West Bengal SIR | ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধ : কমিশন বিরোধিতায় রাজ্যের প্রশাসনিক প্রশ্ন

SHARE:

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের প্রশাসনের উত্তেজনা এবং ERO নিয়োগে নিয়ম ভঙ্গ ও SIR-প্রক্রিয়ার সময় প্রশাসনিক প্রস্তুতির অবস্থা।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্যের নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন, বিশেষ করে রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মধ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India, ECI) রাজ্যকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, ‘Special Intensive Revision’ (SIR) শুরু হলে সমস্ত সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হবে, যাতে কেউও নিয়মবহির্ভূতভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েন না।রাজ্য সরকারের পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন কমিশনের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব নিয়ে। তারা বলছেন, ভোট ঘোষণা হওয়ার পর কমিশনের নিয়ন্ত্রণ শুরু হবে; আগে নয়। তবে কমিশনও রাজ্যের এই দৃষ্টিভঙ্গিতে নীরব থাকতে রাজি নয়। প্রশাসনিক রীতিতেই তারা একাধিক দফায় রাজ্যের মুখ্যসচিবকে লিখিত নির্দেশ পাঠিয়েছেন বলে উল্লেখ।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics2026: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস? (আজ চতুর্থ কিস্তি)

নিয়োগে ভ্রান্তি, বাধ্যবিধি ও বিশুদ্ধতার দাবি 

নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ব্যত্যয় দেখা দিয়েছে, রাজ্যে ২৯৪টি বিধানসভা আসনকে কেন্দ্র করে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে (ERO) কে করা হয়েছে। কমিশন স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছে, ERO-এর দায়িত্ব নেবে শুধুমাত্র এসডিও (Sub-Divisional Officer), মহকুমাশাসক বা সেই সমমানের পদে থাকা কর্মকর্তারা। কিন্তু রাজ্যের অনেক জায়গায় জুনিয়র ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বা ডেপুটি কালেক্টরেরা ERO-এর দায়িত্ব পালন করছেন, যা কমিশনের নিয়মের বিরুদ্ধে। রাজ্য বিজেপি নেতা, বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) দাবি, “অনেকেই জুনিয়র কর্মকর্তাদের ERO হিসেবে নিয়োগ করছেন, অথচ WBCS এক্সিকিউটিভ শ্রেণির সিনিয়র কর্মকর্তাদের এ পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে” এটা কমিশনের গঠিত নির্দেশনার স্পষ্ট লঙ্ঘন। সূত্রের খবর, কমিশন মুখ্যসচিব (Chief Secretary) এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা (Chief Electoral Officer কে (বা CEO) একটি নির্দেশিকা পাঠিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, প্রত্যেক বিধানসভা কেন্দ্রে শুধু উপযুক্ত পদমর্যাদার সরকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে ERO-এর দায়িত্বে। BLO (Booth Level Officer) নিয়োগে ও দায়িত্ববলে নিয়ম মানতে হবে, কাউকে অপ্রয়োজনে দায়িত্ব দিলে সেই বিষয়ে লিখিতভাবে কারণ দেখাতে হবে।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ ষষ্ঠ কিস্তি)

নির্বাচন কমিশন বলেছে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে আইনানুগভাবে হবে; “no valid voter will be excluded” -যাতে ভোটারদের হাতে থাকা যে-কোনও বৈধ তথ্য ও দলিল থাকলে তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। CEO মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal) এই বিষয়টি কয়েক দফায় নিশ্চিত করেছেন বলে উল্লেখ। ECI জানিয়েছে, রাজ্যের প্রশাসনকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে ভোটার তালিকা “mapping” কাজ শেষ করতে হবে। ভোটারদের পুরনো তালিকা (২০০২ সালের SIR) এবং ২০২৫-এর তালিকা মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। কিছু জেলার কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিয়োগ ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির ধরণ নিয়েও কমিশন ও রাজ্য সরকারের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা যাচ্ছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা মনোজ আগারওয়াল ইতিমধ্যেই মুখ্য সচিব মনোজ পান্তকে (Manoj Pant) লিখিতভাবে জানিয়েছে, ERO ও AERO পদগুলি দ্রুত পূরণ করতে হবে। BLO নিয়োগ ঘরোয়া স্তর থেকে শুরু হবে, যেন SIR-এর সময় কোনও সমস্যা না হয়।

রাজ্যের বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ হল, “মডেলটি নিয়মবাহিত নয়, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের সুযোগ সৃষ্টি করছে।” তিনি নির্বাচন কমিশনকে বলছেন, এই নিয়োগ ভুলগুলো সারাতে হবে যেন ভোটারদের বিশ্বাস বজায় থাকে। কমিশনও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, ভোটার তালিকার সংশ্লিষ্ট সব নিয়ম মেনেই কাজ করতে হবে, প্রশাসনিকভাবে ভুল হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, অপরাধমূলক কাজ হলে FIR দায়ের করা হবে।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics2026: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস? (আজ তৃতীয় কিস্তি)

রাজ্য সরকার কি কমিশনের নির্দেশ মেনে নেবে, নাকি এই রাজ্য-কমিশন সংঘাত অব্যাহত থাকবে? নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, যখন নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে অধিক ক্ষমতাশালী, প্রশাসনিক ভাবে রাজ্যকে তার বিধি মেনে চলতে হয়, যা নির্ধারণ করে ভোটার তালিকা, ERO নিয়োগ, ভোটার অধিকার সংরক্ষণ ইত্যাদি। কিন্তু রাজনৈতিক জটিলতা, স্থানীয় প্রশাসনিক চাহিদা এবং আন্দোলন সব মিলিয়ে বিষয়টি সেনসেটিভ হয়ে উঠেছে।সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় এসিআর-এর একটি সময়ে কমিশন বলেছে, ২০২৩ সালের ২৬ জুনের একটি নির্দেশিকায় বলেছে, পর্যাপ্ত এসডিও না থাকলে রেভিনিউ বিভাগ-অফিসার (RDO) বা অন্য যে-কোনও কর্মকর্তা, যারা এসডিও বা RDO-পদমর্যাদার, ERO হতে পারবেন। তবে JUNIOR OFFICER হয়ে এই দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। এই পরিস্থিতিতে, কর্তৃপক্ষরা দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে: রাজ্যের প্রশাসন ERO/AERO/BLO নিয়োগ সম্পন্ন করতে চলছে, কমিশন নামমাত্র ছুটি ও উৎসবের ফাঁকে কাজ শুরু হবে বলেও জানা গিয়েছে। নির্বাচনী প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে প্রশাসন-কর্তারা গত কয়েকদিনে জেলা-মহকুমায় তদারকি বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে, ভবিষ্যতেই দেখা যাবে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের মধ্যে এই সংঘাত আইনি পর্যায়ে পৌঁছায় কি না, অথবা কি মডেল হয়- একটি মধ্যপন্থার যেখানে প্রশাসন ও কমিশন মিলিতভাবে কাজ করবে ভোটার অধিকারের স্বার্থে, রাজনীতির প্রভাব কমিয়ে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ সপ্তম কিস্তি)

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন