সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিগত দর্শনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে | রাজ্যের এক বিশেষ রূপবদলের সময় আগামী ‘২৬ যা এক নতুন যুগের সূচনা ঘটতে চলেছে। কে হবে এই রাজ্যের মুখ্য মুখ। জনগণ কি চাইছে সমস্ত কিছু নিয়ে রাজনৈতিক কলমে কলম ধরলেন-
দেবব্রত সরকার
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬
(আজ তার দ্বিতীয় কিস্তি)
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Legislative Assembly Election 2026) রাজ্যের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (All India Trinamool Congress – AITC) এবং সুদীপ্ত অধিকারীর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party – BJP) প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে, এই নির্বাচনে রাজনৈতিক মঞ্চে কে এগিয়ে, তা নির্ধারণ করতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তৃণমূল কংগ্রেস ২০১১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে দলটি ২০২১ সালের নির্বাচনে ২১৫টি আসন লাভ করে। বর্তমানে, তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) দলের কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। দলটি আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
ভারতীয় জনতা পার্টি ২০২১ সালের নির্বাচনে ৭৭টি আসন লাভ করেছিল। দলটি পশ্চিমবঙ্গে শক্তি বৃদ্ধি করতে চাইছে এবং বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করছে। সম্প্রতি, বিজেপি রাজ্যে একতা বজায় রাখার জন্য “পার্টি ফার্স্ট” নীতি গ্রহণ করেছে। দলটি অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায়।
নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং ভোটার তালিকা : নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা পুনর্নবীকরণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়ায়, রাজ্যে ১৩,৮১৬টি নতুন বুথ স্থাপন করা হবে, যার ফলে মোট বুথের সংখ্যা ৮০,৬১৩ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৯৪,৪৭৯ হবে। এই উদ্যোগ ভোটারদের জন্য সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করবে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সব সময় সমাজিক পরিচিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তৃণমূল কংগ্রেস বাংলাভাষী ও বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে এবং এই পরিচিতিকে নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, বিজেপি বাংলার হিন্দু জাতীয়তাবাদী পরিচিতি তুলে ধরে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে শিক্ষিত ও জাতীয়তাবাদী অংশের প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে চায়।বর্তমানে, তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে বিজেপি ৫০টির কম আসন পাবে। তবে, নির্বাচনী ফলাফল বিভিন্ন ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করবে, যেমন ভোটারদের মনোভাব, রাজনৈতিক কৌশল এবং সামাজিক পরিচিতি। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি উভয়ই শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। নির্বাচনী প্রস্তুতি, ভোটার তালিকা পুনর্নবীকরণ এবং রাজনৈতিক কৌশল এই নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। রাজ্যের জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
পশ্চিমবঙ্গের ভোট রাজনীতির লড়াই- কে এগিয়ে?
রাজনৈতিক চক্রাবাক্যে পশ্চিমবঙ্গ সবসময়ই ছিল অত্যন্ত জটিল এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ২০১১ সাল থেকে যে রাজনৈতিক ধারা গড়ে উঠেছে, সেটি গত কয়েক বছর ধরে উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আগামী সময়ে পশ্চিমবঙ্গের ভোট রাজনীতির দৌড়ে কে এগিয়ে থাকবে: বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম নাকি কংগ্রেস?
এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে পারস্পরিক সমন্বয়, জনমত, সামাজিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও রাজনীতির ধরণ এ সবকটিই বিবেচনায় রাখতে হবে। নিচে চার পক্ষের বর্তমান অবস্থান, তাদের শক্তি ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ করা হল।
১. তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) : শাসক শক্তির সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ
>২০১১ সাল থেকে তৃণমূল সাফল্যের সঙ্গে ক্ষমতায় আছে।
>সাধারণ জনসংযোগ, গ্রামীণ-শহুরে পরিষেবা প্রকল্প, দলগত নেতৃবৃন্দের কার্যক্রম ইত্যাদির মাধ্যমে রাজ্যে তৃণমূলের পায়ের তলায় মাটি দৃঢ় রেখেছে।
>২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রায় ৪৮% ভোট পায়, আর ২১৩টি আসন জয়লাভ করে।
>২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ৪৫.৭৬ % ভোট পায় এবং ২৯টি আসন জয় করে, যেখানে বিজেপি পায় ৩৮.৭৩ %
>শাসক অবস্থান থেকে উন্নয়ন প্রকল্প, দানপত্র, জনকল্যাণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন ও তুলে ধরার সুযোগ।
>তৃণমূলের মাঠ সংগঠন এখনও সক্রিয়, দলের নেতারা জেলা-ব্লকে প্রবল উপস্থিতি রাখেন।
>বাংলা অহংকার, ভাষা ও সাংস্কৃতিক ইস্যুগুলোকে রাজনৈতিক করে এনে ভোটার আস্থা লাভ।
হিংসাসংক্রান্ত অভিযোগ ও ভোটিং দিন সহিংসতা : পঞ্চায়েত ও স্থানীয় নির্বাচনে হিংসা-সংঘর্ষের ঘটনা, নিরাপত্তার অভিযোগ থাকতে পারে।
>ব্যবস্থাগত দুর্নীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ: প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ বিরোধীদের হাতিয়ার।
>দলীয় নেতা ও কর্মীদের মধ্যে মনমালিন্য বা বিরোধ বড় দোষ হতে পারে।
>কেন্দ্রীয় চাপে মানসিক চাপ : কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির চাপে রাজ্য প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা। বর্তমানে শাসক অবস্থানে থাকা তৃণমূল সবচেয়ে দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে তা ধরে রাখাও চ্যালেঞ্জের বিষয়, বিশেষ করে যদি বিরোধীরা সফলভাবে ঐক্য গড়ে তুলতে পারে।
বিজেপি আশা ও সীমাবদ্ধতা
>২০১৬ নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি মাত্র ৩টি আসন পায়। >কিন্তু ২০১৯-এ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ১৮টি আসন জিতে ও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক গড়েছিল।
>২০২১ বিধানসভায় তারা ৭৭টি আসন পায়, প্রায় ৩৯ % ভোট পেতেও।
>২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপি ৩৮.৭৩ % ভোট পায়।
>কেন্দ্রীয় শক্তি ও সম্পদ: কেন্দ্রীয় সহায়তা, বড় লোকসভা নেতা ও কেন্দ্রের প্রতিপত্তি।
>ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি ও হিন্দু জাতীয়তাবাদ: ধর্মানুরাগী ও জাতীয়বাদী প্রবণতা কাজে লাগিয়ে ভোট ঘুরিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা।
>নতুন ভোটার ও সংকীর্ণ বিরোধীদের আকর্ষণ : বর্ধিত তথ্যপ্রচারণা, ডিজিটাল প্রচার, মিডিয়া ব্যবহার।
>ঐক্য ও যোগসূত্র : বিশেষ করে বাম+কংগ্রেস জোটের অংশীদার হিসেবে বিজেপি স্থান পেতে চেষ্টা করে।
>সংগঠনিক ভিত্তির দুর্বলতা : এখনও তৃণমূল-লেফ্ট-দ্বন্দ্ব্বের মতো গ্রামীণ ভিত্তি গড়ে ওঠেনি।
>রাজনৈতিক প্রতিরোধ ও ঐক্য : বিরোধীরা বিজেপি বিরোধে জোট গড়তে পারে >বাম-কংগ্রেস-তৃণমূলের অংশীদারিত্ব হতে পারে।
>ধর্মীয় বিভাজন ও বিতর্ক : ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক সুশাসনের প্রশ্নে বিরোধীদের আক্রমণ।
>দুর্নীতি, ভোট চুরি ও অভিযোগ : ভোটজনিত অভিযোগ ও কেন্দ্রীয় রাজস্ব নীতি বিরোধীদের হাতিয়ার।
>মিডিয়া ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া: বিরোধী প্রচারে মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ার সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া নাও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বর্তমানে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে সক্রিয় বিরোধী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে সেই ভূমিকা ধরে রাখতে হলে আরও সাংগঠনিক গভীরতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা গড়ে তুলতে হবে।
সিপিএম ও বামপন্থী দল
>পশ্চিমবঙ্গ ছিল বামের প্রভূত আনুকূল্যপূর্ণ অঞ্চল। ১৯৭৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বামের (Left Front) শাসন ছিল। কিন্তু ২০১১ সাল থেকে তৃণমূল ও কংগ্রেসের জোট বাধলে তাঁরা পরাজিত হয় এবং ধাপে ধাপে গ্লানিতে পতিত হয়।
