পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক : ভারতীয় ক্রিকেটে ফিটনেস মানেই প্রায় সমার্থক শব্দ বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। মাঠে তাঁর তেজ, ফিটনেসের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা এবং শৃঙ্খলা নিয়ে কখনও প্রশ্ন ওঠেনি। কিন্তু এবার কোহলির নাম নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কারণ, বেঙ্গালুরুতে বোর্ড আয়োজিত ফিটনেস পরীক্ষায় উপস্থিত না থেকেও কোহলি নাকি লন্ডন থেকে সেই টেস্ট দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, অনলাইন পর্যবেক্ষণে তিনি পরীক্ষায় পাশও করেছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নীতি নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল প্রশ্ন।
বোর্ডের পক্ষ থেকে বেঙ্গালুরুতে সম্প্রতি জাতীয় দলের জন্য বড়সড় ফিটনেস পরীক্ষা আয়োজন করা হয়েছিল। দেশের প্রায় সব তারকা ক্রিকেটারই সেখানে হাজির হন। উপস্থিত ছিলেন রোহিত শর্মা (Rohit Sharma), মহম্মদ সিরাজ (Mohammed Siraj), শুভমন গিল (Shubman Gill), জিতেশ শর্মা (Jitesh Sharma), প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ (Prasidh Krishna), রিঙ্কু সিংহ (Rinku Singh), আবেশ খান (Avesh Khan), অক্ষর পটেল (Axar Patel), সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav), সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson), মহম্মদ শামি (Mohammed Shami), হার্দিক পাণ্ড্য (Hardik Pandya), অর্শদীপ সিংহ (Arshdeep Singh), কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav) সহ আরও অনেকে। কিন্তু কোহলি ছিলেন লন্ডনে, তবুও তিনি আলাদা অনুমতিতে দূর থেকেই সেই পরীক্ষায় অংশ নেন। একটি জাতীয় দৈনিক-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোহলি আগে থেকেই বোর্ডকে জানিয়েছেন যে তিনি লন্ডনে থাকবেন। ফলে তিনি চেয়েছিলেন অনলাইনে ফিটনেস পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি। বোর্ড সেই প্রস্তাবে রাজিও হয়। বেঙ্গালুরুর কোচদের পর্যবেক্ষণে তাঁর টেস্ট হয় ও ফলাফলও ইতিবাচক আসে। এখানেই মূল বিতর্কের সূত্রপাত। অনেকের মতে, অনলাইনে বসে কীভাবে প্রকৃত ফিটনেস বোঝা সম্ভব? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রাক্তন ক্রিকেটার সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, “বিরাট নিঃসন্দেহে দেশের সবচেয়ে ফিট ক্রিকেটারদের একজন। তাঁর ফিটনেস নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে না। কিন্তু যখন জাতীয় স্তরের নিয়ম তৈরি হচ্ছে, তখন সবার জন্য সেটি সমান হওয়া উচিত। একজনকে ছাড় দিলে বাকিদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।”

প্রশ্ন উঠছে বোর্ডের নীতি নিয়েও। কেন কোহলিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হল, অথচ অন্য কেউ সেই সুযোগ পেলেন না? এর পিছনে কি বোর্ডের ভাবমূর্তি রক্ষা, নাকি কোহলির প্রতি বিশেষ আস্থা, তা নিয়েই জল্পনা চলছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা যদি বারবার ঘটে তবে দলে সমতা এবং ন্যায্যতার প্রশ্নে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে।
কিন্তু, বোর্ডের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, এখানে কোনও পক্ষপাত নেই। তারা জানাচ্ছেন, “বিরাট কোহলি আগেই আমাদের জানিয়েছিলেন। সময়ের অসুবিধার কারণে তিনি দেশে আসতে পারছিলেন না। যেহেতু তিনি নিয়মিত ফিটনেস বজায় রাখেন ও ফিটনেস ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে আদর্শ, তাই বোর্ড ব্যতিক্রমী অনুমতি দিয়েছে।” অন্যদিকে, সাধারণ সমর্থক মহলে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই বলছেন, বিরাটের মতো ফিটনেস আইকনকে এমন প্রশ্নবিদ্ধ পরিস্থিতিতে আনা উচিত হয়নি। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, নিয়ম সবার জন্য এক হওয়াই শ্রেয়।
কোহলি বরাবরই ফিটনেস সংস্কৃতির অন্যতম পথপ্রদর্শক। ভারতীয় দলে তাঁর প্রভাবেই ইয়ো-ইয়ো টেস্ট এবং অন্যান্য মানদণ্ডকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এমনকি তিনি নিজে প্রকাশ্যে বলেছেন, “ফিটনেস ছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকা অসম্ভব।” তাই তাঁকে নিয়েই যদি বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করবেই। ক্রিকেটমহলের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে অন্য ক্রিকেটাররাও একই ধরনের ছাড় চাইতে পারেন। যদি বোর্ড তখন কড়া অবস্থান নেয়, তাহলে তা নিয়ে আরও বড় বিতর্ক তৈরি হবে। ফলে বোর্ডের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে সিনিয়র ক্রিকেটারের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো, অন্যদিকে দলের মধ্যে সমতা বজায় রাখা। তবে, বিরাট কোহলি ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, এটা কোনও নতুন খবর নয়। কিন্তু পদ্ধতিগত প্রশ্ন এবং বিশেষ সুবিধার বিতর্ক এখনই থামছে না। সামনে অস্ট্রেলিয়া সফর এবং বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্ট। তার আগে দলের ভেতরে ঐক্য এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা বোর্ডের প্রধান দায়িত্ব। তাই কোহলির এই ঘটনা সাময়িক হলেও বোর্ডকে আরও স্বচ্ছ নীতি নিতে বাধ্য করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Virat Kohli Test Retirement | বিরাট কোহলির অবসর নিয়ে মন্তব্য




