AI Minister Diella | বিশ্বে প্রথমবার! AI মানবীকে মন্ত্রী করল আলবেনিয়া, নাম ‘ডায়েলা’

SHARE:

আলবেনিয়া বিশ্বে প্রথমবার এআই-মানবী ‘ডায়েলা’কে মন্ত্রী করল। দুর্নীতি দমন ও সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই তার প্রধান দায়িত্ব। জানুন এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের সবকিছু।

তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (বা AI) ব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। প্রযুক্তির হাত ধরে জীবনযাত্রা বদলে যাচ্ছে দ্রুত। তবে এবার ঘটল একেবারে নজিরবিহীন ঘটনা। বিশ্বের ইতিহাসে প্রথমবার এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-মানবীকে (AI humanoid) মন্ত্রী পদে বসাল আলবেনিয়া (Albania)। আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামা (Edi Rama) ঘোষণা করেছেন, নতুন এআই-মন্ত্রী (AI Minister) হিসেবে কাজ করবেন ‘ডায়েলা’ (Diella। তাঁর প্রধান দায়িত্ব হবে সরকারি খাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনা। আন্তর্জাতিক মহলে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে যেমন চাঞ্চল্য, তেমনি ভবিষ্যতের প্রশাসনিক ধাঁচ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এদি রামা (Edi Rama) বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের প্রশাসন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হোক। ডায়েলা প্রতিটি সরকারি দরপত্র ও বরাদ্দকৃত অর্থের ওপর কঠোর নজর রাখবে। তার নজরদারিতে কোনও রকম দুর্নীতি বা পক্ষপাতিত্ব সম্ভব হবে না।’ এর আগে আলবেনিয়ার সরকার বারবার দুর্নীতি ও মাদক কারবারে অভিযুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন বিরোধীরা। এবার সেই অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতেই এআই প্রযুক্তিকে (বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে) প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অন্যদিকে, ডায়েলার নামকরণও বিশেষভাবে অর্থবহ। আলবেনিয়ান ভাষায় ‘ডায়েলা’ শব্দের অর্থ ‘সূর্য’। প্রধানমন্ত্রী রামা জানিয়েছেন, এই নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে নতুন আলোর প্রতীক। সরকারের দাবি, ডায়েলা শুধু প্রশাসনের ডিজিটাল রূপকল্পই নয়, তা স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের প্রতিশ্রুতি।

আলবেনিয়া বিশ্বে প্রথমবার এআই-মানবী ‘ডায়েলা’কে মন্ত্রী করল। দুর্নীতি দমন ও সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই তার প্রধান দায়িত্ব। জানুন এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের সবকিছু।
আলবেনিয়ার AI মন্ত্রী ডায়েলা। ছবি : সংগৃহীত

কিন্তু, ডায়েলা একেবারে নতুন মুখ নয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকেই সে আলবেনিয়ার সরকারি ওয়েবসাইটে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ শুরু করেছিল। সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবায় সহায়তা করত এই এআই-মানবী। ধীরে ধীরে তার দক্ষতায় মুগ্ধ হন সরকারপ্রধান। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার মন্ত্রী পদে আনা হল ডায়েলাকে।প্রধানমন্ত্রী রামার মতে, সরকারি প্রকল্পে যখন বেসরকারি সংস্থাগুলো কাজ করে, তখন প্রায়শই অভিযোগ ওঠে স্বজনপোষণ, দুর্নীতি বা রাজনৈতিক প্রভাবের। তিনি বলেন, ‘মানুষকে মানুষ বিচার করতে গেলে অনেক সময় পক্ষপাতিত্ব বা ত্রুটি থেকে যায়। কিন্তু ডায়েলা সবকিছু ডেটার ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করবে। এর ফলে সরকারি টেন্ডার বা অর্থ বরাদ্দ হবে ১০০ শতাংশ নিরপেক্ষ।’

অন্যদিকে, ডায়েলার ভূমিকা মূলত নজরদারি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলেও তার দায়িত্বকে শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখছে না আলবেনিয়ার সরকার। তাকে সরাসরি ‘মন্ত্রী’ হিসেবে ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিশ্বের বুকে প্রযুক্তি ও প্রশাসনের মেলবন্ধনের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হল। বস্তুত, আলবেনিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গন বরাবরই দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ। একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা জানিয়েছে, ইউরোপের এই ছোট্ট দেশটিতে সরকারি খাতে দুর্নীতি বহু বছর ধরেই বড় সমস্যা। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী রামার শাসনকালে সেই দুর্নীতি আরও বেড়েছে। তাই এই এআই-মন্ত্রী (AI Minister Diella) নিয়োগ অনেকের কাছে রাজনৈতিক চাল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে সমর্থকরা মনে করছেন, এটাই হতে পারে ভবিষ্যতের রাজনীতির পথ।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিকদের মতে, এআই মন্ত্রী নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিয়ে আসার সাহসী উদ্যোগ নিল আলবেনিয়া। তবে এর ঝুঁকিও কম নয়। প্রশ্ন উঠছে, প্রযুক্তির উপর এতটা ভরসা করা কতটা যুক্তিযুক্ত? মানবিক বিচারবোধ বা সামাজিক বাস্তবতাকে কি কোনও যন্ত্র সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধি করতে পারে? সমালোচকরা বলছেন, সরকারি প্রকল্পে সবকিছু শুধু ডেটার ভিত্তিতে নির্ধারণ করলে মানবিক দিকগুলো হারিয়ে যেতে পারে। তবুও, প্রযুক্তির এই প্রয়োগকে অনেকেই দেখছেন ভবিষ্যতের একটি ঝলক হিসেবে। কেউ কেউ বলছেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হ্রাসের জন্য এটাই হতে পারে সেরা উপায়। আবার কেউ আশঙ্কা করছেন, যদি প্রযুক্তিই সব সিদ্ধান্ত নেয়, তবে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার জায়গাটা কোথায় থাকবে?

মন্ত্রী ডায়েলা এখন কার্যত গোটা বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে আলবেনিয়ার শাসকদল দাবি করছে, ‘ডায়েলা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ প্রশাসনের ভিত্তি তৈরি করবে।’ অন্যদিকে সমালোচকরা সতর্ক করছেন, ‘একটি এআই হয়ত ডেটা-ভিত্তিক বিশ্লেষণে দক্ষ, কিন্তু গণতন্ত্র চালায় মানুষ, যন্ত্র নয়।’ সব মিলিয়ে, বিশ্ববাসী এখন নজর রাখছে আলবেনিয়ার দিকে। দেখার বিষয়, ডায়েলা সত্যিই কি দুর্নীতি দূর করতে পারে, নাকি প্রযুক্তির নামে এটি কেবল রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়াবে। তবে এটুকু নিশ্চিত, এই মুহূর্তে আলবেনিয়া একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যেখানে প্রশাসনে মানুষ নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই প্রধান সিদ্ধান্ত প্রণেতা হয়ে উঠছে।

-প্রতীকী চিত্র
আরও পড়ুন : Vice President of India, C.P. Radhakrishnan | দেশের ১৫তম উপরাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নিলেন সিপি রাধাকৃষ্ণন

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন