পরিধি চক্রবর্তী ★ মুম্বাই : একদিকে প্রথম মাতৃত্বের অপেক্ষায় দিন গুনছেন কিয়ারা আডবাণী (Kiara Advani)। আবার অন্যদিকে জীবনের এই নতুন অধ্যায়ের শুরুতে স্পষ্টভাবে বোঝাতে চাইছেন, সিদ্ধার্থ মলহোত্র (Sidharth Malhotra) কেমন বাবা হতে চলেছেন। আন্তর্জাতিক পিতৃদিবসের (Father’s Day) দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে রবিবার নিজের ইনস্টাগ্রামে একগুচ্ছ আবেগময় ছবি পোস্ট করলেন কিয়ারা। ছবির সঙ্গে লেখায় উঠে এল প্রেম, কৃতজ্ঞতা আর এক ঝলক অভিযোগের সুরও। যা দেখে নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার সুখবর ভাগ করে নিয়েছিলেন এই তারকা দম্পতি। সাদা-কালো একটি ছবিতে কিয়ারা ও সিদ্ধার্থ ঘোষণা করেছিলেন, “শীঘ্রই আসছে আমাদের ছোট্ট ভালবাসা।” তখন থেকেই তাঁদের অনুরাগীরা অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন বলিউডের এই ‘ম্যাড ইন লাভ’ দম্পতির পরিবারে নতুন অতিথিকে স্বাগত জানানোর জন্য।

রবিবার কিয়ারার পোস্ট করা প্রথম ছবিতে দেখা যায়, তাঁর বাবা জগদীপ আডবাণী (Jagdeep Advani) স্নেহভরে মেয়ের কপালে চুম্বন করছেন। ক্যাপশনে কিয়ারা লেখেন, “এই মানুষটাই আমায় ধৈর্য ধরে, অনেক ভালবাসা দিয়ে বড় করেছেন। তিনিই আমার জীবনের প্রথম হিরো।” এখানেই থেমে থাকেননি কিয়ারা।
আরও পড়ুন : Aayush-Arpita : আয়ুষ-অর্পিতার বিলাসবহুল জীবনে ব্যক্তিগত পরিসরের অদ্ভুত ভারসাম্য

পরবর্তী লাইনে যোগ করেন, “এই মানুষটাই একমাত্র, যাঁর ফোন একবার বেজে উঠলেই আমি সাড়া পাই।” এই বক্তব্য যেন চুপিসারে অন্য একটি সত্যও প্রকাশ করে। নেটিজেনদের একাংশ খুব দ্রুতই ইঙ্গিত বুঝে প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে কি সিদ্ধার্থ ফোন ধরেন না?” কারও মন্তব্য, “সিধ কি তাহলে বাবার মতো ধৈর্যশীল নন?” কেউ আবার ঠাট্টা করে লেখেন, “বাবা হচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু এখনই যদি ফোন না ধরেন, তাহলে রাত জাগা বদলানোর সময় কী হবে?”এরপরের ছবিতে দেখা যায় সিদ্ধার্থ ও তাঁর বাবা সুনীল মলহোত্র (Sunil Malhotra)-কে। স্বামীর পিতার উদ্দেশ্যে কিয়ারা লেখেন, “এই মানুষটাই আমার স্বামীকে গড়ে তুলেছেন। যাঁর সঙ্গে আমি জীবন কাটাতে চাই। তাঁকে এমন করে তৈরি করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।”

শেষ ছবিতে আবির্ভূত হন হবু মা-বাবা কিয়ারা ও সিদ্ধার্থ। দু’জনেই হালকা হাসি হেসে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে।
আরও পড়ুন : Suchitra Sen : মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের জীবনের মোড় ঘোরানো গল্প : একটি ইতিহাস
ছবির ক্যাপশনে কিয়ারা বলেন, “এই হল আমার স্বামী, যে খুব শীঘ্রই বাবা হতে চলেছে। আমি ইতিমধ্যেই বুঝে গিয়েছি, আমাদের সন্তানের ভাগ্য খুব ভাল এমন বাবা পেয়ে।” একই সঙ্গে কিয়ারা তাঁর বাবা, শ্বশুর এবং স্বামী তিনজনকেই ‘হ্যাপি ফাদার্স ডে’ জানাতে ভোলেননি।

তবে সবার চেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে সেই একটি লাইন ‘এই মানুষটাই একমাত্র, যাঁর ফোন একবারে বেজে উঠলেই সাড়া পাই।’ যেখানে আবেগ যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে এক ধরণের আক্ষেপও। মা হওয়ার মুখে কিয়ারার এমন প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি অনেকের কাছেই বিস্ময়ের। তবে একাংশের মতে, “এটা নিছকই কিয়ারা ও তাঁর বাবার সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। সিদ্ধার্থকে খোঁচা মারার উদ্দেশ্য হয়ত ছিল না।” কেউ কেউ আবার বলেন, “নতুন বাবা হতে চলা একজন মানুষের পক্ষে উদ্বেগে থাকা, ব্যস্ত থাকা খুব স্বাভাবিক। ফোন না ধরলেও, সেটা দায়বদ্ধতার অভাব বোঝায় না।”
আরও পড়ুন : Mango : আমের প্রেমে হার, না সাবধানতার ডাক?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কিয়ারা বলেছিলেন, “সিদ্ধার্থ খুব ইমোশনাল এবং প্রটেকটিভ। বাবা হওয়ার অনুভূতি এখনও ওর মধ্যে পুরোপুরি গেঁথে যায়নি, কিন্তু ওর চোখে আমি যে ভালবাসা দেখি, সেটা বলেই দেয়, আমাদের সন্তান খুব লাকি হতে চলেছে।”

সেই বক্তব্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক পোস্টের মিশ্র আবেগ অনেকের মনেই প্রশ্ন তোলে। এটা কি নিছকই একটি খুনসুটি, নাকি কিছুটা মানসিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত?
ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এক ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, “সিদ্ধার্থ (Sidharth) এখন একাধিক প্রজেক্টে ব্যস্ত। একই সঙ্গে শুটিং, স্ক্রিপ্ট রিডিং ও বাণিজ্যিক চুক্তির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। এমন সময় হয়ত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ একটু কম হচ্ছে। তবে ব্যক্তিগত জীবনে সিদ্ধার্থ বরাবরই দায়িত্বশীল।” তবে ভবিষ্যতে তিনি কেমন বাবা হবেন, সেটা সময়ই বলবে। তবে কিয়ারা যে আগেভাগেই একরকম প্রেডিকশন করে ফেলেছেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তাঁর কথায়, “ওর মধ্যে যে সহানুভূতি আমি দেখি, তা থেকেই বুঝি, সে একজন দারুণ বাবা হবে।” শুধু ফোন ধরার ব্যাপারটা আর একটু নিয়মিত হলেই নিন্দুকদের মুখে তালা পড়ত। আনন্দের কথা, চলতি বছরে যদি সব কিছু ঠিক থাকে, তাহলে বছর শেষ হওয়ার আগেই কিয়ারা-সিদ্ধার্থ পরিবারে নতুন অতিথি এসে পড়বে। আর তখনই বাস্তবে প্রমাণ হবে, ইনস্টাগ্রামের সেই হাসিমুখের পেছনে কতটা দায়িত্বশীলতা লুকিয়ে রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Deepika Padukone : মুম্বইয়ের বর্ষায় অটো রোম্যান্স, দীপিকার ‘প্রথম প্রেমিক’ কী বললেন?



