WB Elections 2026, Mamata Banerjee rally | ‘ভোটের পর দিল্লি লক্ষ্য’ ডেবরার সভা থেকে বড় বার্তা মমতার, বিজেপিকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ডেবরা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ (WB Elections 2026) -এর আবহে জোরদার প্রচারে নেমে আত্মবিশ্বাসী সুর শোনালেন তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় টানা তিনটি জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি একদিকে সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন, অন্যদিকে বিজেপিকে (Bharatiya Janata Party) কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। ডেবরার (Debra) জনসভা থেকে তাঁর উচ্চারণ, ‘ভোট মিটলেই পরের লক্ষ্য দিল্লি’, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। সোমবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মসূচি শুরু হয় বেলদা (Belda) থেকে। সেখানে তিনি নারায়ণগড় (Narayangarh) -এর প্রার্থী প্রতিভা মাইতির (Pratibha Maity) সমর্থনে সভা করেন। এরপর পাঁশকুড়ার (Panskura) সিরাজ খান (Siraj Khan) -এর প্রচারে অংশ নেন। দিনের শেষ জনসভা অনুষ্ঠিত হয় ডেবরার বালিচক (Balichak) ভজহরি ইনস্টিটিউশনের মাঠে, যেখানে তৃণমূল প্রার্থী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় (Rajib Banerjee) -এর সমর্থনে বড় জমায়েত দেখা যায়।

আরও পড়ুন : Ben Duckett IPL, Gavaskar on Duckett | আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোয় ডাকেটের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান গাওস্করের, শাস্তি বাড়ানোর দাবি

ডেবরার সভা থেকে মমতা বলেন, ‘ডেবরায় আসতে আসতে দেখলাম চারপাশে সবুজের সমারোহ। আগে এখানে বন্যার সমস্যা ছিল, এখন সাড়ে পাঁচ লক্ষ পুকুর খনন হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকদের বছরে দু’বার করে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। যাঁদের সামান্য জমিও আছে, তাঁরাও বছরে দু’বার চার হাজার টাকা পান।’ তাঁর দাবি, এই প্রকল্পগুলি কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা জোরদার করেছে। আলুচাষিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘অপপ্রচারে কান দেবেন না। আমাদের সরকার বিনামূল্যে শস্যবিমা চালু করেছে, যার জন্য কৃষকদের কোনও খরচ করতে হয় না।’ তিনি জানান, এই প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষাই সরকারের লক্ষ্য।

রাজনৈতিক বার্তায় ঐক্যের কথাও তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘পুরাতন-নবীন, সব ধর্ম, সব বর্ণ, সব সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে আমরা ঐক্যের বাংলা গড়তে চাই।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেখানে যে প্রার্থী থাকুক, সবাইকে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে, কারণ সরকার গড়ার দায়িত্ব আমাদের।’ মেদিনীপুরের ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এই জেলা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের (Ishwar Chandra Vidyasagar) ভূমি। এখান থেকেই আমরা অ-আ-ক-খ শিখেছি।’ বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছিল। মাতঙ্গিনী হাজরা (Matangini Hazra), বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (Bankim Chandra Chattopadhyay), রাজা রামমোহন রায় (Raja Rammohan Roy), ক্ষুদিরাম বসু (Khudiram Bose) -এঁদের যথাযথ মর্যাদা দেয় না ওরা।’

বিজেপির বিরুদ্ধে নারী ভোটারদের প্রসঙ্গও তোলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘মা-বোনেদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’ বিয়ের পর পদবি পরিবর্তনের কারণে বিভ্রান্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ‘মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে অসম্মান করা হয়েছে, এর জবাব ভোটেই মিলবে।’ ধর্মের প্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘ধর্মকে আমরা সম্মান করি, ঘরে রাখি। কেউ কেউ ধর্মকে ব্যবহার করে বিভাজন তৈরি করছে।’ বাংলার খাদ্যাভ্যাস নিয়েও বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘মাছ-মাংস-ডিম নিয়ে এত হস্তক্ষেপ কেন! বাংলার খাবারের সংস্কৃতিকে আঘাত করা হচ্ছে।’ বাংলাভাষীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ‘রাজ্যের বাইরে বাংলায় কথা বললে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে অনেককে।’ তাঁর মতে, এটি এক ধরনের সাংস্কৃতিক বৈষম্য, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী।

নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অনেক নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। আমরা আদালতে গিয়েছি, লড়াই করেছি।’ তাঁর দাবি, ‘এই লড়াইয়ের ফলেই বহু মানুষের নাম ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দিল্লির শাসকরা অনেক ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। যত বাধাই আসুক, তৃণমূল আবার ফিরবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘ভোটের পরে বড় লড়াই সামনে, তখন দিল্লির দিকেও নজর থাকবে।’ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় -এর এই মন্তব্যে রাজ্যের নির্বাচনের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির দিকেও দৃষ্টি পড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য ভবিষ্যতের বৃহত্তর কৌশলের ইঙ্গিত বহন করে। তবে আপাতত রাজ্যের ভোটের ফলাফলই নির্ধারণ করবে পরবর্তী পথচলা। কিন্তু নির্বাচনের আগে মেদিনীপুরে তৃণমূলের এই প্রচার কর্মসূচি যে ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এখন দেখার, ভোটের বাক্সে তার প্রতিফলন কীভাবে ধরা পড়ে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : WBCS SDM SDO Promotion Rule, WB Government Notification: ৫ বছর পূর্ণ হলেই এসডিএম-এসডিও পদে বিবেচনা, মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণার পর নবান্নে সংশোধনী জারি

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন