The Bengal Files, Vivek Agnihotri | ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ মুক্তির আগেই বিতর্কে পরিচালকের বিবেক অগ্নিহোত্রীর বিরুদ্ধে FIR বহরমপুরে

SHARE:

 

সাশ্রয় নিউজ ★ বহরমপুর : ছবি এখনও প্রেক্ষাগৃহে আসেনি। তার আগেই ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহল থেকে সিনেমা জগতে। পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী (Vivek Agnihotri) তাঁর আসন্ন ছবি দ্য বেঙ্গল ফাইলস-এর টিজার মুক্তি পেতেই শুরু হয়েছে বিতর্কের তীব্র ঢেউ। এই ছবির প্রেক্ষিতে সরাসরি থানার দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের এক নেতা। দায়ের হয়েছে FIR। অভিযোগ গুরুতর, ঘৃণাত্মক ভাষার প্রয়োগ, হিন্দু দেব-দেবীর অবমাননা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার প্রচেষ্টা। বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভাকুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিপ্লব কুন্ডু (Biplab Kundu)। তাঁর দাবি, “এই ছবির টিজার দেখে আমি আতঙ্কিত। হিন্দু দেব-দেবীদের যে ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসম্মানজনক। সংবেদনশীল একটি সমাজে এই ধরনের ঘৃণা ছড়ানো কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তাঁর আরও বক্তব্য, “টিজারটি সামাজিক মাধ্যমে আসার পর থেকেই বহু মানুষ আমাকে ফোন করে আপত্তি জানিয়েছেন। একজন জন প্রতিনিধির দায়িত্ব থেকেই আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। এই ছবি মুক্তি পেলে রাজ্যের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

উল্লেখ্য যে, টিজারে দেখা গিয়েছে মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty), সৌরভ দাস (Saurav Das), শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় (Saswata Chatterjee)-এর মতো পরিচিত বাঙালি অভিনেতাদের মুখ। বিষয়বস্তুর গভীরে না গিয়েও দর্শকদের একাংশ অভিযোগ তুলেছেন, এটি পূর্বনির্ধারিত এক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগান্ডা হতে পারে।

ছবির নির্মাতা বিবেক অগ্নিহোত্রী ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ ও ‘তাসকন্দ ফাইলস’-এর পর ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এর মধ্য দিয়ে আবার একবার ইতিহাসের বিতর্কিত অধ্যায় তুলে ধরতে চাইছেন বলেই দাবি তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের। তবে এই নতুন ছবির প্রেক্ষিতে তার আগের প্রকল্পগুলোর মতোই রাজনৈতিক কাঁটায় বিদ্ধ হতে শুরু করেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এর একটি টিজার পোস্ট করা হয়। সেখানে ইতিহাসের কিছু বিতর্কিত মুহূর্তের চিত্র তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে ধর্মীয় প্রসঙ্গের উপস্থিতি অত্যন্ত স্পষ্ট। বিপ্লব কুন্ডুর দাবি, “টিজারে যেভাবে হিন্দু ধর্মকে ছোট করে দেখানো হয়েছে, তা শুধু অপমান নয়, এর ফলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। তাই আমি চাই, অবিলম্বে তদন্ত করে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানি বন্ধ করা হোক।”

এদিকে, এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই টলিউডেও শুরু হয়েছে চাপা গুঞ্জন। মিঠুন চক্রবর্তীর মতো একজন বর্ষীয়ান অভিনেতা এই প্রজেক্টে যুক্ত থাকায় অনেকেই হতবাক। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে একাধিকবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিবেক অগ্নিহোত্রী বা মিঠুন চক্রবর্তী কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে মন্তব্য করেননি।
ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে মতবিভাজন। একাধিক তৃণমূল নেতা এই ছবিকে ‘বিভাজনের রাজনীতি’র হাতিয়ার বলে উল্লেখ করেছেন। আবার বিজেপির একাংশের দাবি, “সত্য কথাকে চাপা দিতে চাইছে শাসকদল। বিবেক অগ্নিহোত্রী সমাজের অপ্রকাশ্য ইতিহাসকে পর্দায় আনতে চেয়েছেন, তাতেই ভীত তৃণমূল।”
একদিকে প্রশাসনিক স্তরে FIR, অন্যদিকে রাজনৈতিক বাদানুবাদ, এই দুইয়ের চাপে পড়ে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ আরও বেশি আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। ছবির মুক্তির দিন ধার্য করা হয়েছে ৫ সেপ্টেম্বর। এখন দেখার, ততদিনে এই আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন কোন দিকে মোড় নেয়।
তবে এমন ঘটনা বাংলা ছবির জগতে নতুন নয়। বিতর্কে publicity—এই তত্ত্বে অনেকেই বিশ্বাস রাখেন। তবে এবারে পরিস্থিতি তুলনায় জটিল, কারণ অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মতো সংবেদনশীল বিষয়। আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যাচ্ছে, যদি প্রমাণিত হয় যে ছবিটি ঘৃণা ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই বানানো হয়েছে, তাহলে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩(এ) ধারায় মামলা রুজু হতে পারে। তবে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তদন্ত হবে বলেই জানানো হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সূত্রে।
এফআইআরের পর এখন সবার নজর বিবেক অগ্নিহোত্রির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তিনি কি আবারও তাঁর আগের ছবির মতো আদালতের দ্বারস্থ হবেন, না কি কোনও ব্যাখ্যা নিয়ে মুখ খুলবেনব,তা সময়ই বলবে। তবে এখনই এটা স্পষ্ট, দ্য বেঙ্গল ফাইলস নিয়ে বিতর্কের আগুন একবার জ্বলে উঠেছে, তা সহজে নিভবে না।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :: Shilpa Shetty : পঞ্চাশেও ‘অষ্টাদশী’! জন্মদিনে ফিটনেস সিক্রেট ফাঁস করলেন শিল্পা শেট্টি

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন