Rural Income Growth India | গ্রামের আয়ে হুহু করে বৃদ্ধি! নাবার্ড রিপোর্টে উঠে এল চমকপ্রদ তথ্য

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: দেশের গ্রাম গঞ্জে আয় বেড়েছে আগের তুলনায় অনেকটাই। চিরাচরিত গ্রামীণ ভারতের ছবি বদলাচ্ছে দ্রুত। দেশের শীর্ষ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন ব্যাঙ্ক নাবার্ড (NABARD) সম্প্রতি এক রিপোর্টে জানাল, ২০২৪ সালে গ্রামীণ পরিবারের গড় আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত। এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ বেশি। নাবার্ড প্রতি বছরই ভারতের গ্রামীণ পরিবারগুলির অর্থনৈতিক অবস্থা, আয়, ব্যয় ও সঞ্চয় সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই ধরনের সমীক্ষা করে থাকে। চলতি বছরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রায় গোটা দেশ জুড়ে ৭৬ শতাংশ প্রত্যন্ত এলাকার পরিবার জানিয়েছে, আগের তুলনায় তাদের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। এর পাশাপাশি ২০ শতাংশ পরিবার সঞ্চয়ের হার বৃদ্ধির কথা বলেছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হল, ১১ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে যে তারা নিয়মিত ঋণ শোধ করতে সক্ষম হচ্ছেন, যা গ্রামীণ আর্থিক স্থিতিশীলতার দিক থেকে ইতিবাচক সঙ্কেত। নাবার্ডের চেয়ারম্যান শ্রী শাজি কে ভি (Shaji K V) এই রিপোর্ট প্রকাশের সময় বলেন, ‘গ্রামীণ ভারতের গতিপথ পাল্টাচ্ছে। আয় বাড়ার পাশাপাশি মানুষ এখন সঞ্চয়েও মনোযোগী। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক ও মৌলিক অধিকারভিত্তিক প্রকল্প এই পরিবর্তনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, নাবার্ড রিপোর্টে বলা হয়েছে, আয় বৃদ্ধির এই ধারা হঠাৎ করে আসেনি। এর পেছনে কাজ করেছে একাধিক সরকারি প্রকল্প এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন। সমীক্ষা অনুযায়ী, সরকার প্রদত্ত মৌলিক অধিকারগুলির মাধ্যমে পরিবারগুলির মাসিক গড় আয় ও সঞ্চয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গ্রামবাসীদের মধ্যে সচেতনতা ও জীবনমান বৃদ্ধির ধারাও পরিলক্ষিত হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আয় বাড়ার পাশাপাশি মানুষ কোন খাতে উন্নয়ন বেশি অনুভব করছেন, সে প্রশ্নের উত্তরে ৪৬ শতাংশ পরিবার বলেছেন, সড়ক নির্মাণ। এটি প্রমাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কীভাবে সরাসরি অর্থনৈতিক সুফলে রূপ নিচ্ছে।

ছবি : প্রতীকী

এছাড়া শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়ন লক্ষ্য করেছেন ১১ শতাংশ, পানীয় জলের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ, বৈদ্যুতিন পরিষেবায় ৯ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন দেখেছেন ৮ শতাংশ পরিবার। গ্রামের এই আর্থিক অগ্রগতি শুধুমাত্র পরিসংখ্যানের বিষয় নয়, বরং এটি আগামী দিনের সামাজিক কাঠামো বদলের পূর্বাভাস বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ এখনও গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন। ফলে এই আয় বৃদ্ধি কেবল ব্যক্তি পরিবারেই নয়, সামগ্রিকভাবে ভারতের অর্থনৈতিক ভিতকে আরও শক্তিশালী করছে।

গ্রামীণ অর্থনীতিবিদ ডঃ রিচা তিওয়ারি (Dr. Richa Tiwari) এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘গ্রামের উন্নয়নই ভারতের প্রকৃত উন্নয়ন। আয় বাড়ার প্রবণতা যদি এই হারে চলতে থাকে, তাহলে আগামী পাঁচ বছরে শহর-গ্রামের অর্থনৈতিক ব্যবধান অনেকটাই কমে যাবে।’ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল ভারত মিশন, প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনা (PMGSY), স্বচ্ছ ভারত মিশন, আয়ুষ্মান ভারত ও জনধন প্রকল্পগুলির সম্মিলিত প্রভাবেই এই রকম একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। এছাড়া, কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার, ই-কমার্সে সরাসরি সংযুক্ত হওয়া, ছোট ছোট ব্যবসায় নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ ও আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের প্রভাবও গ্রামীণ আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, নাবার্ডের এই রিপোর্ট শুধু একটি পরিসংখ্যানই নয়, তা গ্রামীণ ভারতের অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি দলিল। এই পরিবর্তন অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে ‘নিউ ইন্ডিয়া’-র স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে বেশি সময় লাগবে না।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Census | জনগণনার বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিল কেন্দ্র! প্রথম দফার কাজ শুরু ২০২৬ সালের অক্টোবরে

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন