শোভনা মাইতি, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : শারদোৎসব বাঙালির জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। দুর্গাপুজোর সমাপ্তি মানেই বাঙালির মনে একরাশ হাহাকার, আবার আগামী বছরের অপেক্ষার কাউন্টডাউনও শুরু হয়ে যায় সঙ্গে সঙ্গে। এবছর (২০২৫) দুর্গাপুজো শেষ হয়েছে ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর (Bijoya Dashami) মধ্য দিয়ে। কিন্তু এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে ২০২৬ সালের শারদোৎসবের পূর্ণাঙ্গ তিথিপঞ্জি। আগামী বছরও বাঙালির প্রাণের এই উৎসবকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে নতুন প্রত্যাশা আর উন্মাদনা।
২০২৬ সালে মহালয়া (Mahalaya) পড়ছে ১০ অক্টোবর, শনিবার। সেদিনই দেবীপক্ষের সূচনা হবে এবং পিতৃপক্ষের অবসান। মহালয়ার ভোরবেলায় সর্বত্র ভেসে আসবে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অমর কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’। ঘরে ঘরে বাজবে আগমনী গান। বলা হয়ে থাকে, মহালয়ার দিন থেকেই উৎসবের আবহ স্পষ্টভাবে ছড়িয়ে পড়ে বাঙালির জীবনে। শুধু কলকাতা নয়, দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা বাঙালির মনেও এদিন থেকে শুরু হয় পূজোর আসল আনন্দ। এর এক সপ্তাহ পর, অর্থাৎ ১৭ অক্টোবর, শনিবার পড়ছে ষষ্ঠী (Shashthi)। এদিন দেবীর বোধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে দুর্গাপুজোর। কলকাতা ও মফস্বলের পুজোমণ্ডপে উদ্বোধনের হাওয়া বইবে। সারা শহরজুড়ে মণ্ডপপ্রাঙ্গণে ঢাকের বাদ্য আর আলোর ঝলকানি ঘিরে তুলবে উৎসবের আবহ। ষষ্ঠীর দিন থেকে আসল উৎসব শুরু হলেও তার আগে থেকেই মহানগরী এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জমে উঠবে প্যান্ডেল হপিংয়ের উৎসাহ। ১৮ অক্টোবর, রবিবার পালিত হবে সপ্তমী (Saptami)। ভোরে নবপত্রিকা প্রবেশ এবং কলাবৌ স্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সপ্তমীর পূজা। ঐতিহ্যবাহী এই আচার বাঙালির সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সপ্তমীর দিন থেকে মণ্ডপগুলোতে ভিড় বাড়তে শুরু করবে কয়েকগুণ। শহরের অলিগলি থেকে বড় বড় মণ্ডপে মানুষের ঢল নামবে। ১৯ অক্টোবর, সোমবার অষ্টমী (Ashtami)। দুর্গাপুজোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে অষ্টমীকে ধরা হয়। ভোরবেলায় লাখো মানুষ মণ্ডপে উপস্থিত থেকে অঞ্জলি দেন। আবার সন্ধ্যায় মহামায়ার সন্ধিপুজোর মাহাত্ম্য অতুলনীয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পুজোর সময়ই মহিষাসুরের সঙ্গে দেবীর যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তাই সন্ধিপুজোকে ঘিরে থাকে আলাদা আবেগ এবং আধ্যাত্মিকতা।
২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার নবমী (Navami)। এই দিনকে বলা যায় দুর্গাপুজোর মূল পর্বের শেষ দিন। সারা দিন ধরে থাকে নানা বিশেষ পূজার্চনা ও ভোগ নিবেদন। অনেক জায়গায় আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচ প্রতিযোগিতা এবং রাতভর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আলোর রোশনাই আর ঢাকের তালে সেদিনও জমজমাট থাকবে প্রতিটি মণ্ডপ। শেষে ২১ অক্টোবর, বুধবার বিজয়া দশমী (Bijoya Dashami)। এদিন দেবী দুর্গার বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে শারদোৎসব। সকাল থেকে মহিলারা অংশ নেবেন সিঁদুর খেলায়। সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে বিজয়ার আবহ। দেবীকে বিদায় জানানোর সময় চোখ ভিজবে অনেকেরই। প্রতিটি ঘরে ঘরে মিষ্টিমুখ ও প্রণামের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে মিলনের আবহ। এরপর আবার এক বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা, উমার পুনরাগমনের আশায়। ২০২৬ সালের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উৎসব হল কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা (Kojagari Lakshmi Puja)। ২০২৫ সালে এটি পড়ে ৬ অক্টোবর। কিন্তু আগামী বছর এই পূজা অনুষ্ঠিত হবে ২৫ অক্টোবর। শারদোৎসবের আবহ শেষ হওয়ার পর কোজাগরী পূজার আয়োজন আবার উৎসবপ্রেমী মানুষকে মাতিয়ে তুলবে। উৎসব নিয়ে মানুষের প্রত্যাশার শেষ নেই। কালীঘাট থেকে বেলুড় মঠ, কুমোরটুলি থেকে দক্ষিণেশ্বর, সর্বত্র দুর্গাপুজো নিয়ে তৈরি হবে এক অন্য রকম পরিবেশ। অনেকেরই মতে, “শারদোৎসব আমাদের শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং সাংস্কৃতিক মিলনের সেতু।” প্রতি বছর দেশ-বিদেশের পর্যটকরাও এই সময় ভিড় জমান কলকাতায়। আলোর শহর রূপে কলকাতাকে উপভোগ করার সুযোগ হাতছাড়া করেন না কেউ। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্ট এখন থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে। মহালয়া ১০ অক্টোবর থেকে শুরু করে বিজয়া দশমী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত, এই ১২ দিনের আবহই হয়ে উঠবে আগামী বছরের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। তাই ক্যালেন্ডারে তারিখ গুনতে শুরু করে দিয়েছেন উৎসবপ্রেমীরা।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Mahalaya live Akashvani | মহালয়ার ভোরে আবারও বীরেন্দ্রকৃষ্ণের কণ্ঠে কালজয়ী মহিষাসুরমর্দিনী




