China Bizarre Hotel Dog Companion | একাকীত্ব দূর করতে কুকুর সঙ্গী! চিনের অদ্ভুত হোটেলে অতিথিদের জন্য অভিনব ব্যবস্থা

SHARE:

শ্রেয়সী মজুমদার ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক : বেড়াতে গিয়ে হোটেলে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে কমবেশি সবারই কিছু না কিছু গল্প থাকে। কেউ বিলাসবহুল হোটেলের ঝাঁ-চকচকে আভিজাত্য খোঁজেন, আবার কারও কাছে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা থাকলেই যথেষ্ট। তবে পৃথিবীতে এমন কিছু হোটেলও রয়েছে যেগুলির বিশেষ পরিষেবা শুনলে চোখ কপালে উঠবে। ঠিক তেমনই এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে চিনের (China) উহানের (Wuhan) একটি হোটেল।

এই পরিষেবাটি চালু হয়েছে চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে এবং ইতিমধ্যেই ৩০০ জনেরও বেশি অতিথি এই সুযোগ গ্রহণ করেছেন। হোটেলের ম্যানেজার ডং (Dong) -এর কথায়, ‘‘আমাদের বেশিরভাগ অতিথিই পরিষেবাটি অত্যন্ত পছন্দ করেছেন। অনেকেই বলেছেন, এই উদ্যোগ তাদের ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করেছে।’’
-প্রতীকী চিত্র

একা ভ্রমণে বেরিয়ে হোটেলে দীর্ঘদিন থাকতে হয় অনেককেই। দিন যত বাড়ে, ততই একঘেয়েমি ও একাকীত্ব ভর করে। এই সমস্যার সমাধান নিয়ে এসেছে উহানের ‘কান্ট্রি গার্ডেন ফিনিক্স’ (Country Garden Phoenix) হোটেল। সেখানে একা অতিথিদের জন্য বিশেষ সঙ্গীর ব্যবস্থা করা হয়, যে শুধু একই কামরায় থাকে তা-ই না, প্রতিটি মুহূর্তে আদর আর সঙ্গ দিয়ে সময়টাকে আনন্দময় করে তোলে। কিন্তু এই ‘বন্ধু’ মানুষ নয়, বরং মানুষের সবচেয়ে বিশ্বস্ত প্রাণী। একটি কুকুর।

হোটেলেই মেলে পোষ্য সঙ্গী। হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, অতিথিরা চাইলে গোল্ডেন রিট্রিভার (Golden Retriever), হাস্কি (Husky) বা ওয়েস্ট হাইল্যান্ড টেরিয়ার (West Highland Terrier)-এর মতো জনপ্রিয় প্রজাতির কুকুরকে বেছে নিতে পারেন। সঙ্গী কুকুরটি থাকবে একই কামরায়, খেলবে, সময় কাটাবে ও অতিথিকে একাকীত্ব থেকে মুক্তি দেবে। এর জন্য প্রতিদিন প্রায় ৪,৭০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, এই পরিষেবাটি চালু হয়েছে চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে এবং ইতিমধ্যেই ৩০০ জনেরও বেশি অতিথি এই সুযোগ গ্রহণ করেছেন। হোটেলের ম্যানেজার ডং (Dong) -এর কথায়, ‘‘আমাদের বেশিরভাগ অতিথিই পরিষেবাটি অত্যন্ত পছন্দ করেছেন। অনেকেই বলেছেন, এই উদ্যোগ তাদের ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করেছে।’’

এই পরিষেবাটি চালু হয়েছে চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে এবং ইতিমধ্যেই ৩০০ জনেরও বেশি অতিথি এই সুযোগ গ্রহণ করেছেন। হোটেলের ম্যানেজার ডং (Dong) -এর কথায়, ‘‘আমাদের বেশিরভাগ অতিথিই পরিষেবাটি অত্যন্ত পছন্দ করেছেন। অনেকেই বলেছেন, এই উদ্যোগ তাদের ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করেছে।’’
-প্রতীকী চিত্র

