সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ওয়াশিংটন : জাপানের (Japan) সঙ্গে বহুল আলোচিত বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করল আমেরিকা (USA)। মঙ্গলবার এক ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) জানান, দুই দেশের মধ্যে হওয়া এই চুক্তি অতীতের সমস্ত চুক্তিকে ছাপিয়ে যাবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জাপানি পণ্যের উপর ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আগের মতোই বহাল থাকবে। ট্রাম্পের দাবি, ‘এই চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকা ৯০ শতাংশ মুনাফা পাবে। এটি ইতিহাসের বৃহত্তম চুক্তি।’ মঙ্গলবার ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ (Truth Social) পোস্ট করে লেখেন, ‘জাপানের সঙ্গে এই বাণিজ্যচুক্তি লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। যা আগে কখনও হয়নি। কৃষিপণ্য, গাড়ি ও ট্রাক শিল্পের ক্ষেত্রে জাপানের বাজার এখন থেকে আমেরিকার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা সর্বদা জাপানের সঙ্গে দুর্দান্ত সম্পর্ক বজায় রাখব।’
হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, এই চুক্তির অংশ হিসাবে জাপান ৫৫ হাজার কোটি ডলার আমেরিকায় বিনিয়োগ করবে। যদিও টোকিও (Tokyo) থেকে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনও বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর জাপান সরকারের আধিকারিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে সব দিক খতিয়ে দেখে তবেই জাপান সিদ্ধান্ত নেবে।’ অন্যদিকে, বৈদেশিক কূটনৈতিক মহলে দীর্ঘ দিন ধরেই এই চুক্তি নিয়ে জল্পনা চলছিল। ক’য়েক মাস আগেও ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, জাপানের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি হবে কি না, তা নিয়ে তিনি ‘সন্দিহান’। চলতি মাসের শুরুতে এক সাংবাদিক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘জাপানের সঙ্গে আলোচনায় আমরা বসেছি বটে। তবে চুক্তি আদৌ সম্পন্ন হবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল।’ এমনকী সেই সময় তিনি জাপানকে ‘প্রতারক’ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন।
এই মন্তব্যের পরেই জাপানকে শুল্ক সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠান ট্রাম্প। তাতে বলা হয়, জাপানি পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও যন্ত্রাংশের উপরও বাড়তি শুল্ক বসানো হতে পারে। ঘোষণা হয়েছিল, আগামী ১ অগস্ট থেকে নতুন শুল্কনীতি কার্যকর হবে। তবে তার আগেই চুক্তি চূড়ান্ত করার কথা জানিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিলেন আন্তর্জাতিক বাজারে। ওই পোস্টে ট্রাম্প আরও জানান, শুধু জাপান নয়, ফিলিপিন্স (Philippines)-এর সঙ্গেও বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। মাত্র ক’য়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই দুই এশীয় দেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়াকে ‘আমেরিকার জয়’ বলেই উল্লেখ করেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখন বহু দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক দিক থেকে সুসম্পর্ক স্থাপন করছি। ফলে আমাদের অর্থনীতি আরও মজবুত হবে।’ তবে ভারত (India)-এর সঙ্গে চুক্তির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। যদিও ট্রাম্প আশাবাদী যে, খুব শীঘ্রই ভারতের সঙ্গেও বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথায়, ‘ভারতের সঙ্গে আমরা আলোচনা চালাচ্ছি। ক’য়েকটি বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও তা দ্রুত মিটিয়ে ফেলা হবে।’ সরকারি সূত্রও জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করার চেষ্টা চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত ভারতীয় পণ্যের উপর কোনও রফতানি শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেননি ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে এশীয় অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব পড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে জাপান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত চুক্তির সব শর্ত স্পষ্ট হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন একাংশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, বাণিজ্য ও চাকরির বাজারকে পাখির চোখ করেই আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে প্রচার চালাচ্ছেন ট্রাম্প।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :Rajgad Travelog in Bengali with full travel details | রাজগড়ে একদিন: সাহ্যাদ্রি পাহাড়ে হারানো রাজ্যের খোঁজ



