সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ দার্জিলিঙ : দার্জিলিঙ: উত্তরবঙ্গের পর্যটনকেন্দ্র দার্জিলিঙে (Darjeeling) এক রাতের টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত ২৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের ফলে মিরিক (Mirik), সুখিয়া (Sukhia), বিজনবাড়ি (Bijanbari), দুধিয়া (Dudhia) ও ভেংচি (Bengchi) এলাকায় ধস নেমে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে, স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মিরিক ও দুধিয়ার মাঝামাঝি এলাকায় একটি লোহার সেতু ভেঙে পড়লে সাতজনের মৃত্যু হয়। সুখিয়ায় সাতজন ও বিজনবাড়িতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, রোহিণী রোড (Rohini Road) -এ ধস নেমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
তিস্তা (Teesta) নদীর জল বেড়ে জাতীয় সড়কে উঠে আসায় তিস্তাবাজারের কাছে ২৯ মাইল ভালুখোলায় ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দিলারাম (Dilaram) ও রোহিণী রোডের একাংশে ধস নেমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। দার্জিলিঙের সঙ্গে সিকিম (Sikkim) ও কালিম্পং (Kalimpong) -এর যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শিলিগুড়ি (Siliguri) থেকে মিরিকের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। জিটিএ (GTA) -এর তরফে রক গার্ডেন ও টাইগার হিলসহ সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) দার্জিলিঙের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকার সবরকম সাহায্যের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানিয়েছেন, ভূটানে (Bhutan) প্রবল বর্ষণের কারণে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “দুর্যোগ তো আমাদের কারও হাতে নেই। আমরা মর্মাহত।”
উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজে সমস্যা হচ্ছে। দার্জিলিঙের একাধিক নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জিটিএ-র পক্ষ থেকে পর্যটকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে যাতায়াত ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে যাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই বিপর্যয়ের ফলে উত্তরবঙ্গের পর্যটনশিল্পে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও উদ্ধারকাজে প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন।
দার্জিলিঙের এই বিপর্যয়ের ঘটনায় রাজ্য সরকারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সাহায্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এই বিপর্যয়ের ফলে দার্জিলিঙের (Darjeeling) প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটনশিল্পের উপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। তবে, প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি শীঘ্রই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee, Mirik landslide | উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ ভূমিধস, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যটকদের নিরাপত্তা ও হোটেল ভাড়ার নিশ্চয়তা দিলেন



