বসুধা চৌধুরী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়ের নাম সুচিত্রা সেন (Suchitra Sen)। তাঁকে ঘিরে আজও যত কাহিনি, যত বিতর্ক, তাতে বোঝা যায় তিনি শুধু অভিনেত্রীই নন, সিনেমায় একটি যুগের প্রতীক। একসময় তাঁর হাতের মুঠোয় ছিল বক্স অফিস। আর উত্তম কুমার (Uttam Kumar)-এর সঙ্গে তাঁর জুটি মানেই ছিল সাফল্যের গ্যারান্টি। অথচ কেরিয়ারের একেবারে শুরুর দিকে এক পরিচালক তাঁকে হুমকি দিয়েছিলেন, নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে দেবেন বলে। সিনেমা পাড়ার আলো-আঁধারির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই ঘটনাটি পরে ফাঁস করে একটি গসিপ ম্যাগাজিন। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সুচিত্রা সেন যখন চলচ্চিত্রজগতে নিজের জায়গা তৈরি করার জন্য লড়াই করছেন, তখনই এক নামী পরিচালক তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।

কিন্তু সুচিত্রা সরাসরি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। আর এতেই আগুন জ্বলে ওঠে পরিচালকের মনে। তিনি প্রকাশ্যে মহানায়িকাকে বলেন, ‘দেখি তুমি কীভাবে নায়িকা হও। তুমি যদি নায়িকা হও, তবে আমার হাতে ঘাস গজাবে!’
ঘটনাটি শোনার পর অনেকেই বিশ্বাস করতে পারেননি। কারণ সেই সময়কার পরিচালকেরা সাধারণত অভিনেত্রীদের সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখতেন। কিন্তু বাংলা ছবির ইতিহাসে এই অজানা অধ্যায় অনেককেই হতবাক করেছিল। পরিচালকের নাম আজও গোপন রাখা হয়েছে। তবে গসিপ ম্যাগাজিনের ভাষায়, এটি ছিল এক আত্মমর্যাদাশীল নারীর অন্যায়ের সামনে আপসহীন থাকার নিদর্শন। পরিচালকের সেই হুমকির জবাব সময়ই দিয়েছিল। ধীরে ধীরে সুচিত্রা তাঁর অসাধারণ অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং অনন্য সৌন্দর্যের জোরে বাংলা সিনেমার মহানায়িকা হয়ে ওঠেন। ‘সপ্তপদী’, ‘হারানো সুর’, ‘সাত পাক’ একের পর এক ছবিতে তাঁর অনবদ্য অভিনয় তাঁকে নিয়ে যায় অনন্য আসনে। শুধু বাংলা নয়, হিন্দি চলচ্চিত্রেও তিনি নিজের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন।
শোনা যায়, বহু বছর পর যখন সুচিত্রা সেন বাংলা ছবির শীর্ষ নায়িকা, তখন এক অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে দেখা হয় সেই পরিচালকের। উপস্থিত সকলের সামনে তিনি নাকি হেসে ঠাট্টা করে বলেন, ‘দেখি তো আপনার হাতের তালুতে ঘাস গজিয়েছে কি না!’ এই একবাক্যে যেন তিনি প্রমাণ করে দিয়েছিলেন, প্রতিভার কাছে হুমকি বা ভয় দেখানো কিছুই নয়।

সুচিত্রার ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তাঁকে অহংকারী বলা হলেও বাস্তবে তিনি ছিলেন একেবারেই আলাদা। ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর মতো সৎ এবং পেশাদার মানুষ দুর্লভ ছিলেন। নিন্দুকরা বলতেন, সাফল্যের কারণেই তাঁর আচরণে দম্ভ ধরা পড়ত। কিন্তু যাঁরা তাঁকে কাছ থেকে চিনতেন, তাঁরা বলতেন তিনি ছিলেন মাটির মানুষ।
আরও পড়ুন : Sonam Kapoor : ওজন ঝরিয়ে সৌন্দর্য ধরে রাখা, সোনম কপূরের হেঁশেলের রহস্য প্রকাশ্যে

বাংলা ছবির দর্শক আজও ভুলতে পারেন না উত্তম-সুচিত্রা জুটিকে। তাঁদের রসায়ন শুধু পর্দায় নয়, দর্শকদের হৃদয়েও চিরকালীন হয়ে আছে। কিন্তু এই ধরনের অপ্রকাশিত ঘটনা প্রমাণ করে, সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর জন্য সুচিত্রাকে কতটা লড়াই করতে হয়েছিল। আজকের দিনে যখন বিনোদন জগতে নানা বিতর্ক উঠে আসে, তখন সুচিত্রা সেনের এই অধ্যায় আবারও মনে করিয়ে দেয়, প্রতিভা ও সততার কাছে কোনও প্রতিশোধ বা হুমকিই টিকতে পারে না। হয়ত সেই কারণেই সুচিত্রা এখনও বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক অনন্য নাম।
সব ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sonakshi Sinha | বেড়াতে গিয়ে এমন ঘটবে জানতেন না সোনাক্ষী



