সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : মহারাষ্ট্রের পালঘর (Palghar) জেলায় ভয়াবহ নারীপাচার চক্রের কবল থেকে এক বাংলাদেশি কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের যৌথ অভিযানে নয়গাঁও (Naigaon)-এর একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় এই নাবালিকা। একই সঙ্গে ওই ফ্ল্যাট থেকে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে নারীপাচার ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া কিশোরীর বয়স অল্প হলেও তাঁর জীবনে নেমে এসেছে অকথ্য নির্যাতনের অন্ধকার। তদন্তে উঠে এসেছে, মাত্র তিন মাসে প্রায় ২০০ জন ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ। শুধু এই কিশোরীই নন, অভিযানে আরও পাঁচ জন মহিলা উদ্ধার হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিন জনই বাংলাদেশের নাগরিক। নাবালিকাকে বর্তমানে জুভেনাইল ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে নিরাপত্তার স্বার্থে। পুলিশ সূত্রে আরও খবর, পড়াশোনায় ব্যর্থ হয়ে পরিবার ও সমাজের ভয়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসে এই কিশোরী। এক পরিচিত মহিলার সহায়তায় অবৈধভাবে সে ভারতে প্রবেশ করে। কিন্তু সেই পরিচিতই তাকে গুজরাতের (Gujarat) নাদিয়াদে (Nadiad) নিয়ে গিয়ে পাচারচক্রের হাতে তুলে দেয়। নওগাঁও থানার (Naugaon Police Station) তদন্তকারী আধিকারিক বিজয় কদম (Vijay Kadam) জানিয়েছেন, “ভারতে প্রবেশের পরপরই ওই কিশোরীকে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপর তাকে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় নামানো হয় এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করা হয়।”
পুলিশ সূত্রে আরও উল্লেখ, কিশোরীকে এবং অন্যান্য মহিলাদের পাচারের আগে নিয়মিত মাদক খাওয়ানো হত, যাতে তারা প্রতিরোধ করতে না পারে। তারপর বিভিন্ন রাজ্যে তাঁদের পাঠিয়ে দেওয়া হত। নির্যাতিতার দাবি অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যেই তাকে একাধিক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়, এবং তিন মাসে অন্তত ২০০ জনের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
পুলিস প্রাথমিক তদন্তে আরও জানতে পারে বলে সূত্র মারফৎ খবর, পাচারচক্রটির জাল ছড়িয়ে আছে মহারাষ্ট্র, গুজরাত, কর্নাটক (Karnataka), এমনকী দেশের অন্যান্য রাজ্যেও। গত ২৬ জুলাই নভি মুম্বই (Navi Mumbai), পুণে (Pune), গুজরাত ও কর্নাটক-সহ একাধিক রাজ্যে একযোগে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানেই এই চক্রের বিভিন্ন অংশ ভেঙে দেওয়া হয় এবং পালঘর থেকে উদ্ধার হয় বাংলাদেশি কিশোরী ও অন্যান্য ভুক্তভোগীরা।
এক তদন্তকারী আধিকারিকের কথায়, “এটি একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক পাচারচক্র। বাংলাদেশ থেকে মেয়েদের পাচার করে ভারতে এনে যৌন ব্যবসায় নামানো হচ্ছে। আমাদের প্রাথমিক ধারণা, এই চক্রের মূল কাণ্ডারিরা এখনও গ্রেফতার হয়নি। আমরা দেশজুড়ে তাদের খোঁজ চালাচ্ছি।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এই ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শিশু ও নারী পাচারের বিরুদ্ধে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি, পাচারকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে তারা।
অন্যদিকে, পালঘরের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, নারী ও শিশু পাচার চক্রের শিকড় কতটা গভীরে এবং তার বিরুদ্ধে লড়াই কতটা কঠিন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির দ্রুত পদক্ষেপ সত্ত্বেও পাচারকারীরা নানা ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া এই নোংরা ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে উদ্ধার হওয়া প্রত্যেকের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একাধিক সংস্থা কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি, জেরা চালিয়ে পাচারচক্রের অন্যান্য সদস্য এবং মূল মাস্টারমাইন্ডদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ঘটনাটি সমাজকে আবারও সতর্ক করল, মানুষের দেহ কেনাবেচার এই অমানবিক ব্যবসা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তার অনুভূতি অর্ধেকই থেকে যাবে।
ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : Katrina Kaif relationship advice, privacy in marriage | বিয়ের পরেও ব্যক্তিগত পরিসর জরুরি, বলছেন ক্যাটরিনা! সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে ‘বিশ্বাস’ই আসল চাবিকাঠি




