Toto registration, e-rickshaw | নিবন্ধন না করলেই টোটো রাস্তায় চলবে না, বিজেপি-তৃণমূল দ্বন্দ্ব

SHARE:

রাজ্য টোটো নিবন্ধন নীতি, শুভেন্দু অধিকারীর আহ্বান ও পরিবহণমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিশ্লেষণ।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্য সরকারের টোটো (ই-রিক্সা) নিবন্ধন নীতিগত নির্দেশিকা কার্যকর করার পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যেই আগামী সকল টোটো ও ই-রিক্সা নিবন্ধনের নির্দেশিকা জারি হলেও, বিরোধী দলের সমালোচনা ও বাতিল করার আহ্বান, বিশেষ করে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বক্তব্য, এই প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক রঙ দিয়েছে।

রাজ্য পরিবহণ দফতর গত ৯ অক্টোবর একটি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, ‘নিবন্ধন বা নথিভুক্তি না করায় ৩০ নভেম্বরের পরে অনুমোদনহীন টোটো রাস্তায় চলতে পারবে না।’ সরকারের এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, টোটো ও ই-রিক্সা চালকরা অনলাইন আবেদন ও প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে “Temporary Toto Enrolment Number (TTEN)” নামক একটি ডিজিটাল নিবন্ধনের মাধ্যমে নিজেকে নিবন্ধিত করবেন। এই ঘোষণার মাত্র ক’য়েক দিন পরেই শুভেন্দু অধিকারী একটি সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে বলেন, ‘টোটোচালকরা এক টাকাও নিবন্ধন ফি দিবেন না।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘রাজ্য সরকারের ফাঁকা কোষাগার ভরানোর উদ্দেশ্যে টোটোচালকদের ওপর আরোপ করা হচ্ছে একটি অবিচার’, ‘নিবন্ধনের জন্য ১০০০ টাকা ফি এবং প্রতি মাসে ১০০ টাকা, এবং এভাবে টাকা সংগ্রহ করে তৃণমূলের সভা-মিছিলে ভিড় বাড়ানো হবে।’ শুভেন্দুর আরও দাবি, ‘কায়দার টাকা তুলে, টোটোচালককে নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে’ এবং রাজ্যের পরিবহণ আইন অনুযায়ী টোটোর নিবন্ধনের কোনও বিধানই নেই।

বিরোধী দল নেতার এই আক্রমণের জবাবে পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস (Snehasis Chakraborty) জানান, ‘অনিয়ন্ত্রিত পথে টোটো চলাচল করায় রাজ্যে যানজট সৃষ্টি হচ্ছিল।’ তাঁর দাবি, এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া রাজস্ব তোলার জন্য নয়, বরং যানবাহনকে নিয়ন্ত্রণে আনার একটি পদক্ষেপ। তিনি বলেন, ‘পরিবহণ দফতর থেকে পাওয়া রাজস্ব পরিবহণ ব্যবস্থাকে উন্নয়নে ব্যবহার হবে, কর নয়।’

পরিবহণ দফতর ইতিমধ্যে বিভাগ, জেলা, উপবিভাগ ও ব্লক পর্যায়ে কমিটি গঠন করেছে, যাতে নিবন্ধন প্রক্রিয়া মনিটর করা যায়। কমিটির সদস্যদের মধ্যে পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনিক প্রতিনিধি থাকবেন। নিবন্ধনের শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে: প্রথম ছয় মাসের TTEN -এর জন্য ১,০০০ টাকা এবং পরবর্তী সময় প্রতি মাসে ১০০ টাকা, যা বছরে ১,২০০ টাকা হয়। এছাড়া প্রত্যেক নিবন্ধিত টোটোতে একটি QR কোড দেওয়া হবে যাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালিক ও রুট সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে।

অননুমোদিত উত্পাদনকারী, গ্যারেজ ও অবৈধ টোটো উৎপাদনকারী ইউনিটগুলিকে সিল বা FIR-এর হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে শুভেন্দুর আরও একটি প্রশ্ন, নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় কি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই রূপান্তর চলছে? তাঁর দাবি, নির্বাচন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রেক্ষিতে ৫ লক্ষ টোটো চালককে নিবন্ধিত করে, তৃণমূলের কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করানোর জন্য সরকার একটি পরিকল্পনা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘টোটোচালকদের তরফে নিবন্ধনের নামে তাঁরা নিয়ন্ত্রণ করবে, ভিড় বাড়াবে।’

সরকারের এই ঘোষণার পরে টোটোচালক সমাজে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই নতুন প্রক্রিয়া, ডিজিটাল পদ্ধতি ও নিয়ম-কানুন বোঝার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি। কেউ কেউ বলছেন, ‘নতুন নিয়ম বুঝতেই পরছি না, কিভাবে নিবন্ধন করব, কী শর্ত মানতে হবে?’ উল্লেখ্য, বিরোধী ও শাসক দলের এই দ্বন্দ্বর মাঝেই অনেকে দেখছেন, এটি শুধু একটা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, একটি রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্র। নিবন্ধন প্রক্রিয়া হোক অথবা বাধ্যতামূলক ঘোষণা হোক তার সঠিক প্রভাব, টোটোচালকদের বাস্তব পরিস্থিতি ও নির্বাচন-প্রেক্ষাপটে তার ব্যবহারে নজর থাকবে সাধারণ মানুষ ও রাজনীতির পক্ষেই।

ছবি: প্রতীকী ও সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya BJP plan|কল-কারখানা, কর্মসংস্থান ও নারী সুরক্ষা: শমীক ভট্টাচার্যের বিজেপির নতুন পশ্চিমবঙ্গ -বিরোধী ভোট কৌশল 

 

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন