সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : মুম্বইয়ে বুধবার (৮ অক্টোবর ২০২৫) অবতরণ করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী কির স্টারমার (Keir Starmer) শুরু তাঁর প্রথম ভারত সফর, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর। ভারতের বাণিজ্য-রাজনীতির কেন্দ্র মুম্বইয়ে পৌঁছে তাঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশ (Devendra Fadnavis), উপ-মুখ্যমন্ত্রীরা একনাথ শিন্ডে (Eknath Shinde) ও অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar) এবং রাজ্যপাল আচার্য (Governor Acharya)।
স্টারমারক যাবেন রাজভবনে। সেখানে আগামী বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-এর সঙ্গে তিনি আলোচনায় বসবেন। এবং দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতি সংক্রান্ত যৌথ ঘোষণা করা হবে। ভারতের সঙ্গে ওই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement, FTA) গত জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত হয় যা UK ও ভারত উভয়ের জন্যই এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে দেখা হচ্ছে।

স্টারমারের বক্তব্য, “We signed a major trade deal with India in July the best secured by any country but the story doesn’t stop there. It’s not just a piece of paper, it’s a launchpad for growth. With India set to be the third biggest economy in the world by 2028, and trade with them about to become quicker and cheaper, the opportunities waiting to be seized are unparalleled.” তিনি আরও বলেন, “That’s why I’ll be flying the flag for British business alongside 125 of our biggest household names in Mumbai this week because growth in India for them means more choice, opportunity and jobs at home for the British people.”
সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সফরে ১২৫ জন প্রখ্যাত CEOs, ব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান এবং সাংস্কৃতিক নেতারা স্টারমারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এই দলকে নিয়ে দ্যাউনি মন্ত্রী বলেছেন, “এটি আমাদের সবচেয়ে বড় ভারত বাণিজ্য মিশন।”
সফরের দিনক্ষণ ও কর্মসূচী
-
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজ ভবনে সংঘবদ্ধ আলোচনার পরে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ কমিউনিক ধারণ করবেন।
-
দুপুরে কের স্টারমার কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনেতার সঙ্গে একত্র হন।
-
এরপর যাবেন জিও ওয়ার্ল্ড সেন্টার (Jio World Centre), বর্মা-কুর্লা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত Global Fintech Fest-এ অংশ নিতে।
-
সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এই FTA বাস্তবায়ন ও বাণিজ্য-বৃদ্ধি সাপেক্ষে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক চুক্তি সই করানো।
এই সফরটি শুধু দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে না, তা একটি প্রসারিত দুনিয়ার অর্থনৈতিক চক্রান্তের মধ্যে UK ও ভারতকে ঘনিষ্ঠ করবে। এই পটভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রে এগিয়ে যাওয়া শুল্ক বিধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ভারতে অনুভূত হচ্ছে এবং এই চুক্তি সেই চাপে কিছুটা সামঞ্জস্য আনতে পারে। যাইহোক, স্টারমার সফরে একটি স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন ভিসা চুক্তি (visa deal) আলোচনার বিষয় নয়। তিনি বলেছিলেন, “That isn’t part of the plans … the issue is not about visas.” একটি জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল বলছে, পূর্ববর্তী চুক্তি আলোচনায় ভিসার বিষয় বহু সময় জটিলতা তৈরি করেছিল; এ কারণে এই নতুন FTA-তে সেই ইস্যু বাদ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনায়, মার্চ ২০২৪-২০২৫ সালের মধ্যে এই FTA-এর প্রায় ২৬টি অধ্যায় নিয়ে সমঝোতা হয়েছে তবে কিছু বিতর্কিত বিষয় যেমন গাড়ি শুল্ক, স্কচ হুইস্কি শুল্ক ও সামাজিক সুরক্ষা চূড়ান্ত না হওয়ায় যুক্তরূপ আলোচনা ছিল।
উল্লেখ্য, এই FTA যুক্তরাজ্যে প্রায় 4.8 বিলিয়ন (বছরে) অতিরিক্ত GDP যুক্ত করবে এবং 2.2 বিলিয়ন মজুরি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে—তথ্য মন্ত্রকের খবরে বলা হয়েছে। GOV.UK চুক্তির ফলে, ভারতের মধ্যবর্তী শুল্ক গড় ১৫% থেকে কমিয়ে আনবে প্রায় ৩%, কিছু ক্ষেত্রে আরও কম হবে। বিশেষভাবে, স্কচ হুইস্কির ক্ষেত্রে শুল্ক ১৫০% থেকে ধাপে ধাপে ৭৫% এবং পরবর্তীতে ৪০%-এ নামিয়ে আনা হবে এই সুবিধাটা অনেক সময় আলোচনায় আসে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে ভিসা মুক্তির বাস্তব সুযোগ নেই, কিন্তু ভিসা ও বাণিজ্য চুক্তি ভবিষ্যতে বাড়ানো যেতে পারে যদি দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও লাভমুল্য সুনিশ্চিত হয়। এই সফর সম্ভাব্য কিছু বাধার ক্ষেত্রেও পৌঁছেছে যেমন কুটনৈতিক ও মানবাধিকার ইস্যু, যেখানে অভিযোগ তোলা হতে পারে বা আলোচনার বিষয় হতে পারে। বিশেষ করে, কিছু সিখ গোষ্ঠী স্টারমারকে পরামর্শ দিয়েছে যে তিনি ব্রিটিশ নাগরিক জগ্গি জোহাল (Jagtar Singh Johal)-এর বিষয়টি আলোচনা করতে পারেন, যিনি ২০১৭ সাল থেকে ভারতে গ্রেপ্তার।
সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করতে গেলে বলতে হয় যে স্টারমারের এই মুম্বই সফর কেবল একটি দ্যকব্য নয় এটি দুই দেশকে একটি নতুন মুক্ত বাণিজ্য যুগে পা রাখাতে চাইছে। ভারত এবং UK উভয়েই দেখছে, এই FTA হবে বাণিজ্যিক গতি, বিনিয়োগ প্রবাহ ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় বিপ্লব। এই সফর সফল হলে, ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্তরাজ্য আরও মসৃণভাবে সংযুক্ত হবে। তবে বাস্তব চ্যালেঞ্জ থাকবে চুক্তি বাস্তবায়ন, শুভেচ্ছু ব্যবস্থাপনা, এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাধা তা কাটিয়ে ওঠাই হবে আসল পরীক্ষণ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Donald Trump | ট্রাম্প বললেন, “আমি যা বলেছিলাম, তা খুবই কার্যকর ছিল, তারা থেমে গিয়েছিল”



