সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : বিতর্কের কাঁটাতার ছিঁড়ে এসে জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে পৌঁছে গেল এক ব্যতিক্রমী সিনেমা, ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ (The Kerala Story)। আর সেই সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হল এক বাঙালি পরিচালকের নাম। ৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা পরিচালকের সম্মান পেলেন পরিচালক সুদীপ্ত সেন (Sudipto Sen)। ২০২৩ সালের অন্যতম আলোচিত ছবি ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ মুক্তির দিন থেকেই ছিল তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে। কিন্তু এই বিতর্কই যেন ছবিটিকে পৌঁছে দেয় জাতীয় স্তরের এক ব্যতিক্রমী স্বীকৃতির কাছে। ছবির বিষয়বস্তু, উপস্থাপনা, এবং বাস্তবতাকে ঘিরে শুরু থেকেই ছিল আলোচনা। ঠিক সেই কারণেই ছবিটি পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি, যা অনেকের কাছে বিস্ময়, আবার অনেকের কাছে ন্যায্য প্রাপ্তি।

ছবির গল্প গড়ে উঠেছিল এমন এক বাস্তব পরিস্থিতিকে ঘিরে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল, কেরালা থেকে প্রায় ৩২,০০০ তরুণীকে জোর করে বা প্রতারণার মাধ্যমে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করে জঙ্গি সংগঠন আইএসে (ISIS) অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরিচালকের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি সামাজিক সমস্যাই না বরং একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এই বাস্তবতা তুলে ধরতেই সুদীপ্ত সেন নির্মাণ করেন দ্য কেরালা স্টোরি। এই ছবির সূত্রপাত আসলে আরও আগে। ২০২২ সালে পরিচালক সুদীপ্ত সেন একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন In the Name of Love নামে, যা নিয়েও তৈরি হয় উত্তেজনা। সেই তথ্যচিত্রকেই বড় পরিসরে উপস্থাপন করা হয় দ্য কেরালা স্টোরি ছবির মাধ্যমে। এই কাজটি করতে গিয়ে পরিচালক একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন, সেন্সর বোর্ডের আপত্তি, রাজনীতিকদের সমালোচনা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্ক।
ছবির মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেন বলিউড অভিনেত্রী আদা শর্মা (Adah Sharma)। এই ছবিতে তাঁর সাহসী অভিনয় অনেকের নজর কাড়ে, আবার অনেকে তাঁর ওপরও নেমে আসেন সমালোচনার ঝড়। তবে নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন অভিনেত্রী। এক সাক্ষাৎকারে আদা বলেন, “আমি জানতাম এই ছবিটি সহজ হবে না। তবে সত্যি কথা বলা সহজও তো নয়। যে প্রতিটি মেয়ের গল্প এই ছবির মধ্যে আছে, তারা তো কষ্টই পেয়েছে, ভয় তো ওরাই পেয়েছে।” পরিচালক সুদীপ্ত সেন এক বিবৃতিতে বলেন, “এটা আমার জীবনের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত। দ্য কেরালা স্টোরি শুধু একটি সিনেমা নয়, এটা একটা মিশন ছিল। আমি চাই মানুষ চোখ খুলে দেখুক, কীভাবে রাজনীতি, ধর্ম ও সমাজ মিলে এক বিপজ্জনক চক্র তৈরি করেছে।”

এই পুরস্কার পাওয়ার পরে বলিউডে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন পরিচালক। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলেও এই ঘোষণাকে ঘিরে নানান প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ একে ‘সত্যের জয়’ বলছেন, কেউ আবার ‘সরকারি পক্ষপাতিত্ব’ বলে কটাক্ষ করছেন। রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে দেখা যাচ্ছে এক নির্মাতার অক্লান্ত পরিশ্রম, নিষ্ঠা, এবং সাহসের ফলাফল। সুদীপ্ত সেন এর আগেও বিতর্কিত বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন, তবে দ্য কেরালা স্টোরি যেন তাঁর কেরিয়ারে এক যুগান্তকারী মাইলফলক হয়ে উঠেছে।

এই জাতীয় স্বীকৃতি যে পরিচালক ও তাঁর ছবির ভাবনাকে আরও শক্ত ভিত দেবে, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষত ভারতীয় সমাজে ধর্ম, রাজনীতি ও নারীর অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে যেভাবে ছবি তৈরি হয়, সেখানে দ্য কেরালা স্টোরি এক চিরচেনা বলিউড ছকের বাইরে গিয়ে সাহসের সঙ্গে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে। এই পুরস্কার ভবিষ্যতের নির্মাতাদেরও অনুপ্রাণিত করবে, সত্য কথা বলতে ভয় নয়, বরং সৃষ্টিশীলতাই হোক প্রতিবাদের ভাষা।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shah Rukh Khan Jawan Movie Success, National Film Awards Winner 2025 জাতীয় মঞ্চে বাজিগরের মহারণ! ‘জওয়ান’ ছবির জন্য প্রথমবার জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত শাহরুখ খান



