সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্যে আজ থেকে কার্যকর হল মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি বাস পরিষেবা (WB Free Bus Service)। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর চালু হওয়া এই উদ্যোগে এখন থেকে পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও প্রান্তে সরকারি বাসে চড়তে পারবেন মহিলারা, তা সে শহরের ছোট রুট হোক বা দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রা। ফলে দীঘা (Digha) থেকে দার্জিলিং (Darjeeling), কিংবা হাওড়া (Howrah) থেকে উত্তরবঙ্গ সমস্ত জায়গাতেই এই সুবিধা প্রযোজ্য। রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে একাধিক পরিবহণ সংস্থা। নর্থ বেঙ্গল স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (NBSTC), সাউথ বেঙ্গল স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (SBSTC), ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (WBTC) এবং ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানি (CTC) -এর বাসে এই পরিষেবা মিলবে। ফলে রাজ্যের প্রায় সমস্ত সরকারি বাস পরিষেবাই এখন এই উদ্যোগের আওতায়। এই সুবিধা গ্রহণের জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ ‘পিঙ্ক কার্ড’ (Pink Card)। এটি মূলত একটি স্মার্ট কার্ড, যা ‘ফ্রি ট্রাভেল পাস’ (Free Travel Pass) হিসেবে কাজ করবে। বাসে ওঠার পর যাত্রীদের এই কার্ডটি কন্ডাক্টরের কাছে থাকা ই-পশ (e-POS) মেশিনে স্ক্যান বা সোয়াইপ করতে হবে। এরপর যাত্রী পাবেন একটি ‘জিরো-ভ্যালু টিকিট’ (Zero Value Ticket), যার মাধ্যমে যাত্রা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সম্পন্ন হবে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ব্যবস্থা চালুর পিছনে লক্ষ্য হল যাতায়াতকে সহজ করা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা। এক আধিকারিকের কথায়, ‘এই কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি যাত্রার রেকর্ড থাকবে, ফলে পরিষেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে।’
তবে, এখনও যেহেতু সবার হাতে ‘পিঙ্ক কার্ড’ পৌঁছয়নি, তাই আপাতত বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কার্ড না থাকলেও কোনও সমস্যা হবে না। মহিলারা তাঁদের পরিচয়পত্র দেখিয়েই বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। কন্ডাক্টর সেই অনুযায়ী ‘জিরো-ভ্যালু টিকিট’ ইস্যু করবেন। সরকার অনুমোদিত কয়েকটি পরিচয়পত্র দেখালেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে। এর মধ্যে রয়েছে আধার কার্ড (Aadhaar Card), ভোটার আইডি (Voter ID / EPIC), প্যান কার্ড (PAN Card), ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving Licence), পাসপোর্ট (Passport), এমজিএনআরইজিএ জব কার্ড (MGNREGA Job Card) এবং ছবিযুক্ত অন্যান্য সরকারি বা পেনশন সংক্রান্ত নথি।
এই প্রকল্পে অংশ নিতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। বয়সের ক্ষেত্রে কোনও ঊর্ধ্বসীমা রাখা হয়নি, ফলে সব বয়সের মহিলারাই এই সুবিধা পাবেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ‘পিঙ্ক কার্ড’ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। কার্ড তৈরি বা পেতে কোনও রকম অর্থ খরচ করতে হবে না। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে—এই কার্ড অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং যাঁর নামে ইস্যু হবে, কেবল তিনিই ব্যবহার করতে পারবেন। পরিবারে অন্য কেউ এই কার্ড ব্যবহার করলে তা নিয়মভঙ্গ হিসেবে ধরা হবে।
কার্ড তৈরির প্রক্রিয়াও বেশ সহজ রাখা হয়েছে। অফলাইনে আবেদন করতে চাইলে নিকটবর্তী বিডিও অফিস (BDO Office), এসডিও অফিস (SDO Office) বা পুরসভা (Municipality) থেকে ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। সঠিকভাবে ফর্ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেই আবেদন সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি, সরকারের নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেও আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথির মধ্যে রয়েছে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ঠিকানার প্রমাণপত্র এবং একটি রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আবেদনকারীর নামে ‘পিঙ্ক কার্ড’ ইস্যু করা হবে। এই উদ্যোগ চালুর পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। প্রতিদিনের যাতায়াতে খরচ কমবে বলে মনে করছেন বহু মহিলা। বিশেষ করে কর্মজীবী, শিক্ষার্থী এবং গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের কাছে এটি বড় স্বস্তি নিয়ে আসবে। পরিবহণ দফতরের এক কর্তার কথায়, ‘এই পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে মহিলাদের চলাচল আরও সহজ হবে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং দৈনন্দিন জীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় এটি একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। যাতায়াত খরচ কমানো এবং মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রথম দিনের অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, বহু মহিলা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাসে যাতায়াত শুরু করেছেন। পরবর্তী সময়ে ‘পিঙ্ক কার্ড’ পুরোপুরি চালু হলে ব্যবস্থাটি আরও সংগঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আপাতত পরিচয়পত্র দিয়েই যাত্রা চালু থাকলেও, ভবিষ্যতে স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থাই প্রধান হয়ে উঠবে। রাজ্যের এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য রাজ্যের কাছেও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মহিলাদের যাতায়াত সহজ করতে এই ধরনের প্রকল্প যে কতটা কার্যকর হতে পারে, তা সময়ই বলে দেবে।
ছবি: প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Virat Kohli IPL Final 2026, RCB Champion News | স্বপ্ন সত্যি হল বিরাটের : কোহলির ব্যাটেই আইপিএল চাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু



