সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) রাজধানীতে মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান খুরেলসুখকে (Khurelsukh Ukhnaa) স্বাগত জানান এবং দু’জনে মঙ্গলবার দীর্ঘ আলোচনা করেন। উল্লেখ্য, সাংবিধানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময় এসেছে যখন ভারত ও মঙ্গোলিয়া ৭০ বছর কূটনৈতিক সম্পর্ক উদযাপন করছে এবং গত এক দশক ধরে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ (Strategic Partnership) ধারাবাহিকভাবে গড়ে তুলেছে।
মোদীর এক প্রেস স্টেটমেন্টে বলা হয়েছিল: “Happy to have welcomed President Khurelsukh and held extensive talks with him in Delhi today. … His visit comes at a time when India and Mongolia are marking 70 years of diplomatic ties and a decade of our Strategic Partnership.” (X)

উল্লেখ্য যে, উভয় পক্ষের আলোচনায় শক্তি, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, তথ্যপ্রযুক্তি (IT), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, বিরল মাটি (rare earths), কৃষি ও আরও অনেক খাত এগিয়ে আসে। রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকের আগে, খুরেলসুখ রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের গভীর দিকগুলি তুলে ধরেন। এরপর মোদী ও খুরেলসুখ বৈঠকে আলোচনা করেন রাজনীতি, অর্থনীতি ও কূটনৈতিক দিকনির্দেশ নিয়ে।
দুই দেশের মধ্যে ১০টি MoU (মেমোরান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) সই হয়েছে, সাংস্কৃতিক বিনিময়, মাইগ্রেশন সহযোগিতা, খনিজ ও ভূতত্ত্ব, ডিজিটাল সমাধান, হিউম্যানিটারিয়ান এড ইত্যাদিতে। সেই সঙ্গে একটি যুগোপযোগী প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে: মঙ্গোলিয়ায় তৈরি হতে যাওয়া তেলের পরিশোধনাগার (oil refinery), যা ভারতের ১৭০ কোটি ডলারের লোন লাইন অব ক্রেডিটে নির্মিত হবে। এ প্রকল্পে মঙ্গোলিয়ায় প্রতি বছর ১৫ লাখ মেট্রিক টন কাঁচা তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা থাকবে। বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই রাষ্ট্র সফর ‘সৌজন্যমূলক ও ব্যবহারিকভাবে ফলপ্রসূ’ ছিল। ভারত-মঙ্গোলিয়ার সম্পর্ককে নতুন করে সুসংহত করবে। মঙ্গোলিয়া জানিয়েছেন, ভারত তাদের বিকল্প অংশীদার হিসেবে অবস্থান করছে। বিশেষভাবে খনিজ ও শক্তি সেক্টরে। মোদীর সাংবাদিক সম্মেলনে, তিনি জানান যে খুরেলসুখের জন্য ভারতের “Ek Ped Maa Ke Naam” প্রকল্পের অংশ হিসেবে একটি বট গাছ রোপণ করা হয়, যা দুই দেশের বন্ধুত্ব ও পরিবেশ প্রতিশ্রুতির দিক নির্দেশ করবে। মঙ্গোলিয়া এক প্রস্তাব দিয়েছিল ভারত সরাসরি উড়ান (direct flights) চালাতে, যা আগামীতে পর্যটন ও বাণিজ্যকে আরও মসৃণ করবেন।
ডিফেন্স ও নিরাপত্তা খাতেও কিছু বিশেষ ঘোষণা এসেছে। ভারত ও মঙ্গোলিয়া যৌথ প্রশিক্ষণ ও মান বাড়াতে কাজ করবে। ভারত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সীমান্ত বাহিনীর সক্ষমতার জন্য নতুন সহযোগিতা দেবে। দু’দেশ আগামী সময়ে দ্রুত প্রতিরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা খাতে সহিত পরিকল্পনায় উদ্যোগ নেবে। তারই সঙ্গে কৃষি খাতেও যোগাযোগ গড়ে তোলা হয়েছে। মঙ্গোলিয়া নিজের মাটি ও পশুপালন সম্ভাবনা যুক্ত করেছে, বিশেষ করে ওল ও ক্যাশমিওয়্যার উৎপাদন। ভারত সে দিকেও প্রযুক্তি ও বাজার সংযোগ দেবে বলে আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দিক ছিল “গ্লোবাল সাউথ” (Global South) ভারত ও মঙ্গোলিয়া একসঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুনিয়া দক্ষিণের কণ্ঠস্বরকে আরও ভারবহন করবে, এমন সম্মিলিত পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে।
এই সফর জাঁকজমক, কূটনৈতিক বন্ধন ও অর্জন, সব মিলিয়ে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে ভারতের ও মঙ্গোলিয়ার সম্পর্ককে। আগামী দিনে এই মাইলফলকগুলো কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলবে, তবে দিনটি ইতিমধ্যে ইতিহাসের জন্য লেখা থাকবে।
ছবি : সংগৃহীত



