সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ লস ভেগাস : করোনার দীর্ঘ অবসানের পর ফের আলোচনার কেন্দ্রে ফিরল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (United States) বিতর্কিত পর্যটন রিসর্ট ‘সেক্স আইল্যান্ড’ (Sex Island)। লস ভেগাসের (Las Vegas) আশেপাশে অবস্থিত এই বিলাসবহুল গোপন দ্বীপটি শুধু ‘রিসর্ট’ নয়, বহু বিতর্ক ও গোপন ফ্যান্টাসির বাস্তব রূপ। ফের একবার খোলা হচ্ছে এই রিসর্ট, ঘোষণা হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।

গত কয়েক বছর ধরে বন্ধ ছিল এটি। এখানে বিশেষ ছুটি কাটাতে গেলে সাধারণ ভ্রমণপ্রেমীদের মতো প্যাকেজ কিনে গেলে হবে না, এর জন্য প্রয়োজন বিশেষ ‘টিকিট’। এবং সেটাও সংখ্যা নির্দিষ্ট, মাত্র ৫০ জন পর্যটকের জন্যই বরাদ্দ রয়েছে এই সুযোগ।

৩.৫ লক্ষ টাকার স্বপ্নপূরণ?
প্রতিটি টিকিটের মূল্য ৪,৫০০ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩.৫ লক্ষ টাকা। তবে যারা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য রয়েছে বিকল্প, বিটকয়েন (Bitcoin) দিয়েও টিকিট কেনা যাবে। রেজিস্ট্রেশনের পর রিসর্টের পক্ষ থেকে পর্যটকদের পিক আপের ব্যবস্থাও করা হবে। অর্থাৎ কোনও ঝামেলা নেই, শুধু রেজিস্টার করলেই আপনাকে পৌঁছে দেওয়া হবে রিসর্টে।

শুধু রিসর্টে থাকা নয়, ‘সেক্স আইল্যান্ড’ কর্তৃপক্ষ ভ্রমণেরও বিশেষ আয়োজন করে। থাকছে বিভিন্ন গেমস, থিম পার্টি, বিলাসবহুল রুম, পানীয় ও বিশেষ ‘সঙ্গ’।
যৌনতা ও বিতর্কে মোড়া এই দ্বীপে কী থাকে?
এই রিসর্টের মূল আকর্ষণ হল, প্রতি পর্যটকের সঙ্গে নির্ধারিত সংখ্যক যৌনকর্মীর (Sex Workers) উপস্থিতি। একাধিক মার্কিন ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রতিটি অতিথির জন্য অন্তত ২ জন করে যৌনকর্মী রাখা হয়। চাইলে প্রতিদিন পালটানোও যায়। রিসর্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া হয় সম্পূর্ণ স্বাধীনতা, এমনকী অংশগ্রহণকারীরা চাইলে একসঙ্গে একাধিক যৌনসঙ্গীর সঙ্গেও সময় কাটাতে পারেন।রাতভর চলে ইলেকট্রনিক মিউজিক, নগ্ন পার্টি, গ্লিটার শো এবং বিশেষ থিমে সাজানো সেক্সুয়াল ইভেন্ট। অতিথিদের জন্য সমস্ত খাবার, পানীয় এবং কনডোম সরবরাহ করে আয়োজকেরাই।

‘সেক্স আইল্যান্ড’ নিয়ে বারবার আপত্তি উঠেছে। অতীতে রিসর্টটি বন্ধও করে দেওয়া হয় ক’য়েক দফায়। কারণ, সেখানে নিয়মিত চলত মাদকসেবন, যৌনতার নামে অশ্লীলতা এবং নারী পাচারের অভিযোগও। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, এটি নিছক ‘অ্যাডাল্ট রিসর্ট’ নয়, বরং যৌনপাচার ও মাদক চক্রের এক আড়ালও। যুক্তরাষ্ট্রের (U.S.) একাধিক মানবাধিকার সংগঠন বহুবার এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। যদিও আয়োজকরা বরাবরই দাবি করেছেন, সবকিছু consensual ও লিগ্যাল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রাক্তন পর্যটক বলেন, ‘এখানে কেউ কাউকে বাধ্য করে না, তবে অভিজ্ঞতা এমন যে, স্বাভাবিক পর্যটনের সংজ্ঞা বদলে যায়।’

কীভাবে রেজিস্টার করবেন?
‘সেক্স আইল্যান্ড’-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেই পাওয়া যাবে রেজিস্ট্রেশনের লিঙ্ক। আগ্রহীদের পরিচয় গোপন রাখা হয় ও বিশেষ চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের পরই টিকিট নিশ্চিত করা হয়। যারা অতীতেও অংশ নিয়েছেন, তাঁদের প্রাধান্য দেওয়া হয় বলে দাবি আয়োজকদের। কিন্তু এই রিসর্টে অংশগ্রহণ করার জন্য একাধিক নিয়ম রয়েছে। যেমন, অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে, মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে এবং কোনও ধরনের ভিডিও রেকর্ডিং করা যাবে না। এছাড়া, নিরাপত্তার জন্য ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকে।

মরাল না প্লেজার? বিতর্ক বহাল
‘সেক্স আইল্যান্ড’ নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত। কারও কাছে এটি সীমাহীন স্বাধীনতার প্রতীক, তো কারও কাছে অশ্লীলতার উৎস। সামাজিক, নৈতিক, ও আইনি প্রশ্ন থাকলেও একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বাজারে এই রিসর্টের জনপ্রিয়তা আগেও ছিল, এখনও রয়েছে। নিউ ইয়র্ক (New York) থেকে আসা এক পর্যটক বলেন, ‘এটা আমার কাছে জীবনের বাকি সব টেনশন থেকে বেরিয়ে আসার একটা উপায়। এখানে কোনও নিয়ম নেই, কেবল স্বাধীনতা।’

প্রতিবাদীদের বক্তব্য, ‘নারীকে পণ্য হিসেবে তুলে ধরছে এই রিসর্ট। এবং যা ঘটছে, তার সবটাই আইনের সীমার মধ্যে নয়।’ তবে রিসর্ট কর্তৃপক্ষ এখনও নিজেদের নির্দোষ বলেই দাবি করছে এবং বলছে, ‘আমরা যা করি, তা কারও উপর চাপিয়ে দিই না। এখানে সবকিছু সম্মতির ভিত্তিতে হয়।’

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, বিনোদনের নামে ‘বিতর্কে মোড়া বিলাসিতা’ ঠিক কতদূর গ্রহণযোগ্য?
সব ছবি: সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Sexual Health | ৪০ পেরলেই যৌন আগ্রহ কমে যাচ্ছে? এই সহজ টোটকাগুলি মেনে চললেই মিলবে পরিপূর্ণ সুখ




