সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিগত দর্শনের পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। রাজ্যের এক বিশেষ রূপবদলের সময় আগামী ২৬ যা এক নতুন যুগের সূচনা ঘটতে চলেছে। কে হবে এই রাজ্যের মুখ্য মুখ। জনগণ কি চাইসমস্ত কিছু নিয়ে রাজনৈতিক কলমে কলম ধরলেন-
দেবব্রত সরকার
(আজ চতুর্থ কিস্তি)
ভবিষ্যতের ভোট যুদ্ধ: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কে গড়বে ২০২৬-এর পথ
ভবিষ্যতের ভোট যুদ্ধ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির নতুন সমীকরণ বলতে গেলে এখানে আমরা আগামী বিধানসভা নির্বাচনের (২০২৬) সম্ভাব্য চিত্র, দলের ভিতরকার পরিবর্তন, জনমত ও ভোট ব্যাঙ্কের পুনর্গঠন নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করব। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি সবসময়ই ছিল নাটকীয় ও অনিশ্চিত। কখনও বামের ৩৪ বছরের একচ্ছত্র রাজত্ব, কখনও তৃণমূলের বিপ্লবী উত্থান, আবার কখনও বিজেপির অপ্রত্যাশিত উত্থান প্রতিটি সময়েই ভোটের আচরণ বদলেছে। এখন রাজ্যের রাজনীতি এক অস্থির মোড়ে- ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিটি দল নিজেদের পুনর্গঠন ও ভোট ব্যাঙ্ক শক্তিশালী করতে মরিয়া।
তৃণমূল কংগ্রেস : ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার লড়াই
ক. অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন
তৃণমূল এখন স্পষ্টভাবে বুঝেছে, ২০২৬-এর ভোট আগের থেকে কঠিন হবে। দলীয় শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের বাদ দেওয়া, নতুন মুখ আনা এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
খ. জনসংযোগ ২.০ প্রচার
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দু’জনেই জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বাড়াতে নতুন ধরণের প্রচার চালাচ্ছেন
>দুয়ারে সরকার প্রকল্পের সম্প্রসারণ
>যুব ও নারীদের জন্য বিশেষ কর্মসূচী
>জেলা সফর ও গণশুনানি
গ. চ্যালেঞ্জ
দুর্নীতি ও প্রশাসনিক বিতর্ক: শিক্ষক নিয়োগ, পঞ্চায়েত দুর্নীতি, কাটমানি এসব ইস্যু এখনও ভোটারদের মনে রয়ে গিয়েছে।
বিরোধী ঐক্যের চাপ: বিজেপি ও বাম-কংগ্রেস যদি একত্রে বিরোধিতা বাড়ায়, ভোট ভাগাভাগি কমে যেতে পারে।
গ্রামীণ ভোটের ক্ষয়: দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের সংগঠন তুলনামূলক দুর্বল, সেখানে বিজেপি আগ্রাসী। তবে শাসক হিসেবে প্রশাসনিক সাফল্য ও জনপ্রিয় মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও তৃণমূলের সবচেয়ে বড় সম্পদ
বিজেপি : বিকল্প শাসনের স্বপ্ন
ক. সংগঠনের পুনর্গঠন
বিজেপি বুঝেছে, শুধুমাত্র “মোদী ম্যাজিক” দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ জয় করা সম্ভব নয়। এখন তাদের লক্ষ্য “লোকাল লিডারশিপ” বা স্থানীয় নেতৃত্ব তৈরি করা।প্রত্যেক জেলা ও ব্লকে নতুন নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ চলছে।তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের বদলে নিজস্ব কর্মী তোলার চেষ্টা।
খ. প্রচারের নতুন কৌশল
২০২১ -এর পরে বিজেপি সামাজিক ইস্যুতে বেশি মন দিয়েছে।
>বাঙালি হিন্দু পরিচয়ের পুনর্নির্মাণ
>অনুপ্রবেশ ও নাগরিকত্ব আইন (CAA)-এর ইস্যু
>কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন
>তৃণমূলের দুর্নীতি-অভিযোগে ধারাবাহিক প্রচার
গ. সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা
বাঙালি মানসিকতার সঙ্গতি না পাওয়া বিজেপির উত্তর ভারতীয় ধাঁচের রাজনীতি এখনও সম্পূর্ণভাবে বাংলার সংস্কৃতিতে মানিয়ে নিতে পারেনি। সংগঠনের শূন্যতা অনেক এলাকায় নির্বাচনী সময় বাদে দল নিষ্ক্রিয়। বিরোধী ঐক্য গঠনের আশঙ্কা বাম ও কংগ্রেসের ভোট ভাগ না হলে বিজেপি লাভবান হতে পারবে না। তবু বিজেপির জন্য বড় আশাবাদ হল, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে তারা এখনও ৩৮% ভোট ধরে রেখেছে, যা প্রমাণ করে জনভিত্তি কমেনি।
সিপিএম ও বামফ্রন্ট : প্রত্যাবর্তনের আশায়
ক. ‘সংযুক্ত মোর্চা’ ও তরুণ প্রজন্ম
বামফ্রন্ট এখন বুঝেছে, পুরনো রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া যাবে না। তাই তারা “সংযুক্ত মোর্চা” (Left–Congress জোট) -এর মধ্য দিয়ে নতুন কৌশল নিয়েছে। তাদের লক্ষ্য তরুণ প্রজন্ম, ছাত্রসমাজ ও শ্রমজীবী শ্রেণির মধ্যে আবার বিশ্বাস জাগানো।
খ. নতুন মুখ ও সামাজিক আন্দোলন
DYFI, SFI, AISF-এর মতো ছাত্র-যুব সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে মাঠে নামছে নতুন প্রজন্মের বাম নেতারা।
মুখ্য ইস্যু :
>চাকরির অভাব
>দুর্নীতি বিরোধিতা
>শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বেসরকারিকরণের বিরোধিতা
>শ্রমজীবীদের অধিকার
গ. দুর্বলতা
দীর্ঘ রাজনৈতিক শূন্যতা ও জনভিত্তি ক্ষয়।
শহরাঞ্চলে প্রভাব কম, গ্রামীণ ভোটে ফিরে আসা কঠিন। ভোট ভাগাভাগির কারণে সরাসরি লাভ হয় না।তবে রাজনৈতিকভাবে বাম এখন ‘চাপ সৃষ্টি করা শক্তি’, যা অন্য দলগুলোকে বাধ্য করে জনস্বার্থে ভাবতে।
কংগ্রেস ঐতিহ্যের ভগ্নচিত্র থেকে পুনরুত্থানের চেষ্টায়
ক. রাজ্য পর্যায়ের পুনর্গঠন
রাজ্য প্রদেশ কংগ্রেস প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর নেতৃত্বে দল সংগঠন পুনর্গঠনের পথে। তারা বামদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জেলা পর্যায়ে ছোট ছোট আন্দোলন করছে।
খ. লক্ষ্য
>উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় পুরনো ভোট ব্যাঙ্ক ফিরিয়ে আনা
>সংখ্যালঘু ভোট ধরে রাখা
>জোটের মধ্যে প্রভাবশালী অবস্থান অর্জন
গ. সীমাবদ্ধতা
জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস দুর্বল, তার প্রভাব রাজ্য রাজনীতিতেও পড়েছে। তৃণমূল ও বামের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে গিয়ে নিজস্ব অবস্থান অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। তবু কংগ্রেসের ‘মৃদু কিন্তু নির্ভরযোগ্য’ উপস্থিতি ভোটের গাণিতিক সমীকরণে ভূমিকা রাখবে।
জনমতের পালাবদল ভোট ব্যাঙ্কের নতুন মানচিত্র
ক. নারী ভোটার
তৃণমূল নারীদের মধ্যে এখনও সবচেয়ে জনপ্রিয়, কিন্তু ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ -এর মতো প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। বিজেপিও ‘নারী সুরক্ষা’ ইস্যুতে আক্রমণ জোরদার করছে।
খ. তরুণ ভোটার
বেকারত্ব ইস্যুতে তৃণমূলকে প্রশ্নের মুখে রেখেছে বিজেপি জনসমর্থন বেশি কারণ প্রধানমন্ত্রীর বেশ কিছু প্রকল্প বিজেপিকে এগিয়ে রাখছে। এখানে বাম ও ছাত্র সংগঠনগুলো কিছুটা জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে।