>আজ প্রায়ই বিভিন্ন এলাকাতে তারা নিরুৎসাহিত হয় ও ভোট শেয়ারে সংকটে রয়েছে।
>ভাবনায় নির্ভরতা: জনবিচ্ছিন্নভাবে সার্বজনীন ন্যায়, শ্রমবাদ, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি ইস্যুতে তাদের ঐতিহ্য।
>বহুল বেস উপাদান : শ্রমিক, কৃষক ও প্রান্তিক শ্রমজীবীদের সমর্থন এখনও কিছুটা রয়েছে।
>নবজাগরণের চেষ্টা : “সংযুক্ত মোর্চা” বা সেক্যুলার ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স-এর মতো জোট গঠন করে তারা পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা করছে।
>দলীয় বিভাজন ও নেতৃত্ব সংকট : অনেক নেতা রাজ্য রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছেন।
>দূর্বল নির্বাচনী ফলাফল : ২০২৪-এ পার্লামেন্টে বাম-জোট ও কংগ্রেস মিলিয়ে মাত্র ১টি আসন জয় করে।
>প্রচারণার সীমাবদ্ধতা : আধুনিক মিডিয়া ও সামাজিক প্রভাব বিস্তারে পেছিয়ে থাকা।
>প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের চাপে : তৃণমূল ও বিজেপি তাদের জায়গা চাপে দিচ্ছে।
সুতরাং, বামপন্থী দল সংকটে। সাহসিক পুনরুজ্জীবন দরকার, যা স্বয়ং নির্ভরশীল নয় তা জোটে কার্যকর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে হতে পারে।
৪. কংগ্রেস (INC) : অবস্থান ও কার্যকলাপ
>কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে আজ অনেকাংশেই ফ্যাক্টর নয়।
>২০২৪ লোকসভায় রাজ্যে কংগ্রেস মাত্র ৪.৬৮ % ভোট পায় এবং ১টি আসন জিতে।
* “সংযুক্ত মোর্চা” (Left + Congress) জোট গঠনের মাধ্যমে তারা বিরোধীদল হিসেবে সক্রিয় হতে চাচ্ছে।
>ঐতিহ্য ও ব্র্যান্ড : ভারতীয় রাজনীতিতে একটি পুরনো ও জাতীয় দলের ভাবমূর্তি।
>জোট অবলম্বন ক্ষমতা : বাম ও অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেওয়া।
>কৌশলগত স্বলীলতা : নির্গত সময়ে কিছু নেতাদের প্রবল বক্তৃতা বা সামাজিক সমর্থন পাওয়া যেতে পারে।
>ভোটব্যাঙ্ক সংকট : জনসংখ্যার বড় অংশ তাদেরকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
>কর্মী ও নেতৃত্ব–প্রত্যাহার : অনেক কর্মী তৃণমূল বা বিজেপিতে চলে গিয়েছেন।
>আর্থ-সামাজিক সীমাবদ্ধতা : সীমিত অর্থ, মাধ্যম ও প্রচার সক্ষমতা।
>রাজনৈতিক আপোষ ও সমঝোতা : অনেক সময়ে নিম্নপ্রাধিকার জোটে বন্দি থাকায় নিজ ব্র্যান্ড ক্ষুণ্ন হয়।
কংগ্রেস এখন যেমন একটি ক্ষীণ আলো, তবে যদি তারা সঠিক জোট বা অভ্যন্তরীণ পুনরুজ্জীবন ঘটায়, তখন আবার প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
সামষ্টিক বিশ্লেষণ: কে এগিয়ে?
প্রতিটি দলের অবস্থান দেখে বলা যায়: প্রথমার্ধে এগিয়ে আছে তৃণমূল, কারণ তাদের শাসক অবস্থানের শক্তি, মাঠ সংগঠন এবং জনকল্যাণ প্রকল্প যথেষ্ট প্রভাব রাখে। দ্বিতীয় ধাপে বিজেপি, ইতিমধ্যেই তারা বিরোধীদল হিসেবে সবচেয়ে বড় শক্তি। যদি তারা সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সফল হয়, আগামী ভোটে আরও এগিয়ে যেতে পারে।
তৃতীয় ধাপে সিপিএম ও বামপন্থী দল, বিকল্প দল হিসেবে এখনও ভাবনায় শক্তি আছে, তবে তারা প্রাসঙ্গিকতা ফিরে আনতে না পারলে ভোটব্যাঙ্ক সংকটে পড়ে যাবে। উল্লেখ্য, কংগ্রেস বর্তমানে শক্তির দিক থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে, তবে একটি কার্যকর জোট এবং পুনর্গঠন যদি ঘটে, ভবিষ্যতে তারা পুনরায় খেলায় গড়তে পারে। সুতরাং, বর্তমান সময় অনুযায়ী এই রাজ্যে তৃণমূল-ই সবচেয়ে এগিয়ে, তারপরে বিজেপি, ও পরে সিপিএম/বাম ও কংগ্রেস। তবে রাজনীতির অলঙ্ঘন বলাটি হলো পরিস্থিতি যেকোনো সময় বদলায়। নির্বাচনী ইস্যু, বিন্যাস, জনমত ঢেউ, জোট গঠন ও নেতার জনমুগ্ধতা কোন দিক পরিচালিত করে, তা হবে নির্ধারক।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এখন এক উত্তপ্ত ময়দান। তৃণমূল শাসক অবস্থানে দৃঢ়, কিন্তু বিরোধীদল বিশেষ করে বিজেপির আক্ৰমণ তীব্র। সিপিএম এবং কংগ্রেস তাদের হারানো ভূমি ফিরে পেতে মরিয়া। বিজেপি যদি সংগঠন ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে নজর দেয়, এবং বাম-কংগ্রেস জোট দক্ষতার সঙ্গে চলতে পারে, তাহলে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে চেহারা বদলে যেতে পারে। (ক্রমশঃ)
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election 2026 | পশ্চিমবঙ্গের ভোট রাজনীতির লড়াই- কে এগিয়ে?



