USA, Accurate Energetic Systems |আমেরিকার বিস্ফোরণ: টেনেসিতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, কেঁপে উঠল গোটা শহর

SHARE:

টেনেসির Accurate Energetic Systems কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বহু শ্রমিক নিখোঁজ, ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চলছে। পড়ুন বিস্তারিত প্রতিবেদন।
সাশ্রয় নিউজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক ★ ওয়াশিংটন, ১০ অক্টোবর, ২০২৫ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি (Tennessee) রাজ্যে শুক্রবার ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল একটি প্রতিরক্ষা সামগ্রী তৈরির কারখানা। স্থানীয় সময় বিকেলের দিকে ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়েছেন বহু শ্রমিক, প্রাণহানির আশঙ্কা প্রবল। প্রশাসন জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়, তবে অন্তত কয়েকজনের মৃত্যু ঘটেছে এবং একাধিক কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, বিস্ফোরণের আওয়াজ বজ্রপাতের মতো শোনা গিয়েছে। অনেকের জানলা-দরজা কেঁপে উঠেছে, বহু বাড়ির দেওয়াল ফেটে গিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী গোটা এলাকা ঢেকে ফেলে। শেরিফের দপ্তর ইতিমধ্যেই আশপাশের এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার মাত্রা এতটাই ভয়াবহ যে দূর থেকে দেখা গিয়েছে কারখানার ওপর ঘন কালো ধোঁয়ার মেঘ। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম ভূমিকম্প হচ্ছে। তারপর এক অদ্ভুত গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে বাতাসে। জানলাম কিছু ভয়ংকর ঘটেছে।” অন্য একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষায়, “মাটি পর্যন্ত কেঁপে উঠেছিল, জানালার কাচ ভেঙে গেল। এমন ভয়ানক শব্দ জীবনে শুনিনি।”

টেনেসির Accurate Energetic Systems কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বহু শ্রমিক নিখোঁজ, ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চলছে। পড়ুন বিস্তারিত প্রতিবেদন।
টেনেসির Accurate Energetic Systems কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বহু শ্রমিক নিখোঁজ, ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চলছে। ছবি : সংগৃহীত

দুর্ঘটনার পরপরই বিপুল সংখ্যক দমকলকর্মী, পুলিশ ও উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। শেরিফ অফিসের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তাঁরা ওই এলাকায় না যান এবং উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্নে চলতে দেন। জরুরি পরিষেবার কর্মীরা এখনো ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কারখানার একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বিস্ফোরণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল Accurate Energetic Systems (AES) নামের একটি কারখানা, যা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতের জন্য বিস্ফোরক ও সামরিক মানের গোলাবারুদ তৈরি করে আসছে। সূত্রের খবর, অতীতে এই প্ল্যান্টে একাধিকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, “কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবসময়ই প্রশ্নের মুখে ছিল। আগেও আগুন ও ছোটখাটো বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু এত ভয়াবহ কিছু কখনও হয়নি।”

স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংরক্ষিত বিস্ফোরকের মধ্যে কোনো রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার ফলে আগুন ধরে যায়, এবং সেটাই ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে তদন্তকারীরা এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাননি। মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (FBI) এবং ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস (ATF) যৌথভাবে তদন্তে নেমেছে। টেনেসি গভর্নর বিল লি (Bill Lee) ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে লিখেছেন, “এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের জীবন বাঁচানো। রাজ্য সরকারের সব বিভাগ উদ্ধারকাজে সহায়তা করছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”

এদিকে দুর্ঘটনার পর কারখানার আশেপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় স্কুল ও সরকারি দপ্তরগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দমকল সূত্রে জানা গেছে, আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, কারণ ভেতরে থাকা রাসায়নিক পদার্থগুলো উচ্চমাত্রায় দাহ্য। ফলে প্রতি মুহূর্তে নতুন বিস্ফোরণের আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের আগে ভেতর থেকে একাধিকবার অ্যালার্ম বাজে, কিন্তু শ্রমিকরা সেটিকে গুরুত্ব দেননি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটে বিপর্যয়। স্থানীয় এক শ্রমিক বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম মেশিনে ছোটখাটো গরম লাগার শব্দ। কেউ কল্পনাও করতে পারেনি এত ভয়াবহ কিছু ঘটতে চলেছে।” ফায়ার ডিপার্টমেন্টের প্রধান জানিয়েছেন, “আমরা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা করছি। ভবনের কিছু অংশ অত্যন্ত অস্থিতিশীল, ফলে উদ্ধারকাজে ঝুঁকি রয়েছে। তবে আমরা হার মানব না।”

অন্যদিকে, এই ঘটনার পর আবারও উঠে এসেছে প্রশ্ন, মার্কিন প্রতিরক্ষা কারখানাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা আধুনিক ও কার্যকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক পুরনো কারখানায় এখনও পুরোনো সুরক্ষা যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা উচ্চক্ষমতার বিস্ফোরক পদার্থের সঙ্গে কাজ করার জন্য যথেষ্ট নয়। একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মন্তব্য, “এই ধরনের দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, মানুষের অবহেলা বা অদক্ষতা সব কিছু ধ্বংস করে দিতে পারে।” স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্ক এখনও কাটেনি। অনেকেই জানিয়েছেন, তাঁরা রাতভর বাইরে কাটাচ্ছেন, কারণ আশেপাশের এলাকায় রাসায়নিক গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে। পরিবেশ দপ্তর বাতাস ও মাটির মান পরীক্ষা শুরু করেছে।

অবস্থা বিবেচনায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প  (Donald Trump) প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং প্রয়োজনে ফেডারেল সহায়তা পাঠানো হবে।” এই মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারের কাজ চলছে পূর্ণ উদ্যমে। তাপ ও ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়ছে, কিন্তু উদ্ধারকর্মীরা নাছোড়বান্দা। এক কর্মকর্তা বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত শেষ মানুষটিকে বের করে আনতে না পারি, ততক্ষণ আমরা থামব না।” প্রসঙ্গত, এই মর্মান্তিক বিস্ফোরণ শুধু এক শিল্প দুর্ঘটনা নয়, এটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, নিরাপত্তা প্রোটোকল উপেক্ষা করা কতটা ভয়াবহ হতে পারে। টেনেসির Accurate Energetic Systems কারখানা এখন আমেরিকার নিরাপত্তা ও শ্রম আইন নিয়ে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে।

ছবি : সংগৃহীত

আরও পড়ুন : Gaza Peace | গাজা শান্তি ও নতুন কূটনৈতিক মানচিত্র: ট্রাম্পের ঘোষণা ঘিরে বিশ্ব রাজনীতির নাড়া

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন