Himachal Flood 2025 | অতিবৃষ্টির কবলে হিমাচল: মৃত ৭২, নিখোঁজ ৪০, বিপর্যস্ত রাজ্যজুড়ে ২৬০টি রাস্তাও বন্ধ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ শিমলা : হিমাচল প্রদেশ (Himachal Pradesh) ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে। টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত, মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানের জেরে ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৭২ জনের। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪০ জন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। রাজ্যজুড়ে পরিস্থিতি ক্রমেই আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, অন্তত ২৬০টি রাস্তা সম্পূর্ণ বা আংশিক ভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় যোগীন্দরনগর (Jogindernagar) এলাকায় সর্বাধিক বৃষ্টিপাত (৫২ মিমি) হয়েছে, যেটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।রাজ্য আবহাওয়া দফতর (Himachal Meteorological Department) নতুন করে সতর্কবার্তা জারি করেছে হিমাচলের ১০টি জেলার জন্য। আগামী ৮ জুলাই পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলেই পূর্বাভাস। কাংড়া (Kangra), সিরমৌর (Sirmaur) ও মন্ডী (Mandi) জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। পাশাপাশি উনা (Una), বিলাসপুর (Bilaspur), হামিরপুর (Hamirpur), চম্বা (Chamba), সোলান (Solan), শিমলা (Shimla) ও কুল্লু (Kullu) জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ১১ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিংহ সুখু (Sukhvinder Singh Sukhu) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “গত কয়েক দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ১৪টি মেঘভাঙা বৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। যার ফলে প্রবল হড়পা বান ও ধসের সৃষ্টি হয়েছে। বহু বাড়ি ও স্থাপনা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী নিরলস কাজ করছে, কিন্তু পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল।”

হিমাচল রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “এই দুর্যোগে প্রায় ৭০০ কোটিরও বেশি সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। প্রতিনিয়ত নতুন এলাকা বিপর্যয়ের কবলে পড়ছে।” শুক্রবার পালমপুর (Palampur), নাহান (Nahan), পাওঁতা সাহিব (Paonta Sahib), উনা, কাংড়া সহ একাধিক অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ করে একাধিক নদী ও খালের জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় বহু গ্রামে প্লাবন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে রাজ্যের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। অনেক রাস্তায় ধস নেমেছে, আবার কোথাও প্রবল স্রোতের জলে ভেসে গিয়েছে সেতু ও কালভার্ট। পর্যটকদের জন্য জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। আপাতত পাহাড়ি রাস্তা ও খাড়াই অঞ্চলে ভ্রমণ একেবারেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী তিনদিন কোন জেলায় কেমন বৃষ্টি হতে পারে, তার এক বিশেষ পূর্বাভাসও দিয়েছে আবহাওয়া দফতর:
৬ জুলাই: উনা, বিলাসপুর, হামিরপুর, চম্বা, শিমলা ও সোলান জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
৭ জুলাই: উনা, বিলাসপুর, হামিরপুর, চম্বা, কাংড়া, কুল্লু, মন্ডী, শিমলা, সোলান এবং সিরমৌর এলাকায় বৃষ্টি আরও বাড়বে।
৮ জুলাই: উনা, হামিরপুর, চম্বা ও কাংড়া জেলা থাকবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

এই বিপর্যয়ের মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন, বিপর্যয় মোকাবিলা দল, স্বেচ্ছাসেবীরা একযোগে কাজ করে চলেছে। চলছে উদ্ধারকার্য, খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা। তবে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে এই কাজও যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠেছে। রাজ্যবাসীকে সাবধান থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে। নদী ও খালের কাছাকাছি না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় যাত্রা, ট্রেকিং ও ক্যাম্পিংয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্য চাওয়া হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে ও পাহাড়ি এলাকায় ধস আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যে হিমাচলের মতো পাহাড়ি রাজ্যকে এখন সবচেয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে, তা আরও একবার প্রমাণ করল এই দুর্যোগ।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন: Indian Air Force Rescue Himachal Pradesh | বর্ষার নামেই বিভীষিকা: হিমাচলে বিপর্যয়, মৃত অন্তত ৩৭, উদ্ধারকাজে রাতদিন এক করছে ভারতীয় বায়ুসেনা

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন