া রাজনীতিগতভাবে চাপের। কিন্তু পরিস্থিতি বদলেছে। রাহুলের ঘনিষ্ঠ মহল এখন মনে করছে, বিহারে তেজস্বী-ই জোটের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মুখ।

কিন্তু, আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনও কিছু জায়গায় টানাপোড়েন রয়ে গিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ইন্ডিয়া ব্লকের (INDIA Bloc) সহযোগী দলগুলির প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ছেন। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে গেহলট বলেন, “এ ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্বাভাবিক। বিহার পরিবর্তন চায়। মানুষ জানে, আমাদের জয় দেশের স্বার্থে।” কৃষ্ণ আল্লাভারু (Krishna Allavaru), যিনি কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল সমন্বয় করছেন, বলেন, “কংগ্রেস এই নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ঐক্য বজায় রেখে আমরা শক্তিশালীভাবে লড়ছি।” অন্যদিকে, তেজস্বী যাদব বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, “ইন্ডিয়া জোটে কোনও বিভাজন নেই, কোনও বিভ্রান্তিও নেই। সবকিছু আগামীকাল স্পষ্ট হয়ে যাবে। প্রত্যেক প্রশ্নের উত্তর পাবেন।” 

গত ২৪ সেপ্টেম্বর পাটনায় অনুষ্ঠিত ‘আতি পিছদা ইবিসি সংকল্প পাত্র’ (Aati Pichda EBC Sankalp Patra) অনুষ্ঠানে ইন্ডিয়া ব্লকের শীর্ষ নেতৃত্ব একসঙ্গে মঞ্চে এসেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge), রাহুল গান্ধী, তেজস্বী যাদব ও বিকাশশীল ইনসান পার্টি (Vikassheel Insaan Party)-এর প্রধান মুকেশ সাহানি (Mukesh Sahani)এর আগে রাহুল গান্ধীর পক্ষিক ভোটার অধিকার যাত্রাতেও (Voter Nyay Yatra)’ তাঁরা একসঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। ওই যাত্রা ২৫টি জেলার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল, যা ইন্ডিয়া ব্লকের শক্তি প্রদর্শনের একটি দিক হিসেবে দেখা হয়েছিল।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ আঠেরো-তম কিস্তি)

রাজনৈতিক সমালোচকরা বলছেন, এই ঘোষণা যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা শুধু বিহারের রাজনীতিতেই নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও বড় বার্তা দেবে। একদিকে, আরজেডি-র তরুণ নেতৃত্ব তেজস্বী যাদবের হাত ধরে জোটের ঐক্য মজবুত হবে, অন্যদিকে বিজেপি (BJP)-র বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক স্পষ্ট মুখ উঠে আসবে। তেজস্বীর বয়স মাত্র ৩৫। কিন্তু তাঁর নেতৃত্বে আরজেডি ইতিমধ্যেই বিহারে শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তেজস্বীর তীক্ষ্ণ প্রচারণা এবং বিজেপি-জেডিইউ (BJP–JDU) জোটের বিরুদ্ধে তরুণদের সমর্থন পাওয়ার ক্ষমতা তাঁকে জোটের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুখে পরিণত করেছে। কিন্তু, তেজস্বীর সামনে চ্যালেঞ্জ কম নয়। কংগ্রেস ও বাম দলের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা, আসন বণ্টনের সমাধান, এবং বিজেপির প্রবল প্রচার- সব মিলিয়ে তাঁর জন্য এ এক কঠিন লড়াই।

অন্যদিকে, লালু প্রসাদ যাদবও পুত্রের এই উত্থানে খুশি। দলের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, “লালুজি এখন চাইছেন নতুন প্রজন্ম নেতৃত্ব নিক। তিনি চান তেজস্বীই আরজেডি এবং ইন্ডিয়া ব্লকের ভবিষ্যৎ হোক।” রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন, তেজস্বীর নেতৃত্বে কি বিহারে সত্যিই পরিবর্তনের হাওয়া বইবে? বৃহস্পতিবারের ঘোষণা তার উত্তর দেবে।

ছবি : সংগৃহীত

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ আঠেরো-তম কিস্তি)

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন