সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পাটনা, ১৪ অক্টোবর ২০২৫ : পারিবারিক আবেগ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মিশেলে এবার রাজনীতির অচেনা পথে নামলেন দিব্যা গৌতম। সুশান্ত সিং রাজপুতের বোন। বিহারের গোটা নির্বাচনী গতিকে নতুন রূপ দিলেন দিব্যা গৌতম (Divya Gautam), এই নামটি বিহারের নির্বাচনী মঞ্চে ইতিমধ্যে আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের (Sushant Singh Rajput) আত্মীয় বলেই নয়, নিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয়ের কারণেও। ২০২০ সালের ১৪ জুন মুম্বইয়ের ঘটনাটি সারা দেশকে চমকে দিয়েছিল। সেই মর্মান্তিক ঘটনার প্রভাব অনুভূত হয় বিহারের রাজনীতিতেও। নির্বাচনী ময়দানে এবার সে প্রতিফলন ঘটল যখন I NDIA ব্লকের অন্যতম হেভিওয়েট দল CPI-ML লিবারেশন (CPI-ML Liberation) ঘোষণা করল, তারা পাটনা জেলার দিঘা (Digha) বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটে লড়বেন দিব্যা।

দিবা গৌতমের প্রার্থী হওয়া নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দল সূত্রে জানা গিয়েছে, দিব্যার না সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি আগামী ১৫ অক্টোবর মনোনয়ন দাখিল করবেন বলে দলের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দিব্যা গৌতমের রাজনৈতিক যাত্রা নতুন নয়। তিনি ছাত্র রাজনীতির মঞ্চে সক্রিয় ছিলেন, All India Students’ Association (AISA)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং স্টুডেন্ট ইউনিয়ন নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। শিক্ষাজীবনেও তিনি সমানভাবে ব্যস্ত ছিলেন: পাটনা কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগে স্নাতকোত্তর করেছেন, এবং বর্তমানে তিনি UGC-NET উত্তীর্ণ ও PhD প্রার্থী। একসময় পাটনা উইমেন্স কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবেও কাজ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দিব্যার প্রার্থী হওয়া ও নির্বাচনে লড়া সামাজিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে একটি ভারসাম্যময় চেহারা রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে পারে, বিশেষ করে যুব ও নারী ভোটারদের দৃষ্টিতে।
দিব্যা গৌতম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আজকের রাজনীতি দেশের ধনীদের খেলার হাতিয়ার হয়ে গেছে, সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর আর কেউ শোনে না।” তিনি স্পষ্ট করেছেন, “আমি কোনও দলের জন্য রাজনীতি করতে আসিনি, আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।” দলীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, দিব্যার মতো সাহসী, শিক্ষিত এবং যুক্তিবাদী মুখ নেগেটিভ ধরণের রাজনীতির প্রবণতাকে বিপর্যস্ত করতে পারে। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। দিঘা কেন্দ্রটি এর আগে জনশক্তির দখলে। এবং সেখানকার বর্তমান বিধায়ক সঞ্জীব চৌরাসিয়া (Sanjeev Chaurasia) বিজেপির সদস্য। দিব্যার বিরুদ্ধে একটি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তাঁকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক অ্যালায়ান্স, সাধারণতঃ মহাগঠবন্ধন (Mahagathbandhan) নামে পরিচিত, তারও মধ্যে দিব্যার প্রার্থী হওয়া বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই ব্লক রয়েছে RJD, কংগ্রেস ও বিভিন্ন বাম দল। যদিও এখনও কিছু আসন বণ্টন বাকী আছে, তবুও দিব্যার মতো নতুন মুখকে রাখা রাজনৈতিক কৌশলে একটি বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত বলেই উল্লেখ। বিহারের ২০২৫ বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে, ৬ ও ১১ নভেম্বর, এবং ফল ঘোষণা হবে ১৪ নভেম্বর। রাজনীতিকরা বলছেন, এই নির্বাচনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে বেকারত্ব, শিক্ষা, দুর্নীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচার। দিব্যার প্রার্থীপদ সেই প্রেক্ষিতে সামাজিক তরঙ্গকে আরও জোরালো করতে পারে।
যদিও দিব্যার পরিচিতি রয়েছে, বিশেষ করে সুশান্ত সিং রাজপুতের পরিবারের কারণে, তবুও নিজ জোরে এগোনোই হবে তার চাবিকাঠি। তিনি বলেছেন, “মানুষের মধ্যে রাগ আছে, তারা পরিবর্তন চায়, আর আমি পরিবর্তনের জন্য এখানে এসেছি।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি তিনি সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে এগোতে পারেন, রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরেও তিনি একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলতে পারবেন। তবে, নির্বাচন মঞ্চে দিব্যার যাত্রা কি কেবল আবেগের প্রতিফলন, নাকি নতুন রাজনৈতিক শক্তি? সময়ের সঙ্গেই তা স্পষ্ট হবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : seat sharing, NDA, Bihar assembly election 2025 | ভোটের মাঠে ধোঁয়া : বিহারে এনডিএ-আরএলএম ফাটল ও কুশওয়াহার দিল্লি যাত্রা