অন্যদিকে, চিনে বর্তমানে পোষ্য-সংক্রান্ত অর্থনীতি বিস্ময়কর হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু ২০২৪ সালেই শহরাঞ্চলে এই বাজারের আকার দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার কোটি ইউয়ান, যা বার্ষিক প্রায় ৭.৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের মধ্যে এটি ৪০ হাজার কোটি ইউয়ানে পৌঁছে যাবে।পোষ্যদের নিয়ে ক্যাফে, ফিটনেস কার্যক্রম, এমনকী যোগব্যায়াম পর্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি পোষ্যের সাজসজ্জা ও যত্নের ক্ষেত্রেও সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই আবহেই ‘কান্ট্রি গার্ডেন ফিনিক্স’-এর মতো হোটেলগুলি কুকুরকে অতিথিদের সহচর হিসেবে রাখার অভিনব পরিষেবা চালু করেছে।

বর্তমানে হোটেলটিতে ১০টি প্রশিক্ষিত কুকুর রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে রিট্রিভার, হাস্কি ও টেরিয়ার। প্রতিটি কুকুরকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ও নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয় যাতে অতিথিদের সঙ্গ দেওয়ার সময় কোনও সমস্যা না হয়। হোটেল কর্তৃপক্ষ এমনকী, পেশাদার প্রশিক্ষকও নিয়োগ করেছে।
অতিথিদের অভিজ্ঞতাও ভিন্ন ভিন্ন। কেউ কেউ জানান, তাদের কুকুর সঙ্গী প্রচুর খেলাধুলা করেছে, আবার কেউ বলেন, সারমেয়টি শান্ত স্বভাবের ছিল এবং নিঃশব্দে পাশে বসে থেকেছে, মাঝে মাঝে গা-হাত চেটে আদরও করেছে।

এই উদ্যোগে শুধু পর্যটকরাই নয়, কুকুর মালিকরাও লাভবান হচ্ছেন। তাদের পোষ্যকে হোটেলে পাঠানোর বিনিময়ে অর্থ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মালিকদের ভাল লাগছে যে তাদের কুকুর অন্য মানুষের আনন্দের কারণ হচ্ছে। এক কুকুর মালিকের কথায়, ‘‘আগে আমি আমার পোষ্যকে ক্যাফেতে পাঠাতাম। কিন্তু এখন সে হোটেলে যায়, অতিথিদের সঙ্গে খেলে আর সময় কাটায়। এতে আমি খুশি।’’ কিন্তু, পুরো উদ্যোগে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তার জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী হতে হবে। তাই পেশাদার প্রশিক্ষক রাখা বাধ্যতামূলক করার দাবি জোরালো হচ্ছে।

এই পরিষেবাটি চালু হয়েছে চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে এবং ইতিমধ্যেই ৩০০ জনেরও বেশি অতিথি এই সুযোগ গ্রহণ করেছেন। হোটেলের ম্যানেজার ডং (Dong) -এর কথায়, ‘‘আমাদের বেশিরভাগ অতিথিই পরিষেবাটি অত্যন্ত পছন্দ করেছেন। অনেকেই বলেছেন, এই উদ্যোগ তাদের ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করেছে।’’
-প্রতীকী চিত্র

তথ্য বলছে, বর্তমানে চিনে শিশুদের চেয়ে পোষ্যের সংখ্যা বেশি। ২০২৪ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, চার বছরের কম বয়সি শিশুদের তুলনায় দেশটিতে পোষ্যের সংখ্যা অনেক বেশি। শহরে প্রতি আটজনের মধ্যে একজন অন্তত একটি পোষ্য লালন করছেন। ফলে বাজার বাড়ছে, সঙ্গে বাড়ছে এমন অভিনব উদ্যোগও। সব মিলিয়ে, ভ্রমণের সময় একাকীত্বের সঙ্গী হিসেবে প্রশিক্ষিত কুকুর দেওয়ার চিন্তাটি নিঃসন্দেহে অভিনব। আর সেটিই এখন দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে উহানের এই হোটেলে।

সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : US China agreement : চিন-মার্কিন সমঝোতা: পড়ুয়াদের মুক্ত ভিসা, খনিজেও ছাড়পত্র

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment