সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জাকির হোসেন (Zakir Hossain) -এর উপর বোমা হামলার ঘটনায় গ্রেফতার তিন অভিযুক্তকে অবশেষে বেকসুর খালাস করল আদালত। বুধবার কলকাতার বিচারভবনে দীর্ঘ শুনানির পর বিচারক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিন অভিযুক্ত, সইদুল ইসলাম (Saidul Islam), আবু সামাদ (Abu Samad) এবং ইশা খান (Isha Khan) -এর কারও বিরুদ্ধেই পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ হাজির করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। ফলে তিন জনকেই মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির রাত, মুর্শিদাবাদের নিমতিতা রেলস্টেশন (Nimtita Railway Station) কেঁপে উঠেছিল ভয়াবহ বিস্ফোরণে। সেদিন রাত পৌনে ১০টা নাগাদ দলীয় বৈঠকে যোগ দিতে কলকাতার উদ্দেশ্যে ট্রেন ধরতে স্টেশনে পৌঁছেছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী জাকির হোসেন। হঠাৎই ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের মাঝখানে রাখা একটি ব্যাগ থেকে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন জাকির। প্রাণে বেঁচে গেলেও দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকতে হয় তাঁকে। শুধু তিনিই নন, তাঁর সঙ্গে থাকা দলের বহু সমর্থক ও সহযোগীও আহত হন।
প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি নাড়া দিয়েছিল গোটা রাজ্যকে। রাজ্য সরকার প্রথমে সিট গঠন করে সিআইডিকে (CID) দায়িত্ব দেয় তদন্তের। সেই সময়েই সইদুল ইসলাম ও আবু সামাদকে গ্রেফতার করা হয়। তবে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তদন্তভার নিজেদের হাতে নেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। এরপরই ইশা খানকে তলব করে গ্রেফতার করা হয়। প্রায় তিন বছরের দীর্ঘ তদন্ত, বার বার আদালত চত্বরে হাজিরা এবং জেলে কাটানো দিন শেষে অবশেষে মুক্তি মিলল এই অভিযুক্ত তিন জনের।অভিযুক্তদের আইনজীবী জাকির হোসেন (Zakir Hossain, Lawyer) আদালতের রায়ের পর বলেন, “তিন জনের কারও বিরুদ্ধে কোনও সাক্ষ্যপ্রমাণ মেলেনি। প্রাক্তন মন্ত্রীর তখন ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তা ছিল। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন। অথচ বিস্ফোরণের ঘটনায় মন্ত্রী ছাড়া আর কেউ আহত হলেন না, এমন ঘটনা আরও প্রশ্ন তৈরি করে। অভিযুক্তদের কাছ থেকে কোনও বিস্ফোরক বা প্রমাণও উদ্ধার করা যায়নি।”
প্রাক্তন মন্ত্রী জাকির হোসেন শুরু থেকেই এই হামলাকে খুনের চেষ্টা বলে দাবি করেছেন। এনআইএ-র তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। নিমতিতা স্টেশনে একাধিকবার সমর্থকদের নিয়ে বিক্ষোভও করেছেন জাকির। তাঁর অভিযোগ, “এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হামলা। আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল।” তবে আদালতের এই রায় কার্যত প্রশ্ন তুলেছে গোটা তদন্ত প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার উপর। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রাজ্যের শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তর্ক-বিতর্ক শুরু করেছেন। কেউ প্রশ্ন তুলছেন তদন্তের গাফিলতির দিকে, আবার কেউ বলছেন আদালতের এই রায় প্রমাণ করেছে অভিযুক্তদের ফাঁসানো হয়েছিল। তবে বাস্তবে, গুরুতর বিস্ফোরণে আহত হলেও আজও মানসিক ও শারীরিকভাবে তার প্রভাব বয়ে বেড়াচ্ছেন প্রাক্তন মন্ত্রী জাকির হোসেন।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে জেলে বন্দি থাকার পর তিন অভিযুক্তের পরিবার স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, “এতদিন ধরে মিথ্যা অভিযোগে আমাদের পরিবারের জীবন নষ্ট হয়েছে। অবশেষে সত্যি প্রকাশ পেয়েছে।” তবে এই মুক্তির রায় তদন্ত সংস্থার দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে সাধারণ মানুষের মনে। নিমতিতা বিস্ফোরণের মতো একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর তিন অভিযুক্তের খালাস হওয়া নিঃসন্দেহে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ঘটনার পর থেকে রাজনৈতিক উত্তাপ যেমন কমেনি, তেমনই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁক-ফোকর নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এই রায়ের পর আগামী দিনে প্রাক্তন মন্ত্রী এবং তাঁর সমর্থকরা কী পদক্ষেপ নেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shah Rukh Khan National Film Award | শাহরুখ খানের জাতীয় স্বীকৃতি: ‘জওয়ান’ অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হলেও নগদ পুরস্কার ভাগাভাগি



