সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পটনা: বিহার বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে এনডিএ জোটে অস্থিরতা। আরএলএম (Rashtriya Lok Morcha) প্রধান উপেন্দ্র কুশওয়াহা (Upendra Kushwaha) শোনা যাচ্ছে ‘ভ্রষ্ট’ ও ‘নির্যাতিত’। মহুয়া (Mahua) আসন বিজেপি-অন্য শরিকদের মধ্যে ভাগাভাগি করার প্রক্রিয়ায় কুশওয়াহার দল স্বল্প আসন পেয়ে ক্ষোভ জানাতে শুরু করেছে। এ পথে মৌখিক বিতন্ডায় সব থেমে নেই, দলের মধ্যে বিদ্রোহের গুঞ্জন, পদত্যাগপত্রের আবেদন এবং রুদ্ধ বৈঠকের পর রাতেই কুশওয়াহাকে দিল্লি গিয়েছেন বলে উল্লেখ।
নির্বাচনী আসন বণ্টন ঘোষণার মাত্র দুই দিন পরেই, জনতা দল (ইউনাইটেড) দলীয় এমপি অজয় কুমার মণ্ডল পদত্যাগের প্রস্তাব দেন, দাবি করে জননেতাদের সঙ্গে মিটিংয়ে আমন্ত্রণ পাননি। এবং বিভিন্ন বিষয়ে অগ্রগণ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি বঞ্চিত বলে অভিযোগ। এই ঘটনার মধ্যেই, রাত্রি পাটনার বাসভবনে উপেন্দ্র কুশওয়াহার সঙ্গে দেখা করতে আসেন রীতিমতো বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব, সম্রাট চৌধুরী (Samrat Choudhary), নিত্যানন্দ রাই (Nityanand Rai), নীতিন নবীন (Nitin Nabin) সহ অনেকে। বৈঠকের পর কুশওয়াহা ভিডিও বার্তায় জানান, “এবার এনডিএতে কিছুই ভাল নেই।”

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, কুশওয়াহা রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়েছেন মহুয়া আসন বিতরণে তাঁদের দলকে উপেক্ষা করায়। তাহলে বুধবার দিনভর ছুটলে উদ্বিগ্ন রূপার সন্ধান মিলেছে, রাজ্যের দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করে কুশওয়াহা চলে যেতে বাধ্য হন দিল্লি। কারণ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই-এর (Nityanand Rai) সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবেন বলে তিনি জানিয়ে দেন। দ্বন্দ্ব এমন সময় গড়ে উঠেছে, যখন নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India, ECI) ভোটের আগে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলোকে প্রাক-প্রত্যয়ন (pre-certification) বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ জারি করেছে। ৯ অক্টোবর থেকে সকল দল ও প্রার্থীকে এমসিএমসি (MCMC—Media Certification & Monitoring Committee) কর্তৃক অনুমোদন ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না। প্রার্থীদের প্রকৃত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট কমিশনকে জানাতে হবে। ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে, বাল্ক এসএমএস, ভয়েস মেসেজ ও অডিও-ভিজ্যুয়াল বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হবে। এই বিধিনিষেধ ইতিমধ্যেই সবার নজরে এসেছে।
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনে বিজেপি তাদের প্রথম প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে — ৭১ জন প্রার্থী। অধিকাংশই পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের (OBC, EBC) থেকে বাছাই করা হয়েছে। বিকল্পভাবে, বিজেপি ও JDU জোটে ১০১–১০১টি আসনে লড়বেন, এবং LJP(RV) – ২৯, HAM ও RLM – ৬টি করে আসন পাবে – এমন শেয়ারিং চুক্তি গতকাল ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এই শেয়ারিংকে একরাশ অম্ল-মধুর প্রতিক্রিয়াও সামনে আসে। এদিকে JD(U) – এর অভ্যন্তরেও বিপর্যয়ের গুঞ্জন শুরু। BJP-JDU সমান ১০১ আসন লড়াই করার সিদ্ধান্ত (একটা বিরল ঘটনা) অনেককে শঙ্কিত করেছে যে নীতিশ কুমার (Nitish Kumar) -এর ব্যাপারে জোটের প্রভাব কমে যাচ্ছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আর কোনও গোপন সিদ্ধান্ত নয়, জোটের বিভাজন আর ভোট যুদ্ধের প্রস্তুতি এখন সর্বত্র দৃশ্যমান। জনরোষ, উচ্চ-স্তরের বৈঠক ও হঠাৎ সিদ্ধান্তের ফলে ঝড় ওঠেছে বিহারের রাজনীতি মাঠে।
ছবি : সংগৃহীত