গ. সংখ্যালঘু ভোট
সংখ্যালঘুরা এখনও তৃণমূলের বড় ভোটব্যাঙ্ক, তবে মুর্শিদাবাদ, মালদহ অঞ্চলে বাম ও কংগ্রেস কিছুটা প্রভাব ধরে রেখেছে। তৃণমূলের চালাকি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বুঝতে শুরু করেছে ফলে বিজেপি সহ কংগ্রেস ও বামেদের সুবিধা বাড়ছে।
ঘ. উত্তরবঙ্গ বনাম দক্ষিণবঙ্গ
উত্তরবঙ্গে বিজেপির দাপট বাড়ছে, দক্ষিণবঙ্গে তৃণমূল শক্ত। ভোটের এই আঞ্চলিক বিভাজনই রাজনীতির সবচেয়ে বড় নির্ধারক হবে।
৬. ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: ২০২৬-এর চিত্র
| দল | সম্ভাব্য প্রবণতা | শক্তির মূলভিত্তি | চ্যালেঞ্জ |
| ————- | ———————– | ———————————————- | —————————|
| তৃণমূল | শাসন ধরে রাখার সম্ভাবনা | প্রশাসনিক প্রকল্প, নারী ভোট, মুখ্যমন্ত্রী ইমেজ | দুর্নীতি, গ্রামীণ ক্ষোভ, বেকারত্ব|
| বিজেপি | বিকল্প হিসেবে শক্তিশালী |কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, ধর্মীয় ইস্যু, উত্তরবঙ্গ | সংগঠন দুর্বলতা, স্থানীয় নেতৃত্ব |
| বামফ্রন্ট । পুনরুত্থানের চেষ্টা |ছাত্র-শ্রমিক আন্দোলন | মাঠ সংগঠন ক্ষয়,নতুন করে সাজানো|
| কংগ্রেস | জোট নির্ভর ভূমিকা |সংখ্যালঘু ও উত্তরবঙ্গ | প্রভাব সীমিত , দুর্বল সংগঠন |
ভবিষ্যতের ভোট যুদ্ধ: পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬-এর পথ কে গড়বে? ক্ষোভ, বেকারত্ব ও জলমগ্ন বাস্তবতায় পাল্টাচ্ছে ভোটের হাওয়া
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তপ্ত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) রাজনৈতিক ময়দান। রাজ্যজুড়ে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, উন্নয়নের স্থবিরতা এবং সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কলকাতা মহানগরের জলমগ্ন চিত্রে ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ। এই ক্ষোভই আগামী নির্বাচনে রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজ্যে বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) ধীরে ধীরে তাদের জনভিত্তি মজবুত করছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত একাধিক জেলায় তৃণমূলের (Trinamool Congress) প্রভাব কমে আসছে বলে দাবি করছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের প্রাক্তন শমিক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) সম্প্রতি এক সভায় বলেন, “বাঙালির ভোট এখন উন্নয়ন চায়, দুর্নীতি নয়। শিক্ষক নিয়োগ থেকে কাজের অভাব, মানুষ সব দেখছে। এবার পরিবর্তনের সময়।”
অন্যদিকে, শাসক দল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য, বিজেপি কেবল “প্রচারের রাজনীতি” করছে। দলের মহাসচিব কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, “বিজেপি শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় লড়াই করে। বাস্তবে মানুষ জানে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরকারই তাদের পাশে আছে। আমরা উন্নয়ন করেছি, মানুষের দরজায় প্রকল্প পৌঁছে দিয়েছি।” তবে সাধারণ মানুষের রোজকার জীবনের বাস্তব ছবি ভিন্ন কথা বলছে। রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, বেকার যুবকদের হতাশা এবং সরকারি দপ্তরে চাকরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে ক্ষোভ প্রবল। এসএসসি (SSC) দুর্নীতির মামলায় একাধিক তৃণমূল নেতার গ্রেপ্তার এবং তদন্তে নতুন তথ্য প্রকাশ রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তিকে ধাক্কা দিয়েছে। বেহালা (Behala)-এর এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, “আমরা বছর বছর পরীক্ষা দিই, কিন্তু ফল আসে না। ঘুষ ছাড়া চাকরি নেই। এই সরকারের ওপর আর ভরসা নেই।” এমন অভিব্যক্তিই আজ রাজ্যের হাজার হাজার যুবকের কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নগর জীবনের দৈনন্দিন বিপর্যয়। পুজোর আগেই কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মহানগর কলকাতা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পার্ক সার্কাস (Park Circus) থেকে বালিগঞ্জ (Ballygunge) বহু এলাকায় হাঁটু-সমান জল, যানজট, নর্দমার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ নাগরিকরা। এমন দৃশ্যই প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এক প্রবীণ নাগরিকের কথায়, “প্রতি বছর একই ছবি বৃষ্টি মানেই জলবন্দি শহর। ১২ বছর হলো সরকার বদলেছে, কিন্তু সমস্যা একটিও মেটেনি।”এই নগর অসন্তোষই এখন ভোট রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠছে। বিজেপি শহরের এই অব্যবস্থাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে আক্রমণ করছে। তাদের বক্তব্য, “দিদির সরকার উন্নয়নের বদলে উৎসবের সরকারে পরিণত হয়েছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য (Biswajit Bhattacharya) বলেন, “২০২৬-এর ভোট শুধুই দলবদলের নয়, মনের বদলের নির্বাচন হতে পারে। শহর-গ্রাম, তরুণ-প্রবীণ— সবাই এখন চাইছে চাকরি, নিরাপত্তা ও বাস্তব উন্নয়ন। বৃষ্টিতে ডোবা রাস্তা, ঘুষে ভরা অফিস, এগুলোই ভোটে বড় ফ্যাক্টর।”
অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিজেপি রাজ্যে বিভাজনের রাজনীতি করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি এক সভায় বলেন, “আমরা লড়ব মানুষ নিয়ে, ধর্ম নয়। যারা রাজ্যকে ভাঙতে চায়, মানুষ তার জবাব দেবে।”রাজ্যে এখন যে রাজনৈতিক হাওয়া বইছে, তা কোনো একপক্ষের অনুকূলে নয়। একদিকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, অন্যদিকে বিজেপির সংগঠনের ঘাটতি— এই দুইয়ের মাঝে বাম ও কংগ্রেসও (Congress) নতুন জোটের সম্ভাবনা খুঁজছে। রাজনীতির এই পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে, ২০২৬ সালের ভোট লড়াই হয়ে উঠতে পারে এক নিঃশব্দ বিপ্লবের সূচনা। রাজ্যের সাধারণ মানুষ এখন চায় কর্মসংস্থান, সুশাসন ও উন্নয়ন— কার হাতে তারা ভবিষ্যৎ তুলে দেবে, সেটিই নির্ধারণ করবে পরবর্তী রাজনৈতিক অধ্যায়।
২০২৬ সালের ভোট হবে কেবল রাজনৈতিক নয় এটি হবে মানসিক, সাংস্কৃতিক ও শ্রেণিভিত্তিক লড়াই।
তৃণমূলের কাছে এটি টিকে থাকার যুদ্ধ, বিজেপির কাছে বিকল্প হওয়ার সুযোগ, আর বাম-কংগ্রেসের কাছে ফিরে আসার পরীক্ষা। বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাস বলে এখানে কিছুই স্থায়ী নয়। ভোটের মাটিতে যে দল মানুষের আস্থা পায়, সেই দলই রাজনীতির রাশ টানে।
এখন সেই আস্থা অর্জনের লড়াইয়ে চারটি শক্তিই ঝাঁপিয়ে পড়েছে মাঠ এখন প্রস্তুত, লড়াই শুরু মাত্র। (ক্রমশ…)
ছবি : প্রতীকী



