Bangladesh | সংবিধান সংশোধনে ইউনূসের সক্রিয়তা ঘিরে রাজনৈতিক বিভাজন, বিরোধিতায় বিএনপি

SHARE:

 

সাশ্রয় নিউজ ★ ঢাকা: সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফের নতুন বিতর্ক। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus)-এর নেতৃত্বে সংবিধান সংস্কারের যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে দেশটিতে। তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র মতভেদ তৈরি হয়েছে। একদিকে জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ (Jamaat-e-Islami Bangladesh) ও নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizens’ Party – NCP) ইউনূসের প্রস্তাবকে সমর্থন জানালেও, তীব্র বিরোধিতা করেছে খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বা বিএনপি (BNP)। গত বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের অধীনে সংবিধান সংস্কার কমিশন একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করে, যেখানে বলা হয়েছে, একটি ‘জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল’ বা এনসিসি (National Constitutional Council – NCC) গঠন করে নির্বাচনী পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হবে ও সরকারের ক্ষমতা কাঠামোয় ভারসাম্য রক্ষা করা হবে। ইউনূসের মতে, “দেশের স্থিতিশীল ভবিষ্যতের জন্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে আরও স্বচ্ছ এবং দায়বদ্ধ করতে এমন একটি কাঠামো দরকার।” এই প্রস্তাবেই আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ (Salauddin Ahmed) সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “পুরো প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শের অভাব রয়েছে। আমরা মনে করি, এই ধরনের সংবিধান সংশোধনের একমাত্র অধিকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারেরই আছে, কোনও অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নয়।” তাঁর আরও অভিযোগ, “জাতীয় ঐকমত্যের নামে একতরফা মত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

অন্যদিকে, বিরোধিতায় বিএনপির পাশে দাঁড়িয়েছে আরও ১২টি রাজনৈতিক দল। তারা একযোগে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এনসিসি গঠনের ভাবনার বিরোধিতা করেছে। এই তালিকায় রয়েছে প্রগতিশীল দল, কৃষক সমাজ পার্টি, গণমানবাধিকার ফোরামসহ কয়েকটি ছোট দল, যারা এই উদ্যোগকে “গণতন্ত্রবিরোধী” ও “স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার ইঙ্গিত” বলে অভিহিত করেছে। বিপরীত দিকে, জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপি এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে। জামাতের মুখপাত্র নাসিরুদ্দিন হক (Nasiruddin Haque) বলেছেন, “বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। এনসিসি গঠনের মধ্য দিয়ে যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা যায়, তা হলে আমরা তারই পক্ষে।” এনসিপির সভাপতি সাইফুল আলম মঞ্জু (Saiful Alam Manju) আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, “আমরা যে পরিবর্তনের জন্য গত বছর রাজপথে ছিলাম, সেটাই আজ সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।”

উল্লেখ্য, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (Amar Bangladesh Party – AB Party) সহ আরও ক’য়েকটি ইসলামপন্থী দল এনসিসি গঠনের সমর্থনে মুখ খুলেছে। এদের যুক্তি, দেশের রাজনৈতিক স্থবিরতা কাটাতে, বারবারের সংঘাতের রাজনীতিকে দূরে সরাতে এই জাতীয় কাউন্সিল অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই মুহূর্তে সংবিধান সংশোধনের যে উদ্যোগ ইউনূস নিয়েছেন, তা দেশে একটি কার্যকর অন্তর্বর্তী কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা হলেও, রাজনৈতিক ঐকমত্যের অভাবে তা বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রায়হান কবীর (Raihan Kabir) বলেন, “গণতন্ত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ। যদি প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি আস্থাহীন থাকে, তা হলে এই ধরনের প্রস্তাবের বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।”

এদিকে খালেদা জিয়ার নীরবতা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। যদিও দলের তরফে সালাউদ্দিন আহমেদসহ অন্য নেতারা অবস্থান স্পষ্ট করেছেন, তবে খালেদা নিজে এখনও এনসিসি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ এক কৌশলী অবস্থান, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক আলোচনার দরজা খোলা রাখা হচ্ছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, সংবিধান সংশোধনের মতো বিষয় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। এমন এক প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের এমন পদক্ষেপ যে ভবিষ্যতে তীব্র বিতর্ক ও সংঘাতের জন্ম দিতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইউনূসের প্রস্তাবিত রূপরেখা দেশে গণতান্ত্রিক সংস্কারে গতি আনবে না কি রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও গভীর করবে, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত বিরোধ আর প্রতিক্রিয়ার এই ঘূর্ণাবর্তে বাংলাদেশ ঢুকে পড়েছে নতুন সংবিধান বিতর্কের কেন্দ্রে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kim Kardashian | Donald Trump : কিম কার্দাশিয়ানের ‘অমানবিক’ মন্তব্য! ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র পাল্টা প্রশ্ন: ‘কে থাকবে, বলুন?’

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment