সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী রানি মুখার্জি (Rani Mukherji) ফের প্রমাণ করলেন, আসল প্রতিভা কখনও থামে না। ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ (Mrs Chatterjee Vs Norway) ছবিতে তাঁর হৃদয়বিদারক অভিনয়ের জন্য তিনি জিতলেন ৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে (71st National Film Awards) সেরা অভিনেত্রীর সম্মান। এই সিনেমা বাস্তব জীবনের এক মায়ের লড়াইকে তুলে ধরে, যেখানে রানি এক বঙ্গমাতার চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেন।

এই সম্মান শুধু রানির কেরিয়ারেরই নয়, গোটা বলিউডের গর্বের মুহূর্ত। বাস্তব কাহিনি অবলম্বনে তৈরি এই সিনেমায় তাঁর পারফরম্যান্স বহু দর্শকের চোখে জল এনে দিয়েছিল। শিশুদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক অভিভাবকত্ব আইনের জটিলতা নিয়ে নির্মিত এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে কোর্টরুম ড্রামা, সব জায়গায় সাড়া ফেলেছিল। রানির কথায়, “এই চরিত্রটি আমার জীবনের অন্যতম কঠিন ভূমিকা ছিল। একজন মায়ের আবেগকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা সহজ ছিল না। এই সম্মান পেয়ে আমি অভিভূত। এটি শুধুমাত্র আমার নয়, প্রতিটি মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা।” ছবির পরিচালক আশিমা ছিব্বার (Ashima Chibber) বলেন, “রানি নিজেকে এই চরিত্রে ঢেলে দিয়েছিলেন। আমরা শুটিংয়ের সময় প্রায়ই ভুলে যেতাম, সেটে একজন অভিনেত্রী আছেন। মনে হতো, সত্যিই সেই মা এসে গিয়েছেন।” এই ছবিতে রানির সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন টলিউড তারকা অনির্বাণ ভট্টাচার্য (Anirban Bhattacharya)। তাঁর পারফরম্যান্সও প্রশংসিত হয়েছে। বলিউডে অনির্বাণের এই প্রথম বড় সুযোগ ছিল, তা তিনি নিঃসন্দেহে সফলভাবে কাজে লাগিয়েছেন।

রানি মুখার্জির বলিউড যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৬ সালে ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’ (Raja Ki Aayegi Baraat) ছবির মাধ্যমে। তবে তার আগে তিনি অভিনয় করেছিলেন বাংলা ছবি ‘বিয়ের ফুল’-এ। তারপর একে একে ‘গুলাম’ (Ghulam), ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ (Kuch Kuch Hota Hai), ‘সাথিয়া’ (Saathiya), ‘হাম তুম’ (Hum Tum), ‘ব্ল্যাক’ (Black), ‘বীর-জারা’ (Veer-Zaara), ‘বান্টি অউর বাবলি’ (Bunty Aur Babli), ‘মর্দানি’ (Mardaani) ইত্যাদি ছবিতে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেন। বিশেষ করে ‘ব্ল্যাক’ সিনেমায় এক বোবা-মূক মেয়ের ভূমিকায় তিনি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে একটি চিরস্মরণীয় অধ্যায় রচনা করেন। ২

০১৪ সালে পরিচালক ও প্রযোজক আদিত্য চোপড়া (Aditya Chopra)-র সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার পর রানি খানিকটা সময়ের জন্য চলচ্চিত্র থেকে সরে যান। কিন্তু ২০১৯ সালে ‘মর্দানি ২’ (Mardaani 2) দিয়ে আবারও বড়পর্দায় প্রত্যাবর্তন করেন। প্রতিটি কামব্যাক যেন এক নতুন মাত্রা এনে দেয় তার কেরিয়ারে। ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ ছিল তাঁর আরও একটি ক্যারিশম্যাটিক কামব্যাক। এই সম্মান প্রাপ্তির পর বলিউডে জল্পনা শুরু হয়ে গেছে, এবার কি রানিকে আরও ঘন ঘন দেখা যাবে বড়পর্দায়? এমন প্রশ্নের উত্তরে রানি জানান, “আমি অভিনয়কে ভালবাসি। কিন্তু এখন আমি একজন মা। তাই কাজ বাছাই করে করি। তবে যখনই ফিরে আসি, চাই সেটা যেন হৃদয় ছুঁয়ে যায় দর্শকের।” রানির এই সম্মান অর্জন বলিউডের পাশাপাশি বাঙালিদের মধ্যেও আলাদা গর্বের অনুভূতি এনে দিয়েছে। কারণ তিনি একজন গর্বিত বাঙালি অভিনেত্রী, যিনি নিজের প্রতিভা দিয়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতি অর্জন করেছেন।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shah Rukh Khan Jawan Movie Success, National Film Awards Winner 2025 জাতীয় মঞ্চে বাজিগরের মহারণ! ‘জওয়ান’ ছবির জন্য প্রথমবার জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত শাহরুখ খান



