সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আগে শূন্যপদ সংক্রান্ত তালিকা প্রকাশ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। শুক্রবার কমিশনের তরফে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ স্তর মিলিয়ে মোট শূন্যপদ রয়েছে ৩৫ হাজার ৭২৬টি। এই বিশাল সংখ্যক শূন্যপদে নিয়োগের জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে কয়েক লক্ষ প্রার্থী প্রস্তুত।
আগামী ৭ এবং ১৪ সেপ্টেম্বর দু’দফায় অনুষ্ঠিত হবে শিক্ষক নিয়োগের এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ৭ সেপ্টেম্বর নবম-দশমের পরীক্ষা এবং ১৪ সেপ্টেম্বর একাদশ-দ্বাদশ স্তরের পরীক্ষা নির্ধারিত হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় অংশ নেবেন প্রায় ৫ লক্ষ ৮৩ হাজার প্রার্থী। এর মধ্যে নবম-দশম শ্রেণির জন্য ২৩ হাজার ২১২টি পদ শূন্য এবং একাদশ-দ্বাদশ স্তরে ১২ হাজার ৫১৪টি পদ খালি রয়েছে। কমিশনের প্রকাশিত তথ্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মোট শূন্যপদের মধ্যে প্রায় ১৭ শতাংশ সংরক্ষিত থাকছে ওবিসি প্রার্থীদের জন্য। এই নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে প্রার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক আগ্রহ এবং উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কারণ শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৬ সালের গোটা প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ফলে চাকরি হারান অন্তত ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। এই ঘটনার পর থেকেই নতুন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ নিশ্চিত করতে কমিশনকে নির্দেশ দেয় আদালত। অবশেষে সেই নির্দেশ অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের এই পরীক্ষা হতে চলেছে।

কিন্তু, এই পরীক্ষা যাতে পিছিয়ে দেওয়া হয় সেই আবেদন নিয়েও সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার (Justice Sanjay Kumar) এবং বিচারপতি অরবিন্দ কুমার (Justice Aravind Kumar)-এর বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। যদিও আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। ফলে নির্ধারিত দিনেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইতিমধ্যেই ‘দাগি অযোগ্যদের’ তালিকা প্রকাশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। সেই তালিকায় মোট ১৮০৬ জনের নাম রয়েছে। তালিকায় প্রার্থীদের নাম, রোল নম্বর এবং সিরিয়াল নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই তালিকা প্রকাশের আগে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন কমিশনের আধিকারিকরা। এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার (Siddhartha Majumdar)-এর উপস্থিতিতেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তালিকা প্রকাশের পর জানা যায়, ওই ‘দাগি অযোগ্য’ প্রার্থীদের কেউ কেউ পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন। তাঁদের আবেদন বাতিল করার প্রক্রিয়াও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আদালতের কড়া নজরদারির পাশাপাশি, রাজ্যজুড়ে অসংখ্য শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎও নির্ভর করছে আসন্ন এই পরীক্ষার উপর। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত থাকায় প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। তবে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ফের ভরসা ফিরে এসেছে। অনেক প্রার্থীই বলছেন, “এবার অন্তত স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ হবে বলে আশা করছি।”

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য কমিশন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। অনলাইন মাধ্যমে অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করার পরিকল্পনাও রয়েছে। কারণ পূর্ববর্তী পরীক্ষাগুলিতে নানা অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। তাই এ বার সেই পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কমিশন সতর্ক। উল্লেখ্য, এই পরীক্ষা শুধুমাত্র নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়াই নয়, তা রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতারও এক বড় পরীক্ষা। আদালতের নির্দেশ, কমিশনের তৎপরতা ও প্রার্থীদের প্রত্যাশা সব মিলে সেপ্টেম্বরের এই নিয়োগ পরীক্ষা রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় রচনা করতে চলেছে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mobile Recharge Cost in India | মোবাইল রিচার্জের বাড়তি চাপ: সংকটে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার, জরুরি পদক্ষেপের দাবি




