পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : মহিলাদের এক দিনের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই দাপট দেখাল ইংল্যান্ড (England)। দক্ষিণ আফ্রিকাকে (South Africa) ১০ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে শক্তিশালী সূচনা করল ন্যাট শিভার ব্রান্ট (Nat Sciver-Brunt) বাহিনী। গুয়াহাটির (Guwahati) উইকেটে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর একেবারে নিখুঁত বোলিং প্রদর্শন করল ইংল্যান্ড। মাত্র ২০.৪ ওভারে ৬৯ রানে গুটিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। জবাবে ১৪.১ ওভারেই সহজে ৭৩ রান তুলে জয় ছিনিয়ে নিল ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার।
ম্যাচের শুরু থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের উপরে চাপ সৃষ্টি করেছিল ইংল্যান্ডের বোলাররা। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকেন প্রোটিয়া ব্যাটাররা। দলের পক্ষে একমাত্র লড়াই করার চেষ্টা করেন সিনালো জাফটা (Sinalo Jafta)। ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ২২ রান করেন তিনি। অন্যদিকে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ছিল অতিরিক্ত ৮! এমন অবস্থায় প্রতিপক্ষের সামনে দাঁড়ানোর মতো ইনিংস গড়তে ব্যর্থ দক্ষিণ আফ্রিকা।ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ ছিল যথেষ্ট আক্রমণাত্মক। লিনসে স্মিথ (Linsey Smith) ছিলেন সবচেয়ে সফল। তিনি মাত্র ৭ রান খরচ করে তুলে নেন ৩ উইকেট। ব্রান্ট ৫ রানে ২ উইকেট নেন। চার্লি ডিন (Charlie Dean) ১৪ রানে ২ উইকেট এবং সোফি একলেস্টোন (Sophie Ecclestone) ১৯ রানে ২ উইকেট দখল করেন। তবে লরেন বেল (Lauren Bell) কিছুটা ব্যর্থ হন। তিনি ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে মাত্র ১ উইকেট পান। তবুও দলের সামগ্রিক সাফল্যের সামনে তা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়।
মাত্র ৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একেবারেই কোনও রকম চাপে পড়েননি ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার ট্যামি বিউমন্ট (Tammy Beaumont) এবং অ্যামি জোন্স (Amy Jones)। সহজেই তাঁরা দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের সামলান। বিউমন্ট ৩৫ বলে ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে তিনটি বাউন্ডারি। অপর প্রান্তে জোন্স ছিলেন আরও কার্যকর। তিনি মাত্র ৫০ বলে ৪০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৬টি চার। ম্যাচের শেষে অধিনায়ক ন্যাট শিভার ব্রান্ট বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে এবং শুরু থেকেই সেটাই করতে পেরেছি। দলের সবাই নিজেদের ভূমিকা খুব ভালোভাবে পালন করেছে।”
অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং বিপর্যয় নিয়ে হতাশ কোচ বলেন, “আমাদের ব্যাটিং একেবারেই পরিকল্পনা মতো হয়নি। উইকেট হারাতে হারাতে আমরা বড় রান তুলতে পারিনি। আগামী ম্যাচে আমাদের মানসিকতা এবং ব্যাটিং দুই দিকেই উন্নতি করতে হবে।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এই জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ থেকেই শক্ত বার্তা দিল ইংল্যান্ড। শুধু ব্যাটিং বা বোলিং নয়, দলীয় সমন্বয় এবং ঠাণ্ডা মাথার ক্রিকেটই তাঁদের আলাদা করে তুলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটি বড় ধাক্কা হলেও সামনে এখনও সুযোগ রয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইংল্যান্ড এই মুহূর্তে বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট দল। তাঁদের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ, বৈচিত্র্যময় বোলিং আক্রমণ এবং অভিজ্ঞতা তাঁদের প্রতিপক্ষের থেকে এগিয়ে রাখছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিজেদের ব্যাটিং অর্ডার পুনর্গঠন করতে হবে এবং মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে হবে। মহিলাদের ক্রিকেটে এখন প্রতিযোগিতা অনেক বেড়ে গিয়েছে। প্রতিটি ম্যাচে ছোট ছোট ভুলও বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে সেটাই ঘটল। বিপরীতে ইংল্যান্ডের নিখুঁত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন তাঁদের জয় এনে দিল অনায়াসে। গুয়াহাটির দর্শকরা উপভোগ করলেন একতরফা কিন্তু রোমাঞ্চকর খেলা। ইংল্যান্ডের জয় শুধুমাত্র একটি ম্যাচের জয় নয়, বরং টুর্নামেন্টে তাঁদের শক্ত অবস্থানেরও প্রমাণ। আগামী ম্যাচগুলোতে তাঁদের কাছ থেকে আরও বড় লড়াই আশা করছে ক্রিকেটবিশ্ব।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Smriti Mandhana century | অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ইনিংসে বিশ্বরেকর্ড ছুঁলেন স্মৃতি মান্ধানা



