Kim Kardashian | Donald Trump : কিম কার্দাশিয়ানের ‘অমানবিক’ মন্তব্য! ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র পাল্টা প্রশ্ন: ‘কে থাকবে, বলুন?’

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ নিউ ইয়র্ক : লস অ্যাঞ্জেলেসের অভিবাসী পরিবারগুলোর উপর ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর সাম্প্রতিক ধরপাকড়কে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্কের ঝড়। কেন্দ্রবিন্দুতে এবার কিম কার্দাশিয়ান (Kim Kardashian)। জনপ্রিয় টিভি তারকা খোলাখুলি প্রতিবাদ করেছেন, ‘অমানবিক’ অভিযানের বিরুদ্ধে। আর তাঁর এই অবস্থানের পাল্টা জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসন কঠোর প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেছে, “আপনি কাকে রাখতে চান, কিম?” কার্দাশিয়ান নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে এই অভিযানের নিন্দা জানিয়ে লেখেন, “যদি বলা হয় ICE আমাদের দেশের নিরাপত্তার জন্য ও সহিংস অপরাধীদের সরানোর জন্য কাজ করে সেটা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু যখন অমানবিকভাবে নিরীহ, পরিশ্রমী মানুষদের তাদের পরিবার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় তখন চুপ থাকা চলে না। আমাদের আওয়াজ তুলতেই হবে।” তিনি আরও লেখেন, “যে রাজনৈতিক মতেই থাকুন না কেন, স্পষ্ট যে আমাদের সমাজ অভিবাসীদের অবদানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ভয় আর অন্যায়ের মাঝে মানুষকে আটকে রাখলে সমাজ এগোতে পারে না। অবশ্যই এর চেয়ে ভাল কোনও পথ থাকা উচিত।”

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কিম কার্দাশিয়ান কিছুদিন কাজ করেছিলেন তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে। বিশেষ করে, অপরাধ সংক্রান্ত ন্যায়বিচার সংস্কারের ক্ষেত্র ছিল তাঁর কাজের পরিধি। তাঁর সেই উদ্যোগের ফলেই ১৯৯৬ সালে মাদক সংক্রান্ত অপরাধে দণ্ডিত অ্যারিস ম্যারি জনসন (Alice Marie Johnson) নামের এক মহিলা প্যারোলে মুক্তি পান। কিন্তু এবার সেই পুরনো সম্পর্ককেই পাশ কাটিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানালেন ট্রাম্প প্রশাসনের এক মুখপাত্র। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সহকারী সচিব ট্রিশিয়া ম্যাকলাফলিন (Tricia McLaughlin) সামাজিক মাধ্যমে কিমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “@KimKardashian, এই যে সাম্প্রতিক ৭২ ঘণ্টায় ধৃত ধর্ষক, খুনি, শিশু নির্যাতক আর মাদক পাচারকারীরা, তাদের মধ্যে আপনি কাকে এই দেশে রাখতে চান?” তাঁর সেই পোস্টে যুক্ত ছিল বেশ ক’য়েকজন দণ্ডিত অভিবাসীর ছবি, যাদের অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার সূত্রপাত ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ICE-র আচমকা অভিযান থেকে। হাজার হাজার ন্যাশনাল গার্ড ও মেরিন সেনা মোতায়েন করা হয় বিক্ষোভ দমন ও অভিযান পরিচালনার জন্য। রাজ্য গভর্নর গ্যাভিন নিউসম (Gavin Newsom) এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে বলেন, “এই মোতায়েন রাজ্যের অনুমতি ছাড়াই হয়েছে। এটি একনায়কোচিত মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।” এই অবস্থার বিরুদ্ধে কিম কার্দাশিয়ানের প্রতিবাদ অনেককে চমকে দিয়েছে। কারণ তিনি শুধু ট্রাম্পের সঙ্গে নয়, ইলন মাস্কের (Elon Musk) সঙ্গেও রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে কখনও কখনও যুক্ত থেকেছেন। তাঁর এই অবস্থানকে অনেকে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা সমাজের একটি নতুন সুর হিসেবে যেখানে রাজনৈতিক সংযোগ থাকলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হওয়া এখন প্রাধান্য পাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করেছে, এই ইস্যুতে তারা কোনও নরম ভূমিকা নিচ্ছে না। DHS বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানায়, গত ক’য়েক দিনে “শত শত অবৈধ অভিবাসীকে” আটক করা হয়েছে, ও তারা প্রত্যেকেই নাকি “গুরুতর অপরাধে দোষী।” তবে এই যুক্তিকে অনেকেই মানতে নারাজ। ক্যালিফোর্নিয়ার আইনপ্রণেতারা বলছেন, কিছু অপরাধীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে পুরো অভিবাসী সমাজকে ‘অপরাধী’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। একজন সিনেটর মন্তব্য করেন, “এটি ক্ষমতার অপব্যবহার ও একটি নির্বাচনী কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়।”

এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কিমের পোস্টে লক্ষাধিক সমর্থনের মন্তব্য জমা হয়েছে। কেউ লিখেছেন, “ধন্যবাদ, কিম, এই ভয়াবহ বাস্তবতাকে তুলে ধরার জন্য।” আবার কেউ বলছেন, “সাহসের জন্য তোমায় স্যালুট, যখন অন্যরা চুপ।” এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি আগামী দিনে আরও জটিল রূপ নিতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনের বছরে। অভিবাসন নীতিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বরাবরই সংবেদনশীল ও তীব্র বিতর্কের বিষয়। আর এবার সেই বিতর্কে নাম জড়িয়ে কিম কার্দাশিয়ান নতুন মাত্রা যোগ করলেন। যেখানে বিনোদন, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতা একসঙ্গে মিশে গেল ট্রাম্পের রাজনীতির মুখোমুখি হয়ে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sasraya News | Sunday’s Literature Special | 15th June 2025, issue 69, Sunday | সাশ্রয় নিউজ, রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল | ১৫ জুন ২০২৫, রবিবার, সংখ্যা ৬৯

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন