Extramarital affair | ভালবাসা, বিষ ও মৃত্যু: ফিরোজাবাদে স্বামীকে হত্যার ছক ফাঁস, প্রেমিকাসহ গ্রেফতার স্ত্রী

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ লখনউ : ভালবাসেন একজনকে, সংসার গড়েছিলেন অন্যজনের সঙ্গে। সম্পর্কের টানাপোড়েন, গোপন প্রেম, ও তার নিষ্ঠুর পরিণতির সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদ (Extramarital affair)। প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে হত্যা করার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন সাক্ষী (Sakshi) নামের এক মহিলা। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের খবর, যেখানে প্রেমিকের পরামর্শে বিষ মিশিয়ে স্বামীকে খুন করা হয় বলে উল্লেখ।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৪ জুলাই, যখন সুনীল যাদব (Sunil Yadav)-এর মা স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, দুই মাস আগে তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে ও তাঁর দৃঢ় সন্দেহ, ছেলের মৃত্যুর পিছনে পুত্রবধূ সাক্ষীর হাত রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে পুলিশ ও কিছুদিনের মধ্যেই বেরিয়ে আসে একটি গা-হিম করা সত্য। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় ১২ বছর আগে সুনীল যাদবের সঙ্গে বিয়ে হয় সাক্ষীর। তাঁদের দুই সন্তানও রয়েছে। প্রথম দিকে সব কিছু স্বাভাবিক থাকলেও, পরবর্তীতে সাক্ষীর জীবনে আসে যজবেন্দ্র (Yajbendra) নামক এক যুবক। দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে তাঁদের মধ্যে গড়ে ওঠে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক। কিন্তু এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সুনীল হয়ে উঠেছিলেন বাধা। সেই বাধা দূর করতেই রচিত হয় এক মারণ পরিকল্পনা বলে উল্লেখ।

পুলিশ সূত্রে খবর, ফিরোজাবাদের টুন্ডলা এলাকার বাসিন্দা সাক্ষী তাঁর প্রেমিক যজবেন্দ্রর সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুনের ছক তৈরি করেন। ১২ মে সাক্ষী সুনীলকে দইয়ের মধ্যে বিষ মিশিয়ে খাওয়ান। সেই দই খাওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন সুনীল। হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাঁকে। চিকিৎসার পর কিছুটা সেরে ওঠেন তিনি। কিন্তু সাক্ষীর হিংস্র পরিকল্পনার এখানেই শেষ ছিল না। দুই দিন পর, ১৪ মে ফের বিষ মিশিয়ে খাবার দেওয়া হয় সুনীলকে। এবার আর প্রাণে বাঁচেননি তিনি। মৃত্যু হয় তাঁর। পরিবার তখনও বুঝতে পারেনি এই মৃত্যুর পিছনে রয়েছে একজন ঘরের মানুষ। চিকিৎসা ছাড়াই ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ ধরে নেওয়া হয়, এবং শেষকৃত্যও সেইভাবেই সম্পন্ন হয়। সন্দেহের বীজ প্রথম রোপিত হয় সুনীলের মায়ের মনে। তিনি পুত্রবধূ সাক্ষীর আচরণ ক্রমশ অস্বাভাবিক হয়ে উঠছিল বলে জানান। সেই থেকেই শুরু হয় পুলিশের তদন্ত।

তদন্তের সময় সুনীলের ব্যবহৃত জামাকাপড়, বিছানার চাদর, ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, সাক্ষীর ফোন কলের তথ্যকে ভিত্তি করে বিশ্লেষণ চালায় পুলিশ। ক্রমে পর্দা ফাঁস হয় সত্যের। প্রমাণসহ গ্রেফতার করা হয় সাক্ষী এবং তাঁর প্রেমিক যজবেন্দ্রকে। পুলিশি জেরা চলাকালীন দু’জনেই অপরাধ স্বীকার করে নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, “এই পরিকল্পনায় মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে মুসকান (Muskan) এবং সোনম রঘুবংশী (Sonam Raghuvanshi)-র বিখ্যাত প্রেম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। সাক্ষী সেই ঘটনার থেকেই অনুপ্রাণিত হয়েছিল বলে জানিয়েছে জেরায়।” ফিরোজাবাদ পুলিশের এক কর্তার কথায়, “এই ধরনের ঘটনা শুধু যে মানবিক মূল্যবোধকে ভেঙে দেয় তাই নয়, সামাজিক বন্ধনকেও প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলে। আমরা যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত চালিয়েছি এবং অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি করা হয়েছে।”

বর্তমানে সাক্ষী ও যজবেন্দ্র বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে IPC-র একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, একবিংশ শতাব্দীর সমাজে যখন নারী-পুরুষ সমতা, ভালবাসা, এবং স্বাধীনতার কথা বলা হয়, তখনও কেন সম্পর্কের ভিত এমন হিংস্র পরিকল্পনায় নড়ে ওঠে?

ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : Extramarital Affair | স্কুল-ছাত্র প্রেমিকের জন্য স্বামী-সন্তান ছেড়ে গেলেন, শেষমেশ ফিরতেও পারলেন না

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন